আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
41 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (3 points)
edited by
সালাম নিবেন হুজুর।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

আমি প্রচলিত ওয়াজ অপছন্দ করি। কারণ মাইক লাগিয়ে ওয়াজ করলে বিরক্ত অনুভব করি অনেক সময়। কারণ সবসময় ওয়াজ শোনার মানসিক অবস্থা থাকে না। আমি মনে করি, ওয়াজের আওয়াজ ওয়াজের মজলিসের শ্রোতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে আলোচনা করা উচিত। যাদের ওয়াজ শোনার প্রয়োজন হবে তারা ওয়াজের মজলিসে গিয়ে শুনবে। আর আমার সুরেলা তথাকথিত বক্তাদের অপছন্দ। আমার মতে কুরআন হাদিসের আলোচনা ধীরে সাবলীল আলোচনা করলে শ্রোতার উপকার বেশি হবে।  আর কিছু কিছু আলেমরা ওয়াজে সারাক্ষণ আলেমদের সম্মান করতে হবে, ভালোবাসতে হবে, পরিস্থিতি এমন বোঝায় যে মনে হয় আলেমরা দেবতার আসনে। আমার কাছে মনে হয় অধিকাংশ বক্তারা আজকাল ওয়াজকে তাদের পেশা হিসেবে নিয়েছে। যদিও তারা আল্লাহর জন্য ওয়াজ করে বলে দাবি করে। তারা দাবি করে তারা শুধু হাদিয়া নেন। আমার মতে মাইক লাগিয়ে উঁচু স্বরে ওয়াজ করা হলো, ঔষধ খেতে না চাওয়া রোগীকে বেঁধে ঔষধ খাওয়ানোর মতো। আমি মনে করি আজকাল ওয়াজ শোনার চেয়ে কওমী দেওবন্দি আকাবিরদের আকিদার কিতাব, মালফুজাত পড়া উওম। তথাকথিত ওয়াজকে আমি নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা মনে করি। আমার মতে ওয়াজের বদলে, আলেমরা তো চাইলে আসরের পর ফ্রীতে মুসল্লীদের দ্বীনি আলোচনা শোনাতে পারে। কিন্তু দিনশেষে আমি ওয়াজের আড়ালে পকেট ভারীর চিন্তা দেখি কিছু আলেমের মধ্যে। ওয়াজের জন্য এলাকার কমিটি থেকে ৩ হাজার ৪ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য সবসময় একটা চাপ দেওয়া হয়। তথাকথিত ওয়াজকে নব্য ফিতনা হিসেবে দেখি।

★ ওয়াজ নিয়ে আমার এই মনোভাবের জন্য আমার ইমান নষ্ট হবে?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://www.ifatwa.info/15755/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 

ফরয নামাযের ব্যত্যয় না ঘটলে এবং লোকজনের কষ্ট না হলে রাত্রে ওয়াজের অনুমতি দেয়া যেতে পারে।কিন্তু আজকাল বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টোই হচ্ছে। যেই নামায শিক্ষার জন্য ওয়ায শুনা হল ঐ রাত্রে ফরয নামাযকেই শেষ পর্যন্ত পরিত্যাগ করা হচ্ছে। আফসোস!

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ বলেনঃ

এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা হাদিস শরিফে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এশার পর কোনো কাজ নেই। কিন্তু মুসল্লির জন্য নামাজ আদায় আর মুসাফিরের জন্য সফর করা বৈধ। (রদ্দুল মুহতার : ১/৩৬৮)

যেহেতু ওয়াজ একটি ভাল এবং শিক্ষণীয় বিষয় তাই অন্যান্য সমস্যা না থাকলে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। অন্যথায় নয়।

أَشَرْنَا إلَى أَنَّ عِلَّةَ اسْتِحْبَابِ التَّأْخِيرِ فِي الْعِشَاءِ هِيَ قَطْعُ السَّمَرِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ وَهُوَ الْكَلَامُ بَعْدَهَا قَالَ فِي الْبُرْهَانِ: وَيُكْرَهُ النَّوْمُ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثُ بَعْدَهَا لِنَهْيِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عَنْهُمَا إلَّا حَدِيثًا فِي خَيْرٍ، لِقَوْلِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - «لَا سَمَرَ بَعْدَ الصَّلَاةِ» يَعْنِي الْعِشَاءَ الْأَخِيرَةَ (إلَّا لِأَحَدِ رَجُلَيْنِ: مُصَلٍّ أَوْ مُسَافِرٍ) وَفِي رِوَايَةٍ (أَوْ عِرْسٍ) . اهـ. وَقَالَ الطَّحَاوِيُّ: إنَّمَا كُرِهَ النَّوْمُ قَبْلَهَا لِمَنْ خُشِيَ عَلَيْهِ فَوْتُ وَقْتِهَا أَوْ فَوْتُ الْجَمَاعَةِ فِيهَا، وَأَمَّا مَنْ وَكَّلَ نَفْسَهُ إلَى مَنْ يُوقِظُهُ فَيُبَاحُ لَهُ النَّوْمُ. اهـ.

وَقَالَ الزَّيْلَعِيُّ: وَإِنَّمَا كُرِهَ الْحَدِيثُ بَعْدَهُ؛ لِأَنَّهُ رُبَّمَا يُؤَدِّي إلَى اللَّغْوِ أَوْ إلَى تَفْوِيتِ الصُّبْحِ أَوْ قِيَامِ اللَّيْلِ لِمَنْ لَهُ عَادَةٌ بِهِ، وَإِذَا كَانَ لِحَاجَةٍ مُهِمَّةٍ فَلَا بَأْسَ، وَكَذَا قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ وَالذِّكْرِ وَحِكَايَاتِ الصَّالِحِينَ وَالْفِقْهِ وَالْحَدِيثُ مَعَ الضَّيْفِ. اهـ. وَالْمَعْنَى فِيهِ أَنْ يَكُونَ اخْتِتَامُ الصَّحِيفَةِ بِالْعِبَادَةِ، كَمَا جُعِلَ ابْتِدَاؤُهَا بِهَا لِيُمْحَى مَا بَيْنَهُمَا مِنْ الزَّلَّاتِ، وَلِذَاكِرِهِ الْكَلَامُ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ، وَتَمَامُهُ فِي الْإِمْدَادِ.

وَيُؤْخَذُ مِنْ كَلَامِ الزَّيْلَعِيِّ أَنَّهُ لَوْ كَانَ لِحَاجَةٍ لَا يُكْرَهُ وَإِنْ خَشِيَ فَوْتَ الصُّبْحِ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ وَإِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ أَخْرَجَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا كَمَا فِي حَدِيثِ مُسْلِمٍ، نَعَمْ لَوْ غَلَبَ عَلَى ظَنِّهِ تَفْوِيتُ الصُّبْحِ لَا يَحِلُّ؛ لِأَنَّهُ يَكُونُ تَفْرِيطًا تَأَمَّلْ - 

«حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي» (1/ 368)

এভাবে সারা রাত বা রাতের দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা কখনো উচিৎ হবে না। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
ওয়াজ নিয়ে আপনার এই মনোভাবের জন্য আপনার ইমানের কোনো ক্ষতি হবেনা।

আপনার ঈমান বহাল থাকবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...