0 votes
28 views
in Zakat & Charity by
আসসালামু আলাইকুম, শাইখ। এখনকার আলেমরা বলে থাকেন যে, জমাকৃত টাকার যাকাত রূপার নিসাবে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ৪০/৫০ হাজার টাকাতেই যাকাত আসে, যেখানে স্বর্ণের হিসাবে নিসাব ধরলে ৪/৫ লাখ টাকায় যাকাত আসে। এখন কেউ কি ইচ্ছা করলে স্বর্ণের নিসাব ধরতে পারবেন? আবার, কোন গরীব বা মিসকিন পরিবার যাদের নিজেদেরই কষ্ট করে চলতে হয়, তারা কি স্বর্ণের নিসাব ধরে হিসেব করতে পারবে?

1 Answer

0 votes
by (22.6k points)

বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

রুপার মূল্যকে যাকাতের মানডন্ড ঘোষণা করার ধরুণ যদিও আজকাল অনেক হাজতমন্দের উপর যাকাত ওয়াজিব হয়ে যায়,এবং অনেক হাজতমন্দকে যাকাত দেয়া যায় না,তথাপিও এই রূপ্য মূল্যকে সাধারণ মালের যাকাতের নেসাবের জন্য মানডন্ড হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এবং এর উপরই ফাতাওয়া হয়েছে।এজন্য উলামায়ে কেরাম হিলা বা কৌশলগত ভাবে বলেন যে,যদি কেউ এই পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকে, এবং তার স্ত্রী বা বালেগ সন্তানের এই পরিমাণ সম্পদ না থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী বা বালেগ সন্তানাদিদের জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ হবে।

কিতাবুল ফাতাওয়া-৩/২৭৬

যেহেতু রুপ্য মূল্যকে মানডন্ড হিসেবে মুতাঅাখি্খরিন উলামায়ে কেরামগণ ফাতাওয়া দিয়ে গেছেন।তাই এক্ষেত্রে স্বর্ণকে মানডন্ড করা যাবে না।কেননা ইসলাম সর্বদা এটাই চায় যে কারো কাছে যেন অলস টাকা না থাকে,বরং এই সামান্য টাকাকে পুঁজি করে সে যেন তার জীবিকা উপার্জনের পথ খুজে নেয়।এ বিষয়টা বোধগম্য করার লক্ষ্যেই উলামায়ে কেরামগণ অল্পমূল্যের নেসাব তথা রূপাকে মানডন্ড ঘোষণা করে যাকাত ওয়াজিব করেছেন।

[এ বিষয়টাকে ইমাম আবু হানিফা রাহ এর প্রসিদ্ধ উক্তি  "লাঙল যার জমি তার" এর মতই।অর্থাৎ  ইমাম আবু হানিফা বর্গাচাষ পদ্ধতিকে সমর্থন দিতেন না,কেননা এক্ষেত্রে মানুষ কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করে বর্গাচাষের নির্ধারিত হিস্সার উপর নির্ভর করে বসবে ।যদিও মানুষের প্রয়োজনের বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তীতে  সাহেবাইনের মতামতের উপর ফাতাওয়া দেয়া হয়েছে।]

যেহেতু রূপার নেসাব পরিমাণ মালের মালিকের উপর যাকাত আসবেই।সেজন্য ফুকাহায়ে কেরামগণ এ ব্যক্তির ব্যাপরে পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে,সে যেন তার নিকটাত্মীয়(স্বামী-স্ত্রী এবং পিতা-সন্তান সম্পর্কীয় ব্যতীত) কাউকে দিয়ে দেয় যাদের কে তার প্রায় দেখভাল করতে হয়।

অাল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

503 questions

498 answers

69 comments

329 users

19 Online Users
2 Member 17 Guest
Online Members
Today Visits : 2737
Yesterday Visits : 6132
Total Visits : 911908

Related questions

...