আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
67 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (61 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায। আমার আম্মার প্রায় ৩০০ রোজা মত কাযা। ওনি রোজা রাখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এত গুরুত্বের সাথে রাখছেন না। বা রাখলেও ২/১ টা করে এমন। আল্লাহ পাক সহজ করুন।

১) ওনার এই কাযা রোজার কাফফারা কিভাবে আদায় করতে হবে?

২) ওনার তরফ থেকে ওনার সন্তান যদি কাফফারা আদায় করে দেয় সেটা কি গ্রহনযোগ্য হবে ইনশাআল্লাহ?

৩) ওনাকেও রোজা আদায় করতে বলা হবে ইনশাআল্লাহ। আমি শুধুমাত্র কাফফারা কত কিভাবে দিতে হবে সেটা জানতে চাচ্ছি। ওনাকে না জানিয়ে কাফফারা আদায় করলে কি গ্রহনযোগ্য হবে ইনশাআল্লাহ?

৪) একজন যাকাতের হকদার আছেন। ওনাকে যদি কাফফারার সম্পূর্ন টাকা রোজার কাফফারা আদায় করার নিয়তে দেয়া হয় ইনশাআল্লাহ তাহলে কি কাফফারা আদায় হবে?

৭) কাফফারার টাকা সেটা যদি ওনাকে না জানানো হয় তাহলে হবে?

৮) আনুমানিক কত টাকার মত কাফফারা আদায় করতে হবে ইনশাআল্লাহ জানানোর অনুরোধ উস্তায। জাযাকাল্লাহ খাইরন ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ উস্তায।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ফিদয়া
যদি কোনো শরয়ী উজরে কারো ফরয রোযা ক্বাযা হয়ে যায়,তাহলে তার হুকুম হল, সে পরবর্তীতে তার ক্বাযা আদায় করে নেবে।

ক্বাযার পূর্বেই যদি সে মারা যায়,অথবা যদি বার্ধক্যর দরুণ রোযা রাখা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়ায়,
তাহলে এক্ষেত্রে বিধান হল সে রোযার পরিবর্তে ফিদয়া আদায় করবে।

যেমন অাল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﺃَﻳَّﺎﻣًﺎ ﻣَّﻌْﺪُﻭﺩَﺍﺕٍ ۚ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻨﻜُﻢ ﻣَّﺮِﻳﻀًﺎ ﺃَﻭْ ﻋَﻠَﻰٰ ﺳَﻔَﺮٍ ﻓَﻌِﺪَّﺓٌ ﻣِّﻦْ ﺃَﻳَّﺎﻡٍ ﺃُﺧَﺮَ ۚ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻄِﻴﻘُﻮﻧَﻪُ ﻓِﺪْﻳَﺔٌ ﻃَﻌَﺎﻡُ ﻣِﺴْﻜِﻴﻦٍ ۖ ﻓَﻤَﻦ ﺗَﻄَﻮَّﻉَ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَّﻪُ ۚ ﻭَﺃَﻥ ﺗَﺼُﻮﻣُﻮﺍ ﺧَﻴْﺮٌ ﻟَّﻜُﻢْ ۖ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ]] ٢: ١٨٤ ]
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা বাকারা-১৮৩-১৮৪]

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
রোযার ফিদয়া তখনই দেয়া জায়েয হবে যখন কোন মানুষ রোযা রাখতে অক্ষম হবে।
(১) যেহেতু আপনার আম্মু রোযা রাখতে সক্ষম, তাই তিনি আমৃত্যু রোযা রাখার চেষ্টা করবেন। রোযা রাখতে যখন অপারগ হবেন, তখন তিনি বা তার পক্ষ থেকে আপনারা ফিদয়া আদায় করে দিবেন। 

(২) উনার তরফ থেকে উনার সন্তান যদি ফিদয়া আদায় করে, তাহলে সেটাও গ্রহনযোগ্য হবে।

(৩) উনি যদি রোযা রেখে ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে কা'যা কাফফারা উভয়ই আসবে। নতুবা শুধুমাত্র কাযা/ফিদয়া আসবে কাফফারা আসবে না। কাফফারা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/102

(৪) যাকাতের হকদার কাউকে কাফফারার সম্পূর্ন টাকা রোজার কাফফারা আদায় করার নিয়তে দেয়া হলে, কাফফারা আদায় হবে।

(৭) কাফফারার টাকা সেটা যদি ওনাকে না জানানো হয় তাহলেও  হবে নেই, আদায় হবে।

(৮) রোযার ফিদয়া একটি ফিতরা সমপরিমাণ টাকা। তথা ১কেজি ৬৫০ গ্রাম আটার মূল্য। এবং একটি রোযার কাফফারা হল, ৫০ টি ফিতরা সমপরিমাণ টাকা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...