আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
23 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (14 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম।
আমার স্বামী আমার পর্দার ব্যাপারে খুবই সতর্ক, আর আলহামদুলিল্লাহ আমি পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করি। আমার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। কিছুদিন আগে তিনি ওমরাহ আদায় করেছেন।

আমার একটি অতীত আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠি, তখন ধীরে ধীরে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করি। আস্তে আস্তে নামাজ, রোজা এবং খাঁটি পর্দা পালন শুরু করি। কোনো নন-মাহরামের সঙ্গে আমার কখনো কোনো সম্পর্ক বা হারাম কাজ ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলে আমাকে নোট নেওয়ার অজুহাতে মেসেজ দেয়। শুরু থেকেই আমি তাকে ইগনোর করি, কারণ আমার হারামের পথে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকেই সে আমাকে মেসেজ দেয়, আর আমি তাকে বারবার ইগনোর করতে থাকি। কিন্তু কীভাবে জানি না, পরে আমি নিজেই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। একপর্যায়ে তাকে বলি যে আমি আর কথা বলব না, কারণ এটা হারাম। তখন সে আমাকে বলে যে সে আমাকে বিয়ে করবে, আপাতত সব কিছু সে সামলাবে, সে খুব ভালো পরিবার থেকে এসেছে—এ ধরনের অনেক কথা বলে। আমি তখন তার কথায় রাজি হয়ে যাই।

কিন্তু পরে বুঝতে পারি, তার কথাগুলো সব মিথ্যা। তার জন্য আমি প্রায় এক বছর অপেক্ষা করি, কিন্তু তার কোনো উন্নতি দেখি না। বরং দেখি সে আমাকে অনেক মিথ্যা বলেছে। এসব জানার পর আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি (ডিভোর্স নিই)।

এরপর আমি বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত হই। আসলে আমি তখন বিয়ে করতে চাইনি, কিন্তু পরিবারকেও কিছু বলতে পারছিলাম না। আমি আমার পরিবারের একমাত্র মেয়ে, তাই পরিস্থিতির চাপে রাজি হয়ে যাই। আমি আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাওবা করতে থাকি।

কিন্তু আমার এই বিয়ের আগে আকদ হয়েছিল এমন অবস্থায়, যখন আমার ইদ্দত শেষ হয়নি—এই বিষয়টি আমি তখন জানতাম না। আমি না যেতে চাইলেও আমাকে জোর করে স্বামীর সঙ্গে এবং আম্মুকে নিয়ে ঘুরতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে আমি না চাইলেও স্বামী আমার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হন। পরে আমি জানতে পারি যে ওই বিয়েটা তখন শরিয়তসম্মত হয়নি।

এরপর আমি আর তার সঙ্গে কোনো দেখা-সাক্ষাৎ করিনি। আমার প্রকৃত পরিস্থিতি কাউকে বোঝানোর মতো অবস্থাও তখন আমার ছিল না। পরে একদিন আমি তাকে বলি যে আমাদের নতুন করে শুধু ইজাব-কবুল করা দরকার। কিন্তু তিনি তখন আমাকে অনেক প্রশ্ন করেন, আর নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এখন হঠাৎ করে আমার মনে পড়ছে—আসল বিয়ের আগে তার সঙ্গে কয়েকবার কথা বলার সময় তিনি জিনার শাস্তি নিয়ে কথা বলতেন। যেমন, অন্যদের হারাম সম্পর্ক, পরকীয়া ইত্যাদির শাস্তি সম্পর্কে বলতেন। আমার মনে আছে, তিনি বলতেন—যদি তার স্ত্রী এমন কিছু করে, তাহলে তিনি তাকে তালাক দেওয়ার আগেই রজমের ব্যবস্থা করতেন, কারণ তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আরেকদিন তিনি বলেন, যদি বড় ধরনের জিনা হয়, তাহলে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে—হঠাৎ করে কাশি দিয়ে বলেন, নাকি হবে না, আগে তো রজমের শাস্তিই দেওয়া হবে।

