আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আমাদের এক আত্মীয়, বয়স ৬৫+ বছর। তার মোটামুটি ভালোই অর্থসম্পদ রয়েছে। তার ছেলেমেয়ে সবাই বড় হয়ে গেছে এবং ছোট ছেলে বাদে বাকি সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়েরা তাদের স্বামীর বাসায় থাকে। বড় ছেলে তার বউ ও এক বাচ্চা নিয়ে বাবা-মা ও ছোট ভাই এর সাথে তার বাবার বাসাতেই থাকে।
সেই আত্মীয়ের স্ত্রী যখন কোথাও বেড়াতে কিংবা দাওয়াতে অথবা মেয়েদের বাসায় যেতো তখন বড় ছেলের বউকে বলে যেতো যে, তোমার শশুরের খাবার দাবারের খেয়াল রাখিও।
সেই সময়গুলোতে বড় ছেলের বউ শশুড়কে খাবার বেড়ে দিতো। তখন শশুরের সাথে গল্প গুজবও হতো।
তারা এতো বেশি ফ্রি হয়েছিলো যে, ছেলের বউ তার শাশুড়ীর অগোচরে শশুরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে গল্প গুজব ও ক্ষেত্র বিশেষ কূটনামি ও করতো।
একটা সময় দেখা যায় বউ শাশুড়ীর চেয়ে বউ শশুরের সম্পর্ক বেশি। এবং শাশুড়ী বাসায় উপস্থিত থাকলেও শশুড় তার ছেলের বউকে ডাকতো এটা সেটা এনে দেওয়ার জন্য। এটা শাশুড়ীর খারাপ লাগতো মাঝেমধ্যে যে, তিনি থাকা স্বত্তেও ছেলের বউকে কেনো সব কিছুর জন্য ডাকতে হবে!
যাই হোক, এভাবেই চলছিলো এবং প্রায় এক-দেড় বছর আগে বড় ছেলের বউ কিচেনে রান্না করছিলো এমন সময় তার শশুড় কিচেনে যেয়ে কথা বলতে বলতে হুট করে তার ছেলের বউয়ের কপালে চুমু দিয়ে বসে!
বড় ছেলের বউ সেদিনই তার হাসবেন্ড কে বিষয়টি জানালে তার হাসবেন্ড ব্যাপারটাকে তেমন পাত্তা দেয় না। বলে যে, তোমাকে নিজের মেয়ে মনে করে এমন করেছে, বাদ দাও।
রিসেন্টলি, একদিন ছেলের বউ তার মায়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলো। শাশুড়ীও বাসায় ছিলো না, অন্য জেলায় তার মেয়ের বাসায় গিয়েছিলো। এবং তার মেয়ে অসুস্থ থাকায় সেদিন রাতে মেয়ের বাসাতেই ছিলো তার ছোট ছোট নাতিদের দেখভালের জন্য। রাতে ছেলের বউ বাসায় ফিরতে দেরী করলে তার শশুর তাকে রুমে ডাকে এবং জিজ্ঞেস করে কেনো এতো দেরী হলো। (উল্লেখ্য, বাসায় শুধু শশুর, ছেলের বউ আর বাচ্চা ছিলো তখন) তারপর এটা সেটা বলতে বলতে বলা শুরু করে যে সেই আত্মীয়ের(শশুর) নাকি তাকে(ছেলের বউ) ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না, উঠতে, বসতে, নামাজ পড়তে নাকি শুধু তার(ছেলের বউ) কথায় মনে পড়ে এবং তাকে ভুলতে পারে না। এরকম টাইপের আরো কথাবার্তা শুনে ছেলের বউ তার হাসবেন্ড কে কল দেয় এবং পুরো ফ্যামিলির সবাই বিষয়টি জেনে যায়।
এই ব্যাপারে পরেরদিন সেই আত্মীয়কে তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলে যে, তিনি আর এরকম চিন্তা ভাবনা করবেন না এবং
তিনি নাকি তওবা করলেন।
এই ঘটনার পর সপ্তাহ খানেক ছেলের বউ তার শশুর এর সাথে কথা বলেনি তেমন একটা এবং নিজের মেয়েরাও তাদের পিতার সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে ।
কিন্তু এখন ছেলের বউ ও শশুড় আগের মতোই কথাবার্তা বলে যেনো কোনো কিছুই হয়নি!
পুরুষ মানুষ কাউকে খারাপ নজরে দেখা শুরু করলে তারা কি সেটা সহজেই ভুলে যায়!
আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে যে, যেহেতু তিনি তার মাহরামের দিকে খারাপ নজর দিয়েছেন ; ইসলামি শরীয়াহ এই ব্যাপারে কি বলে?
সেই আত্মীয়ের সাথে তার স্ত্রী ও সন্তানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
এবং তার সাথে তার ছেলের বউয়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এবং তাদের একই বাসায় থাকা উচিত হবে কি?
(উল্লেখ্য, তারা আহলে হাদিস অনুসারী)