আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
15 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (23 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। আমার আম্মু আমাকে এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। কিন্তু সেই ছেলে বা তার পরিবারের কারও আচরণ আমার ভালো লাগে না। অনেক ভয় লাগে তাদের৷ অনেক লম্বা সময় ধরে এ সম্বন্ধ নিয়ে কথাবার্তা চলায় তাদেরকে আমি যা জেনেছি তাতে আমার মেনে নেয়া সম্ভব না। আমি কারণ গুলা আমার মা-বাবাকে স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছি। যতবার জিজ্ঞেস করেছে স্পষ্ট ভাবে না করেছি। ওর ফ্যামিলি বিভিন্ন সময় বিনা কারণে আমাকে অপমানিত করেছে। এখন নাকি ভালো হয়ে গেছে। আর এমন করে না। অথচ ওদের কথাবার্তা বা আচরণ এ আমি কোন পরিবর্তন পাই নাই। আমার কাছে আগের মতই বদমেজাজি লেগেছে। আমি অনেকবার ইস্তিখারা করেছি এবং আল্লাহর কাছে বলেছি যদি কল্যাণের হয় তাহলে যেন তাদের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু দিনদিন অনাগ্রহ বেড়েছে এবং সেটা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে। আমার ভাবতেও পারি না যে এই ছেলের সাথে আমার বিয়ে হবে।

তো অনেক আগেই না করে দিয়েছি। কিন্তু আমার আম্মু বলেছে আমি নাকি রাজি। আমাকে না জানিয়েই তারা নিজেরা নিজেরা লুকিয়ে কথাবার্তা ফাইনাল করে৷ পরে আব্বু আমাকে জানায়। আমি আবারও না করে দেই। কারণ এটা মানা সম্ভব নয়।

আর আমি আগেই বলে দিয়েছি এটা বাদ দিয়ে অন্য ছেলে দেখো। এটা বাদে যাকে পছন্দ করবে দ্বীনদার হলে আমার কোন আপত্তি নাই। আমি নিজে থেকে কাউকে বাছাই করি নি। আব্বু বারবার বলেছে যে বিয়ে দিবে না,,এটা বলে আবারও একই ঝামেলা টেনে আনে আম্মুর জোড়াজুড়িতে।
এখন আমি না করতেছি বলে আমাকে অনেক অনেক বদদুয়া দিচ্ছে। এই বদদোয়া গুলা কি লাগবে??

আমি কি আল্লাহর কাছে ভালো কাউকে চেয়ে নেয়ার অধিকার রাখি না??

নাকি তাদের দেয়া বদদোয়া লেগে যাবে?? আমি তো কিছুতেই মানতে পারছি না।

আমি যদি বাবা-মার সাথে খারাপ আচরণ না করে শুধু দৃঢ় ভাবে এই প্রস্তাবে অসম্মত থেকে যাই তাহলে কি আমার গুণাহ হবে??

সামান্যতম দূরবলতা কাজ করলেও আমি না করতাম না। কিন্তু আমার কোন টান কাজ করেনা। সামান্যও না। মানতেই পারি না।

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

পিতামাতার জন্য রাগের অবস্থায় সন্তানদের বদ দুয়া,অভিশাপ দেওয়া উচিত নয়। 
কারন কোন সময় যে আল্লাহ তায়ালা সেসব বদ দুয়া কবুল করে নিবেন,তাহা কেহই বলতে পারেনা।
এমনও হতে পারে যে পিতা মাতা বুঝে না বুঝে অযথাই সন্তানের জন্য বদ দুয়া করলো, আল্লাহ তায়ালা তা পুরোপুরি ভাবে কবুল করে নিলো,তখন এটা সন্তানের জন্য শাস্তির কারন হয়ে দাড়াবে।
বিষয়টি পিতামাতাকে বুঝানো দরকার।

উভয় পক্ষ থেকেই চেষ্টা করা দরকার,যে এই অবস্থায় যেনো পৌছাতে না হয়।

পিতা মাতা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এহেন কথা না বলার,আর সন্তান চেষ্টা করবে,এমন কোনো কাজ না করার,যাতে পিতা মাতা কষ্ট পায়।
(কিতাবুল ফাতওয়া ৬/২১৪)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي جَعْفَرٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَادَتِ امْرَأَةٌ ابْنَهَا، وَهْوَ فِي صَوْمَعَةٍ قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتِ اللَّهُمَّ لاَ يَمُوتُ جُرَيْجٌ حَتَّى يَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمَيَامِيسِ. وَكَانَتْ تَأْوِي إِلَى صَوْمَعَتِهِ رَاعِيَةٌ تَرْعَى الْغَنَمَ فَوَلَدَتْ فَقِيلَ لَهَا مِمَّنْ هَذَا الْوَلَدُ قَالَتْ مِنْ جُرَيْجٍ نَزَلَ مِنْ صَوْمَعَتِهِ. قَالَ جُرَيْجٌ أَيْنَ هَذِهِ الَّتِي تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا لِي قَالَ يَا بَابُوسُ مَنْ أَبُوكَ قَالَ رَاعِي الْغَنَمِ ".

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ্! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা ও আমার সালাত। মা বললেন, হে আল্লাহ্! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরায়জের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তাঁর গীর্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবূস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল। (বুখারী ১২০৬.২৪৮২, ৩৪৩৬, ৩৪৬৬; মুসলিম ৪৫/২, হাঃ ২৫৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৩)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি আল্লাহর কাছে অবশ্যই ভালো কাউকে চেয়ে নেয়ার অধিকার রাখেন।

যেহেতু সংসার করবেন আপনি,আপনার মা নন, সুতরাং কার সাথে বিবাহ বসবেন, এ ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যায় ভাবে দেয়া আপনার মায়ের এই বদদুয়া লাগবেনা,ইনশাআল্লাহ।

তদুপরি প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেননা। মায়ের সাথে উঁচুকন্ঠে ব্যবহার করবেননা।  হিকমতের সহিত বিষয়গুলি বুঝানো অব্যাহত রাখবেন।
মা রেগে গেলে চুপ থাকবেন।

আপনার বাবাকে এক্ষেত্রে আপনার পক্ষে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিবেন। আপনার বাবার পক্ষেই সম্ভব বিষয়টি খুব ভালোভাবে সমাধানে নিয়ে আসার এবং দ্রুত অন্য কোন দ্বীনদার পাত্রীর সাথে বিবাহ দেওয়ার।

পাশাপাশি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রতিনিয়ত দোয়া চালিয়ে যাবেন।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...