তখন তিনি আসলে জিনার শাস্তি নিয়ে সাধারণ আলোচনা করছিলেন। কিন্তু যতটুকু আমার মনে পড়ে, তিনি আমাকে সরাসরি বলেননি যে, “তুমি জিনা করলে তোমার ওপর তালাক পড়বে” বা এমন কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেননি।

এখন আমার ভয় হচ্ছে—আমার আগের জীবনের ঘটনার কারণে কি এখন কোনো তালাক আমার ওপর এসে পড়বে কিনা। শর্তযুক্ত তালাকের জন্য কি নিয়ত থাকা জরুরি? এই বিষয়টা সারাক্ষণ আমার মাথায় ঘুরছে। আমি জিনার মধ্যে থাকতে চাই না, আল্লাহ আমাকে হেফাজত করুন। আবার মনে হচ্ছে, তখন তো আমার স্বামী আমার অতীত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। হয়তো তিনি তার স্ত্রীর ব্যাপারে সাধারণভাবে কথা বলেছিলেন, কিন্তু বিয়ের আগে আমাকে এসব বোঝাননি।

আমি সত্যিই খুব বিভ্রান্ত। আমি কাউকে কিছু শেয়ারও করতে পারছি না। আমি সম্পূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলতে চাই, কিন্তু এতদিন এসব বিষয় আমার মাথায় আসেনি—হঠাৎ করেই সব মনে আসছে। তার ওপর আমি একজন OCD রোগী হওয়ায় আমার চিন্তাগুলো আরও বেশি এলোমেলো হআমি ঠিক মনে করতে পারছি না তিনি এভাবে সরাসরি বলেছেন কি না। তবে তিনি পরোক্ষভাবে এমন কথা বলতেন—যেমন, “আপনি তালাকপ্রাপ্ত হবেন”—এর সঙ্গে আবার বলতেন, “কিন্তু তার আগেই তো শাস্তির ব্যবস্থা হবে।” এ ধরনের কথা তিনি বললেও, তা ছিল অস্পষ্ট ও ঘুরিয়ে বলা।

আমার যতটুকু মনে পড়ে, তিনি আমাকে কখনো স্পষ্টভাবে বা সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেননি যে, “আপনি যদি জিনা করেন, তাহলে আপনার ওপর তালাক পড়বে” বা এভাবে কোনো শর্তযুক্ত তালাক আরোপ করেননি। কথাগুলো মূলত জিনার শাস্তি নিয়ে সাধারণ আলোচনা ছিল, সরাসরি আমাকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট শর্ত হিসেবে বলা হয়নি।য়ে যাচ্ছে।

1 Answer

0 votes
by (754,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
নারীর ইদ্দত পালন অবস্থায় নারীর বিয়ে সংগঠিত হয় না। 

لما فى ردالمحتار مع الدر المختار:
"أما نكاح منكوحة الغير ومعتدته فالدخول فيه لا يوجب العدة إن علم أنها للغير لأنه لم يقل أحد بجوازه فلم ينعقد أصلا".(کتاب النکاح، باب العدّۃ، مطلب عدة المنكوحة فاسدا و الموطوءة بشبهة، ج:3، ص:516، ط: ایچ ایم سعید)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে ইদ্দত পালন অবস্থায় আপনার যেই বিয়ে হয়েছে, সেই বিয়ে বিশুদ্ধ হয়নি। এখন বিয়েকে নবায়ন করতে হবে। নবায়ন করার ক্ষেত্রে স্বামীকে বললে যদি সে খারাপ কিছু মনে করে, তাহলে ওয়াসওয়াসার বিষয়গুলো তাকে দেখিয়ে বিবাহকে নাবায়ন করে নিতে পারেন। অন্তরের প্রশান্তি বা স্বামীর বিভিন্ন কথা থেকে নিষ্কৃতি ইত্যাদির জন্য আপনি বিবাহকে নবায়ন করতে চান, এইভাবে বিবাহকে নবায়ন করে নিবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...