আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (12 points)
প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম।

আমার একটি তালাক ও ইদ্দত সংক্রান্ত প্রশ্ন আছে।

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে আলাদা আলাদা সময়ে তালাক দিয়েছে—

প্রথম তালাক জুলাই মাসে,

দ্বিতীয় তালাক আগস্ট মাসে,

তৃতীয় তালাক সেপ্টেম্বর মাসে।

এই তিনটি তালাকের মাঝখানে স্বামী কোনো সময়ই রুজু (ফিরে নেওয়া) করেনি।

স্ত্রীও আলাদা ছিল।

এখন আমার প্রশ্ন হলো—

১) এই ক্ষেত্রে তালাক কি সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্ত (তিন তালাক সম্পন্ন) হিসেবে গণ্য হবে?

২) যদি হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীকে কি সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন করে ইদ্দত পালন করতে হবে,

নাকি জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় আলাদা থাকায় আগেই ইদ্দত সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে ধরা হবে?

অনুগ্রহ করে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানালে উপকৃত হব।

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (88,350 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/104/ নং ফাতওয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে,

□ ইদ্দত কাকে বলে? সে সম্পর্কে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে..

هي انتظار مدة معلومة يلزم المرأة بعد زوال النكاح حقيقة أو شبهة المتأكد بالدخول أو الموت كذا في شرح النقاية للبرجندي.

ইদ্দত হল, স্বাভাবিক বিবাহ বিচ্ছেদ বা খালওয়াতে সহীহা (তথা স্বামী-স্ত্রী সহবাসের নিকটবর্তী আচরণ বা নির্জনে বসবাস) বা স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলা কর্তৃক শরীয়ত নির্ধারিত কিছুটা সময় অপেক্ষা করা। (অন্য কোথাও বিয়ে না বসা)

,

□ কোন কোন মহিলার উপর ইদ্দত নেই। নিম্নোক্ত চারজন মহিলা ব্যতীত ছোটবড় সকল স্ত্রীর উপরই ইদ্দত পালন ওয়াজিব।

أربع من النساء لا عدة عليهن: المطلقة قبل الدخول، والحربية دخلت دارنا بأمان تركت زوجها في دار الحرب والأختان تزوجهما في عقد واحد فيفسخ بينهما والجمع بين أكثر من أربع نسوة فيفسخ بينهن كذا في التتارخانية ناقلا عن الخزانة

চার প্রকার মহিলাদের জন্য ইদ্দত নেই।

(১) সহবাস বা খালওয়াত (তথা স্বামী-স্ত্রী নির্জনে বসবাস) এর পূর্বে তালাক দিলে।

(২) হারবীয়্যাহ মহিলা যে দারুল ইসলামে নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে। যে কিনা তার স্বামীকে দারুল হরবে রেখে এসেছে। দারুল ইসলামে এসে ইসলাম গ্রহণ করে নিলে।

(৩) দুই বোনকে এক মজলিসে বিয়ে করার পর উভয়ের মধ্যে বিয়ে ভেঙ্গে ফেললে।

(৪) চারের অধিক বিয়ে করার পর পঞ্চম জনের বিয়ে ভেঙ্গে দিলে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৫২৬)

,

□ ইদ্দত দুই প্রকার (১) তালাকের ইদ্দত (২) স্বামী মৃত্যুর ইদ্দত

(১) তালাকের ইদ্দত সাধারণত তিন হায়েয বা তিন মাসিক। ছোট বালিকা যার হায়েয এখনো আসেনি বা বৃদ্ধা মহিলা যার হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে, তার ইদ্দত হল তিন মাস। আর স্ত্রী গর্ভবতী হলে উক্ত স্ত্রীর ইদ্দত হল সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া।

,

(২) স্বামী মৃত্যুবরণ করলে তখন স্ত্রীর ইদ্দত হল চার মাস দশদিন। স্ত্রী সন্তানসম্ভাবনা হলে স্ত্রীর ইদ্দত হল এক্ষেত্রে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া।

ইদ্দত পালন কালে স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ ওয়াজিব।

,

★ সাজসজ্জা পরিত্যাগঃ

عَلَى الْمَبْتُوتَةِ وَالْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إذَا كَانَتْ بَالِغَةً مُسْلِمَةً الْحِدَادُ فِي عِدَّتِهَا كَذَا فِي الْكَافِي

স্বামীর মৃত্যু বা তিন তালাক/এক তালাকে বায়েন এর ইদ্দত হলে, স্ত্রী খোশবু ও সাজসজ্জাকে পরিহার করবে। ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৫৩৪

,

□ ইদ্দত পালনকারিণীর অবস্থানঃ

عَلَى الْمُعْتَدَّةِ أَنْ تَعْتَدَّ فِي الْمَنْزِلِ الَّذِي يُضَافُ إلَيْهَا بِالسُّكْنَى حَالَ وُقُوعِ الْفُرْقَةِ وَالْمَوْتِ كَذَا فِي الْكَافِي.

ইদ্দত পালনকারীণী ঐ ঘরে ইদ্দত পালন করবে যেখানে সে বিবাহ বিচ্ছেদন সময়ে বা স্বামীর মৃত্যুকালীন সময়ে অবস্থান করে আসছিলো। ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৫৩৫

,

الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا تَخْرُجُ نَهَارًا وَبَعْضَ اللَّيْلِ وَلَا تَبِيتُ فِي غَيْرِ مَنْزِلِهَا كَذَا فِي الْهِدَايَةِ.

স্বামী মৃত্যুর ইদ্দত হলে স্ত্রী স্বামীর বাড়ীতেই অবস্থান করবে। বিশেষ প্রয়োজন হলে দিনে ও রাত্রের প্রাথমিক অংশে বাহিরে যেতে পারবে। ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া; ১/৫৩৪

,

খুসাইফ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে (ইদ্দত অবস্থায়) কি ঘর থেকে বের হতে পারবে? তিনি বললেন, না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৯১৯৮

,

সুতরাং বিনা ওজরে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া জায়েয হবে না। আর শরীয়তের হুকুমের লঙ্ঘন করাই পাপ। আর পাপ বলতেই ঈমানের উন্নতির পথে বাধা এবং আখেরাত ও কবরের যিন্দেগী সুখময় হতে বাধা। মুমিনের জন্য শুধু এতটুকু কথাই কোনো ফরয-ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য যথেষ্ট।

অবশ্য জীবিকা কিংবা অন্য কোনো মানবিক প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার অবকাশ আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আবার বাড়িতে ফিরে আসা জরুরি। আর দিনে কোনো বিশেষ ওজরে বের হলেও রাতে অবশ্যই নিজ গৃহেই অবস্থান করতে হবে।

আরো বিস্তারিত জানুন- https://ifatwa.info/10353/ 

,

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

,

জ্বী হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেদিন থেকে তিন তালাক পতিত হয়েছে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইদ্দত পালন বা গণনা শুরু করবে; যদিও স্বামী-স্ত্রী বেশ কয়েক মাস সম্পূর্ণ যোগাযোগ ছাড়া থাকুক।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 123 views
0 votes
1 answer 73 views
asked May 31, 2025 in সালাত(Prayer) by Samia firoz (30 points)
0 votes
1 answer 143 views
asked Mar 22, 2025 in সালাত(Prayer) by Samia firoz (30 points)
0 votes
1 answer 171 views
asked Oct 27, 2024 in সালাত(Prayer) by Samia firoz (30 points)
...