আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
29 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আস-সালা মুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ।

১) আমি বিকেলে একটি কোচিংয়ে পড়ি। কোচিং চলাকালীনই আসরের আজান হয়ে যায়। সেখানে নামাজ পড়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসায় জানিয়েছি, কিন্তু বাসা থেকেও ছাড়তে দিচ্ছে না। কারণ কোচিং স্যার কম টাকায় গ্রুপ সাবজেক্ট গুলো সব পড়ান।স্যারকে জানালে তিনি তাঁর ফোনের অ্যাপে শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী সময় দেখিয়ে বলেন, কোচিংয়ে আসার আগেই আসরের ওয়াক্ত হয়ে যায়, তখন নামাজ পড়ে আসতে।আমার মাযহাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলেও হানাফি মাযহাবের অনেক বিষয় আমার ভালো লাগে, তাই বেশিরভাগ আমল হানাফি অনুযায়ী করার চেষ্টা করি। হানাফি মাযহাবের মতে আসরের ওয়াক্ত একটু দেরিতে হয়। কিন্তু তখন কোচিংয়ে যেতে হয় বলে নামাজ পড়া সম্ভব হয় না।

এখন প্রশ্ন হলো আমি কি শাফেয় মাযহাবের সময় অনুযায়ী আসরের নামাজ পড়তে পারব?

২) আমার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যোহরের ওয়াক্ত শুরুর আগে পরীক্ষায় চলে যেতে হতো।আর এসে নামাজ পড়তে পড়তে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সময় থাকতে। কিন্তু শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী সময় শেষ হয়ে যেত। তো নামাজ আদায় করার পর কোচিংয়ের সময় হয়ে যেত। তাই শাফেয়ী মাযহাবের সময়ে আসরের নামাজ পড়ে কোচিংয়ে চলে যেতাম। এরকম ভাবে পড়লে নামাজ হবে??

৩) আমার স্রাবের সমস্যা আছে। তাই প্রতিবার নামাজের আগে অজু করতে হয়। আগে আমি যে কোচিংয়ে পড়তাম, সেখানে  কোনোমতে অজু করে নামাজ পড়তে পারতাম।কিন্তু ওই সময় আমার সন্দেহ হতো যে স্রাব বের হয়েছে এবং জায়গাটা ধোয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেটা করা সম্ভব হতো না। তাই ওই অবস্থাতেই অজু করে নামাজ পড়ে নিতাম। ওই নামাজ গুলো কি হয়েছে??

৪)ফজরের ওয়াক্ত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই কোনোভাবে অজু করে নামাজ পড়ার সময় শীতে আমার শরীর কাঁপছিল। এতে কি আমার নামাজ মাকরুহ হয়ে যাবে? শীতের পোশাক পড়তে গেলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

1 Answer

0 votes
by (720,780 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/3915/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
যেহেতু এ বিষয়ে আমাদের ইমামদের মাঝেই মতভেদ হয়ে গেছে। তাই ফক্বীহগণ বলেন, উত্তম ও সতর্কতা এটাই যে, বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার আগে আসরের নামায পড়বে না। তবে যদি কেউ পড়ে নেয়, তাহলে মতভেদ থাকার কারণে নামাযকে বাতিল বলা যাবে না। বরং সহীহ হয়ে গেছে বলেই ধতব্য হবে। 

তাই ফিতনার আশংকা না হলে আলাদা পড়া উত্তম। তবে ফিতনার শংকা হলে এক সাথে পড়া যাবে।

হাদীস শরীফে এসেছে   
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَنَا أُخْبِرُكَ، صَلِّ الظُّهْرَ، إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ.وَالْعَصْرَ، إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ বলেন, আমি তোমাদের জানাচ্ছি যে, যখন তোমার ছায়া তোমার সমান হয়, তখন যোহরের নামায পড়, আর যখন তা দ্বিগুণ হয়, তখন আসরের নামায পড়। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১২, ৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-২০৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২১৭৩৪}
,

قال المشائخ: ينبغى أن لا يصلى العصر حتى يبلغ المثلين، ولا يؤخر الظهر إلى أن يبلغ المثل ليخرج من الخلاف فيها، (الحلبى الكبير، كتاب الصلاة، بحث فروع فى شرح الطحاوى-227، رد المحتار، كتاب الصلاة-1/359، البحر الرائق، كتاب الصلاة-1/425-426، حاشية الطحطاوى على الدر المختار، كتاب الصلاة-1/173) 
যার সারমর্ম হলো ২ মিছিল হওয়ার পর আছরের নামাজ পড়বে,এক মিছিল পর্যন্ত জোহরের নামাজ দেড়ি করবেনা
যাতে ইমামদের ইখতিলাফ থেকে বাঁচা যায়।
,
বিস্তারিত  জানুন 
,
★সুতরাং যদিও এই ছুরতে  ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ এর মতের উপর আমল করলে নামাজ হয়ে যাবে,তবে সতর্কতা মূলক ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর মতের উপর আমল করাই উত্তম।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আসরের নামাজের ওয়াক্ত নিয়ে হানাফি মাযহাবের স্কলারপদের মাঝেই মতবিরোধ রয়েছে। সুতরাং আপনি যদি উপরোক্ত নিয়মে আসরের নামাজ আদায় করেন,সেক্ষেত্রেও আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

তদুপরি আপনি যদি হানাফী মাযহাবের মত অনুসারে আসরের ওয়াক্ত আসার পরেই আসরের নামাজ আদায় করেন, তাহা উত্তম হবে।

তাই আপনার প্রাইভেট শেষ হওয়ার পর আসরের নামাজের ওয়াক্ত বাকি থাকলে তখনই আসরের নামাজ পড়ার পরামর্শ থাকবে।

(০২)
আপনার নামাজ হবে।
তবে জোহরের নামাজ কাজা হিসেবে গন্য হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে স্রাব যদি বাইরে আসার পর প্যাডে বা কাপড়ে বা শরীরে এক দিরহাম সমপরিমাণ (৫ টাকার কয়েন সমপরিমাণ)  বা তার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে যায় তাহলে আপনার নামাজগুলি আদায় হয়নি।

উক্ত নামাজ গুলির কাজা আদায় করতে হবে। 
(০৪)
না,এক্ষেত্রে আপনার নামাজ মাকরুহ হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...