السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
প্রশ্ন লম্বা হওয়ার জন্য খুবই দুঃখিত উস্তাদ।
بسم الله الرحمن الرحيم
আমার এইচএসসি পরীক্ষার কিছুদিন পরই বিয়ে হয়েছে,২০২২ সালে।তখন আমার হাজব্যান্ড ময়মনসিংহ মেডিকেলে ইন্টার্ণ করছেন। ২০২৩ এ আমি বুয়েটে আর্কিটেকচারে ভর্তি হই,তখন আমার হাজব্যান্ড ঢাকায় বাসা নেন যাতে আমার ঢাকায় একা আসা যাওয়া করতে বা একা থাকতে না হয় ,আর বিকন ফার্মা তে চাকরি নেন যেটার স্টার্টিং বেতন খুব কম ছিল।
ঢাকায় বাসা নেয়ার সময় আমার শ্বশুড় বাড়ি থেকে কিছুটা আশা দেখানো হয় যে আমাদের মাসে মাসে কিছু খরচ পাঠাবেন,কারণ যে টাকা বেতন ছিল সেটা দিয়ে ঢাকায় দুজন চলা খুবই কঠিন ছিল।আমার বাবার বাসা থেকেও আমার পড়ার খরচ দেয়ার কথা বলে,আর দেয় ও।কিন্তু পরে আমার শ্বশুড় বাড়ি থেকে মাসে ৫০০-১০০০ এর বেশি কিছু দিতে তারা রাজি হননি আলহামদুলিল্লাহ 'আলা কুল্লি হাল।তখন বাসা ভাড়া,আমার পড়ার খরচ সব মিলিয়ে অনেক খরচ।আর্কিটেকচার অনেক এক্সপেন্সিভ সাবজেক্ট, প্রজেক্টের জিনিসের পেছনে অনেক টাকা লাগতো।মাসে আমার পেছনেই রিকশা ভাড়া,হলে খাওয়া, সব মিলিয়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা চলে যেত।যেখানে আমার হাজব্যান্ডের বেতনই ছিল ৩৫ হাজার এর কিছু বেশি। বাসা ভাড়া,গ্যাস কারেন্ট মিলিয়ে খরচ ২০হাজার পড়তো।যাই হোক,এভাবে আমাদের চলা খুব কঠিন ছিল,আর আমাদের তখন দ্বীনের বুঝ একদমই কম ছিল বা ছিলই না।আমার হাজব্যান্ড তখন তার অফিসের সিনিয়র এক ভাইয়ের কথায় ক্রেডিট কার্ড নেন। তখন উনি বা আমরা কেউই এটা যে জায়েজ না সেটা জানতাম না,আর এটা যে আসলে একটা ট্র্যাপ সেটাও বুঝিনি। পরে ক্রেডিট কার্ডের বিল জমে জমে ঋণ হতে থাকে। ক্রেডিট কার্ডের বিল একটা নির্দিষ্ট সময়ে দিতে না পারলে একটা চার্জ ধরে তারা যেটা অনেক হাই ইন্টারেস্টে ।এটা সুদের মধ্যে পড়ে। ওই সিনিয়র ভাইয়ের কথায় উনি কিছু ব্যবসাতেও ইনভেস্ট করেন,কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।উল্টো ঋণ বাড়ে। ওই ভাইয়ের বেতন অনেক বেশি,সেভিংস আছে তাই উনার কিছু যায় আসেনি।ঋণে পড়ে যাই আমরা।দুই বছর+ আমরা ঢাকায় ছিলাম।২০২৫ এর মার্চে আমি সহশিক্ষা ছেড়ে দেই।যেহেতু ঢাকায় আমরা চলতে পারছিলাম না।আর আমার পড়ার জন্যই মেইনলি ঢাকায় যাওয়া,তাই আমরা বাসা ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসি আমাদের নিজ জেলায়।এখানে এসে আমার হাজব্যান্ড প্রথমে কোথাও চাকরি পাচ্ছিলেন না,তখন হাতে হাতে আরো কিছু ঋণ হয় কয়েক মাসে।আমি সেসময় জানতাম ক্রেডিট কার্ডে আমাদের ১.