0 votes
67 views
in Death & Funeral by (18 points)
কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়ম কী? কবর জিয়ারতের সময় কী কী দু'আ, সূরা ও যিকির পড়া যেতে পারে? এটার কী ক্রম আছে? কোনটার পর কোনটা পড়তে হবে? কবর জিয়ারতের সময় কী পশ্চিম দিকে (কিবলামুখী) মুখ ফিরিয়ে দাড়ানোর কোন প্রয়োজন আছে? কোন শিশু বাচ্চার কবর জিয়ারতের নিয়ম কী? তারা তো মাসুম, কোন গুণাহ নাই। যদি তাদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়া হয় তাহলে কী ধরণের দু'আ করা যেতে পারে। তাদের তো গুণাহ নেই। আর, বাড়িতে বসে / মসজিদে বসে কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কী কী পড়া যেতর পারে? জিয়ারতের জন্য সূরা, যিকির পড়া শেষে কী হাত তুলে দু'আ না করলেও চলবে?

1 Answer

0 votes
by (9.5k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ার "যিয়ারতে ক্বুবুর" অধ্যায়ের কিছু আরবী ইবারত নিম্নে উল্লেখ করছি------

আশাকরি এই আলোচনা থেকে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত উত্তর পেয়ে যাবেন।

وَإِذَا أَرَادَ زِيَارَةَ الْقُبُورِ يُسْتَحَبُّ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ فِي بَيْتِهِ رَكْعَتَيْنِ يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ الْفَاتِحَةَ وَآيَةَ الْكُرْسِيِّ مَرَّةً وَاحِدَةً وَالْإِخْلَاصَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَيَجْعَلُ ثَوَابَهَا لِلْمَيِّتِ يَبْعَثُ اللَّهُ تَعَالَى إلَى الْمَيِّتِ فِي قَبْرِهِ نُورًا وَيَكْتُبُ لِلْمُصَلِّي ثَوَابًا كَثِيرًا ثُمَّ لَا يَشْتَغِلُ بِمَا لَا يَعْنِيهِ فِي الطَّرِيقِ فَإِذَا بَلَغَ الْمَقْبَرَةَ يَخْلَعُ نَعْلَيْهِ ثُمَّ يَقِفُ مُسْتَدْبِرَ الْقِبْلَةِ مُسْتَقْبِلًا لِوَجْهِ الْمَيِّتِ وَيَقُولُ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ وَيَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ لَنَا سَلَفٌ وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ كَذَا فِي الْغَرَائِبِ.

وَإِذَا أَرَادَ الدُّعَاءَ يَقُومُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ كَذَا فِي خِزَانَةِ الْفَتَاوَى.

وَإِنْ كَانَ شَهِيدًا يَقُولُ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ.

যখন কেউ কবর যিয়ারতের নিয়ত করবে,তখন তার জন্য মুস্তাহাব হল,সে যেন ঘরে দুই রা'কাত নামায পড়ে,এবং প্রত্যেক রা'কাতে যেন সে সূরা ফাতেহা ও একবার আয়াতুল কুরসি,এবং তিনবার সুরা ইখলাছ পড়ে।এবং এর সওয়াব যেন সে মৃত ব্যক্তির জন্য প্রেরণ করে দেয়।আল্লাহ তা'আলা উক্ত তিলাওয়াতের সওয়াবকে উক্ত ব্যক্তির কবরে নুর হিসেবে পাঠিয়ে দেবেন।

এবং মুসাল্লি র জন্যও আল্লাহ অনেক সওয়াব লিখে রাখবেন।

অতঃপর উক্ত মুসল্লি কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তায় যেন কোনো অনর্থক কাজে মশগুল না হয়।

যখন সে কবরস্থানে পৌছবে তখন পায়ের জুতা খুলে ফেলবে।অতঃপর সে কিবলার দিকে পিঠ ফিরিয়ে এবং মৃতব্যক্তির দিকে আপন চেহারাকে নিবিষ্ট করে দাড়াবে।এবং বলবে......

"আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ওয়া ইয়াগফিরাল্লাহু লানা ওয়া লাকুম,আনতুম লানা সালাফুন ওয়া নাহনু বিল আসারি "(গারাঈব)

(অন্যন্য কিভাবে এভাবে বর্ণিত রয়েছে,

আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল মিনাল মুসলিমী-না ওয়াল মুসলিমা-ত,আনতুম লানা সালাফুন ওয়া নাহনু লাকুক তাবায়ুন ওয়া ইন্না ইনশা আল্লাহু বিকুম লাহিকুন"

এবং যখন দু'আর সময় হবে তখন কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে দাড়াবে।(খাযানাতুল ফাতাওয়া)

কবরের শায়িত ব্যক্তি শহীদ হলে বলবে,

' সালামুন আলাইকুম বিমা সাবারতুম ফানি'মা উক্ববাদ্দার '

ثُمَّ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفَاتِحَةِ وَآيَةَ الْكُرْسِيِّ ثُمَّ يَقْرَأُ سُورَةَ {إِذَا زُلْزِلَتِ} [الزلزلة: ١] وَأَلْهَاكُمْ التَّكَاثُرُ كَذَا فِي الْغَرَائِبِ.

অতঃপর সূরায়ে ফাতেহা এবং আয়াতে কুরসি পড়বে।এবং সূরায়ে যিলযাল ও সূরায়ে তাকাছুর পড়বে।(গারাঈব)

وَحُكِيَ عَنْ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْجَلِيلِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - أَنَّ قِرَاءَةَ الْقُرْآنِ فِي الْمَقَابِرِ إذَا أَخْفَى وَلَمْ يَجْهَرْ لَا تُكْرَهُ وَلَا بَأْسَ بِهَا إنَّمَا يُكْرَهُ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ فِي الْمَقْبَرَةِ جَهْرًا أَمَّا الْمُخَافَتَةُ فَلَا بَأْسَ بِهَا وَإِنْ خَتَمَ، وَكَانَ الصَّدْرُ أَبُو إِسْحَاقَ الْحَافِظُ يَحْكِي عَنْ أُسْتَاذِهِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إبْرَاهِيمَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - لَا بَأْسَ أَنْ يَقْرَأَ عَلَى الْمَقَابِرِ سُورَةَ الْمُلْكِ سَوَاءٌ أَخْفَى أَوْ جَهَرَ وَأَمَّا غَيْرُهَا فَإِنَّهُ لَا يَقْرَأُ فِي الْمَقَابِرِ وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ الْجَهْرِ وَالْخُفْيَةِ كَذَا فِي الذَّخِيرَةِ فِي فَصْلِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ

আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ফযল রাহ, থেকে বর্ণিত,তিনি মনে করেন,কবরস্থানে নিম্নস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করতে কোনো সমস্যা নেই এমনকি সারা কুরআনও তেলাওয়াত করা যাবে।তবে উচ্ছস্বরে মাকরুহ।

এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম রাহ, থেকে বর্ণিত,তিনি মনে করেন,

উচ্ছস্বরে হোক বা নিম্নস্বরে সকল পদ্ধতিতে সূরা মূলক কবরস্থানে তেলাওয়াত করা যাবে।এতে  কোনো অসুবিধা নেই।

আর সূরা মূলক ব্যতীত বাদবাকি কুরআন কবরস্থানে তেলাওয়াত না করাই ভালো।এক্ষেত্রে তিনি উচ্ছস্বর-নিম্নস্বর এর কোনো পার্থক্য করেন না। (যাখিরাহ)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩৫০

যিয়ারতের বেলায় ছোটবড়র কোনো বেদাবেদ নেই।

সবাই একি নিয়মে যিয়ারত করবে।

দু'আর মুস্তাহাব হল,দু হাত তুলে দু'আ করা এবং দু'আ শেষে চেহারায় হাতদ্বয় কে বুলিয়ে দেয়া তথা চেহারায় হাত মুছা।

বিঃদ্রঃ

যিয়ারত অর্থ সাক্ষাৎ, কবর যিয়রত অর্থ কবরে শায়িত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ।

সুতরাং তা বাড়িতে বা মসজিদে বসে হবে কিভাবে।

হ্যা বাড়িতে বা মসজিদে বসে বিভিন্ন দু'আ-দুরুদ পড়ে ঈসালে সওয়াব(সওয়াব পৌছিয়ে দেয়া) করা যাবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...