আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ উস্তায
১)আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন দুইজনেই হাফেজ। কিন্তু তাদের করো পড়ার মান ভালো না এবং অনেক ভুল হয়।অর্থাৎ লোকমা যায়।এলাকার মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত করেছিল একজন। তার ছেলেও হাফেজ। তার পড়াও সেরকম মানের নয়। তিনি চান তার ছেলেও তারাবি পড়াক।মুসল্লিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইন্টারভিউ নেয়া হয় কিন্তু এর আগে দুইবার ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছে তার ছেলে পরীক্ষা দেয়নি । ইন্টারভিউতে আমার ছেলে ১ম স্থান ওঅন্য একজন ২য় স্থান পেয়ে তারাবির জন্য মনোনীত হয় এবং তারাবি পড়ায়। এ বছর আমার হাজব্যান্ড এই মসজিদের সভাপতি দায়িত্ব পান। তিনি চান এলাকার সবার মধ্যে যেন সুসম্পর্ক বজায় থাকে।তাই এ বছর ৫ জনই তারাবি পড়াক।কিন্তু আমার ছেলে বলছে আমি এত কষ্ট করে চান্স পেয়েছি।অন্য মসজিদে চান্স পেয়ে সেখানে যাইনি। তাদের পড়ার মানও ভালো নয়।এতজন মিলে তারাবি পড়াবোনা।ছোট মানুষ হাদিয়ার কথাটাও হয়তো চিন্তা করছে। এই সামগ্রিক বিষয়টা নিয়ে এখন আমার কিরকম চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত? আমার স্বামীর মত উদার দৃষ্টিভঙ্গি আনা উচিত? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মন থেকে এ বিষয়টাকে গ্রহন করা উচিত?ছেলেটাকে কিভাবে বুঝাবো?বা এবিষয় নিজেকে কিভাবে বুঝ দিব? ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর দেবেন ইনশাল্লাহ।
- উপরের প্রশ্নটি এক দ্বীনিবোনের।
২) যদি কোন মেয়ের বিয়ের সবঠিক করে রাখা হয় এবং প্রায় এক বছর এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয় , আর পাত্র দেশের বাহিরে থাকে । আর পাত্রের পরিবারের কেউ বা গোপন শত্রু কেউ পাত্র কে দেশে না আসার জন্য যাদু ইত্যাদি করে রাখছে কি না এ বিষয়ের উপর সন্দেহ করে ; পাত্রী নিজে যদি রুকাইয়াহ করে,পাত্রের নিয়তে তাহলে কি এই রুকাইয়াহ করা জায়েজ হবে?
উল্লেখ্য,এই রুকাইয়াহ করার জন্য পাত্রের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করার কোন প্রয়োজন পড়ে না। পাত্রী নিজে পাত্রের নিয়তে কুরআন তেলাওয়াত করবে +পানিতে ফু দিয়ে এই পানি খাবে এবং গোসল করবে।
৩)আমরা বাবা চাচারা আলাদা বাড়িতে থাকি কিন্তু চাচাদের বাসা খুব কাছাকাছি , আমাদের বাসায় তারা আসা যাওয়া করেন , আমরা ও যাতায়াত করি মাঝেমধ্যে । চাচাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক উপরে ভালো হলে ও ভিতরে ভালো নেই। এমন অবস্থায় আমাদের পরিবারে দুইজন সদস্যের সংসার ভেঙে যায় প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে । এই তালাকের পর বিভিন্ন আচার ব্যবহারে আমরা বুঝতে পেরেছি দুই দুইজনের সংসার ভেঙে যাওয়ার পেছনে আত্মীয়দের হাত আছে। তবে আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। এই বিষয়ে আগে আরেকটি প্রশ্ন করেছিলাম সেখানে বলা হয়েছে আত্মীয় বাসায় আসলে তাদের সাথে ভালো আচরন করতেই হবে। দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক করা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ, এ বিষয়ে ও আমাদের এই চাচাদের পরিবার বিভিন্ন আঙ্গিকে শত্রুতা পোষন করছে । এই জন্য আমরা চাইছিলাম আমরা বর্তমানে যেখানে থাকি, সেখান থেকে বাইরে কোথাও বাসা ভাড়া দিয়ে এখান থেকে চলে যাবো।
অন্যদিকে আল্লাহ পাকের বিশেষ অনুগ্রহে অনাত্মীয় প্রতিবেশী একচাচি আমার কাছে কুরআন তেলাওয়াত সহীহ করনের উদ্দেশ্যে পড়তে আসেন, ঐ চাচির সুবাধে আমার আম্মা ও আমার কাছে কুরআন সহীহ করনের উদ্দেশ্যে আমার কাছে বসেন আলহামদুলিল্লাহ । আমাদের পরিবার টা আমি আর একভাই বাদে বাকি সব বিদাতি আকিদার। কুরআন তেলাওয়াত সহীহ করতে আম্মা চাচি বসলে আমি শেষের দিকে রিয়াদুস সালিহীন বইটা তালিম করি। ফরজে আইন সম্পর্কে জ্ঞান শিখানোর ইচ্ছা আছে। খুব প্রয়োজন ও। আবার আরেকটা ছোট মেয়ে আরবি পড়ার উদ্দেশ্যে পড়তে আসে আলহামদুলিল্লাহ । আরো একজন আমার কাছে পড়তে আসবে ,তার মা বলছে আল্লাহ চাহেন তো।
এখন প্রশ্ন হলো আমরা যদি বর্তমানের স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও চলেযাই তাহলে তো এতজন মানুষ দ্বীন শেখা থেকে বিরত হবে । তাদের শিখার আগ্রহ অনেক। আর আমরা নিজেদের শত্রুর গোপন আক্রমণ কালো যাদু,ভান মারা , ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য অন্যত্র চলে গেলাম। এটা কি জায়েজ হবে?
৪) আমার আম্মা মান্নত করেছেন, ভাইয়ের চাকরি হওয়ার জন্যে আল্লাহর একটি নাম পড়ার মান্নত করেছেন । ভাইয়ের সকল যোগ্যতা থাকার পরে ও চাকরি না পাওয়ার কারনে।
"ইয়া সালামু " ৫০০০ বা কমবেশি নির্ধারন করে , এটা কি জায়েজ হবে?
এতো দীর্ঘ প্রশ্নের জন্য মাফ করবেন উস্তাদজি ।