৫ লাখ টাকার মতো ঋণ ছিল,তার মধ্যে আমার আব্বুর কাছ থেকে ৫০ হাজার,আর আমার শ্বশুড় বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে শোধ করা হয় বিল।এই জুলাই মাসে আমি কনসিভ করি আলহামদুলিল্লাহ।এর মাঝে আমি জানতে পারি আমাদের আরো ঋণ রয়ে গেছে। আরো প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো।আমি টেনশন করবো দেখে আমার হাজব্যান্ড আমাকে জানান নি।পরে একা প্রেশার নিতে না পেরে আমাকে জানান।
এখন উনি কয়েকটা হসপিটালে দিনরাত ডিউটি করছেন। মাস শেষে ৩০-৩৫ হাজার টাকার মতো আসে আলহামদুলিল্লাহ।ব্যাংকে প্রতিমাসে মাসে কিছু কিছু করে টাকা দেয়া হয় কিন্তু ওরা যে চার্জ এড করে সেটা দিয়ে আবার বিল বেড়ে যায়।আমার এখন ৮ মাসে পড়বে। কমপ্লিক্যাটেড প্রেগনেন্সি।Morbidly Adherent Placenta ধরা পড়েছে,এটার জন্য নরমাল ডেলিভারি সম্ভব না। সি সেকশনই করতে হবে।আমরা এখন পর্যন্ত সি সেকশনের জন্য যর টাকা লাগে তার অর্ধেক জমাতে পেরেছি।আমার অধিকারে কোনো জুয়েলারি নেই,একটা চেইন ছিল যেটা ঢাকায় থাকতে বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আব্বু আম্মু এটা জানার পর তারা আমার জন্য যে গয়না বানিয়েছে তা আর আমাকে দেননি।চাইলে দিতে রাজি হন না,ভাবেন যে সব বিক্রি করে দিবো হয়তো।আর শ্বশুড় বাড়ি থেকেও কিছু দেননি,আর টাকা দিতেও রাজি না। আমার হাজব্যান্ড এর অধিকারে কোনো সম্পত্তি নেই।আমার হাজব্যান্ড এর কোনো পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে ঢোকার জন্য বা বিসিএস দেয়ার জন্য ৬ মাসের বেশি সময় পড়াশোনার জন্য দরকার ।তখন উনার পক্ষে কোনো ডিউটি করা সম্ভব হবেনা,তখন আয় একদম বন্ধ হয়ে যাবে।এদিকে বাবু ও আসবে ইন শা আল্লহ।এখন আমি জানতে চাই,আমাদের হালত অনুযায়ী আমরা কি যাকাতের হক্বদার কিনা সেটা জানতে চাচ্ছিলাম।যেহেতু উনি ডাক্তার,আমাদের বাসার অবস্থা নিম্ন মধ্যবিত্ত না,এর জন্য মানুষ ভাবে আমরা স্বচ্ছল ।কিন্তু হালত তো সবই বললাম।এখন আমাদের আসলে কি করা উচিত?
আমি চার -পাঁচ মাস ধরে অনেক দু'আ করছি আল্লহর কাছে যেন তিনি একটা ব্যবস্থা করে দেন ঋণমুক্ত হওয়ার,তাহাজ্জুদে কেঁদেছি।দু'আ কবুলের উত্তম মূহুর্তে দু'আ করছি। এখন বারবার আমার কাছে কেন যেন যাকাতের বিষয়টাই মাথায় এসেছে,কারণ আমি দেখেছি আল্লহর ইচ্ছায় আমার আব্বু যাকাত দিয়ে অনেক মানুষকে ঋণমুক্ত করেছেন আলহামদুলিল্লাহ।আমার আব্বুর কাছ থেকে যাকাত নেয়া সম্ভব না,এতে আমার হাজব্যান্ড এর আত্মসম্মানে আঘাত আসতে পারে,যেহেতু আমার ভাই-বোনেরা প্র্যাক্টিসিং না।ওরা কথায় কথায় যদি কখনো বলে ফেলে সামনে তাই। কী করা উচিৎ উস্তাদ?