আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
21 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
শত্রু আমার শরীরে জ্বীন চালান করে বসিকরন করেছে। এই চালান করা বসিকরন জ্বীন দ্বারা আমাকে অনেক অসুবিধা করায় আমার শত্রু।

কি কি অসুবিধা করায় যেমন ধরুন ঘুমের মধ্যে খারাপ স্বপ্ন দেখায় আবার এই স্বপ্ন থেকে স্বপ্নদোষ হয়। শত্রু তার মনের মতো করে স্বপ্ন তৈরি করে এজন্য স্বপ্নদোষ ও তৈরি করে।

এখন শত্রু এভাবে যদি প্রায় প্রায়ই স্বপ্নদোষ ঘটায় তাহলে এই শীতে আমার ফরয গোসল করা অসুবিধা হয়। এখন এই স্বপ্নদোষ টা স্বাভাবিকভাবে মাসে ২-১ বার হলে তাও গোসল করা যায়। মাসে ২-১ বার স্বপ্নদোষ যেটা স্বাভাবিক কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তো এটা অস্বাভাবিক (মানে জাদুটোনা বা জ্বীন শয়তান দ্বারা করে) জ্বীন এর দ্বারা মাসে অনেক বার স্বপ্নদোষ ঘটায়
প্রশ্নঃ গোসল না করলে কি পাপ হবে?

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَن نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَاتَتْهُ الصََّلاَةُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ

নাওফাল বিন মুআবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির কোন নামায ছুটে গেল, সে ব্যক্তির পরিবার ও ধন-সম্পদ যেন লুণ্ঠন হয়ে গেল।
(ইবনে হিব্বান ১৪৬৮, সহীহ তারগীব ৫৭৭)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
 
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ العُقَيْلِيِّ، قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাকীক রহঃ বলেছেন, হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ কোন আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরী মনে করতেন না শুধু নামায ব্যতীত। অর্থাৎ নামায ছেড়ে দেওয়াকে তারা কুফরীর প্রায় নিকটবর্তী কাজ মনে করতেন। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৬২২]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبْحِ، لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযানে ও প্রথম কাতারে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, তা যদি লোকেরা জানত, কুরআহর মাধ্যমে বাছাই ব্যতীত এ সুযোগ লাভ করা যদি সম্ভব না হত, তাহলে অবশ্যই তারা কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করত। যুহরের সালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত। আর ‘ইশা ও ফাজরের সালাত আদায়ের কী ফাযীলাত তা যদি তারা জানত, তাহলে নিঃসন্দেহে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা হাজির হত। [বুখারী, হাদীস নং-৬১৫]

গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। এক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫১)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
ফরজ গোসলের দেড়ি করা গুনাহ নয়,তবে ফরজ গোসল না করলে যেহেতু নামাজ আদায় করাও সম্ভব না, তাই ফরজ গোসল না করার দরুন নামাজ কাজা হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে মারাত্মক গুনাহ হবে।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার উপর ফরজ ছিল যথাসময়ে নামায আদায় করা। নিয়মিত স্বপ্নদোষ হওয়া এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোন ওজর নয়; যার কারণে নামায আদায়ে এ বিলম্ব করা যেতে পারে। 

এখন আপনাদের কর্তব্য হচ্ছে- নামাজ গুলির কাজা আদায়ের পাশাপাশি এ গুনাহ থেকে তওবা করা, ইস্তিগফার করা (ক্ষমা প্রার্থনা করা)।
ভবিষ্যতে আর এহেন কাজ না করা।
,
আপনার জন্য করণীয় হলো দ্রুত বৈধ রুকইয়াহ কারীর পরামর্শ নেওয়া এবং এ সমস্যার সমাধানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

তবুও নামাজের ক্ষেত্রে গাফিলতি কোনোভাবেই অনুমোদিত হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...