আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
18 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
edited by
সম্মানিত উস্তাদ,
বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নেক আমলকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনেক অনুপ্রেরণামুলক গল্প কিংবা ঘটনা প্রচলিত থাকে যেগুলো কুরআন/হাদিস কিংবা শরিয়তের মূলনীতির পরিপন্থি নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর বাস্তব প্রেক্ষাপট যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না। ইন্টারনেটে প্রচলিত এসকল অনুপ্রেরণামূলক গল্প বা ঘটনাগুলো প্রচার-প্রসার ও এগুলোর মাধ্যমে উৎসাহিত হয়ে আমল করার ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কি?
জাজাকুমুল্লাহু খইর।

একটি নমুনা লেখা সংযুক্ত করা হলো:
চার তলা ভবনের তিন তলা ভাড়া হবে দেখে মালিকের সাথে কথা বলতে গেলাম। জরুরী ভিত্তিতে আমার এক পরিচিত ব্যক্তির জন্য বাসা প্রয়োজন ছিলো।

কাঁচা পাকা চুল দাঁড়ির লোকটিকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি বাড়ির মালিক?"

উনি বললেন, "না।"

জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে মালিক কে?"

- মালিক আল্লাহ তায়ালা।

আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললাম, "না মানে, সব কিছুর মালিকই তো আল্লাহ। তবু এটা তো তিনি আপনাকে করার তাওফিক দিয়েছেন। এর ভাড়া তো আপনি পাবেন?"

- না বাবা, ভাড়াও আমি পাবো না। আল্লাহ তায়ালাই পাবেন।

আমি এবার একটু চমকালাম। ভালো করে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। মনে মনে ভাবলাম, "মনে হয় মাথায় গন্ডগোল আছে।"

তিনি আমাকে বাসার ভেতরে নিয়ে গেলেন। ড্রইংরুমে বসে চা খেতে খেতে বললাম, "আল্লাহ ভাড়া পাবেন বিষয়টা ঠিক বুঝলাম না আঙ্কেল।"

- আচ্ছা বুঝিয়ে দিচ্ছি। আমার ছয় ছেলেমেয়ে। চার তলা বিল্ডিয়ে ফ্ল্যাট আছে আটটা। ছয় ছেলেমেয়ের জন্য ছয়টা। আমরা বুড়াবুড়ি থাকি একটায়। বাকি ফ্ল্যাটটি আল্লাহ তায়ালার নামে ওয়াকফ করা। সেটি থেকে যা আয় হবে তা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ হবে। সেভাবেই ডিড করে দিয়েছি।

-বাহ্ বেশ ভালো তো বিষয়টা। তা তিন তলা আল্লাহ তায়ালা পেলেন কেন? অন্য কোন ফ্ল্যাট নয় কেন?

- সব ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসে লটারী করেছি। যার ভাগ্যে যে ফ্ল্যাট পড়েছে, সেটা তার।

আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। বললাম, "এটা কেন করলেন?"

চাচা বললেন, "বাবা, মনে করো, আল্লাহ তায়ালা এসে বললেন, আমি তোর পরিবারের সাথে থাকতে চাই তাহলে আমি কী করতাম! আমি কী পাগল হয়ে যেতাম না আল্লাহ তায়ালাকে রাখার জন্যে?"

- নিশ্চয়।

- সেটাই হয়েছে। আমি বাসা করার সময় আটজনকে পরিবারের সদস্য মনে করেছি। একজন সদস্য মহান আল্লাহ। সেজন্য সবকিছুতেই তার জন্য একটা ভাগ থাকে।

- সবকিছু বলতে?

-সবকিছু বলতে মনে করো, যখন চাকুরী করতাম তখন বেতনকে পরিবারের সদস্য দিয়ে ভাগ করতাম। যখন আমাদের প্রথম সন্তান হলো তখন আমরা তিনজন সদস্য হলাম। তিন জনের জন্য যা খরচ হতো, সে অনুপাতে আরেকজনের খরচ বের করে নিতাম। সেটা আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করতাম। এরপর যখন সদস্য বেড়েছে, তখন সে অনুপাতে আল্লাহ তায়ালাও ভাগ পেয়েছেন।

আবার আমার আম বাগানের ক্ষেত্রেও তাই। আট ভাগে ভাগ করে কিছু আম গাছ আল্লাহ তায়ালার ভাগে পড়েছে। সেগুলোর আম বিক্রি করা টাকা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ হয়।

আমি চাচার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার মনের মধ্যে তোলপাড় হতে লাগলো। একটু আগে যাকে দেখে মানসিক সমস্যার কথা মনে হয়েছিলো, এখন তার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগলো।

ভাবলাম, এই লোকগুলোর আমল কোন পর্যায়ের। মহান রব ইনাদের ভেতরে কী অসীম জায়গা করে নিয়েছেন!

লেখা : সংগৃহীত

1 Answer

0 votes
by (754,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
রাসুলুল্লাহ ﷺ 'ইসরাঈলিয়াত' বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন, 
بَلِّغُوا عَنِّي ولو آيَةً، وَحَدِّثُوا عن بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَمَن كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
আমার পক্ষ থেকে মানুষকে পৌঁছে দাও, যদিও একটি আয়াত হয়। বনী-ইস্রাঈল থেকে বর্ণনা কর, তাতে কোন ক্ষতি নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন নিজ আশ্রয় জাহান্নামে বানিয়ে নিল। (সহীহ বুখারী ৩৪৬১)

তবে বনী ইসরাঈল হতে কেবল ইসলাম সমর্থিত বর্ণনাগুলো বলা যাবে। ব্যাপকভাবে তাদের সব রকম বর্ণনা গ্রহণ করা সমীচীন নয়। শায়খ মুহাম্মদ আমীন আশশিনকিতী রহ. (আযওয়াউল বায়ান ৩/৩৪৬) গ্রন্থে লিখেন,
ومن المعلوم أن ما يروى عن بني إسرائيل من الأخبار المعروفة بالإسرائيليات له ثلاث حالات في واحدة منها يجب تصديقه وهي ما إذا دل الكتاب أو السنة الثابتة على صدقه ، وفي واحدة يجب تكذيبه وهي إذا ما دل القرآن والسنة على كذبه ، وفي الثالثة لا يجوز التكذيب ولا التصديق … وهي ما إذا لم يثبت في كتابٍ ولا سنَّة صدقه ولا كذبه .
وبهذا التحقيق تعلم أن القصص المخالفة للقرآن والسنة الصحيحة التي توجه بأيدي بعضهم زاعمين أنها في الكتب المنزلة يجب تكذيبهم فيها لمخالفتها نصوص الوحي الصحيح التي لم تحرف ولم تبدل والعلم عند الله تعالى -

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়ানো রেফারেন্সহীন ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে লিখা গুলোকে ঢালাওভাবে প্রচার প্রসারের কোনো সুযোগ নাই। বরং সেই লেখাগুলোকেই প্রচার প্রসার করা যাবে, যেগুলো শরীয়তের অন্য কোনো বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। এজন্য কোনো একজন আলেম/বিজ্ঞজন কে দেখিয়ে তারপর প্রচার প্রসার করা উচিত। 

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা মূলক। তবে প্রচারের পূর্বে কিছুটা সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য বিজ্ঞ কাউকে দেখিয়ে তারপর প্রচার প্রসার করা উচিত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...