আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমাদের এক আত্মীয়, বয়স ৬৫+ বছর। তার মোটামুটি ভালোই অর্থসম্পদ রয়েছে। তার ছেলেমেয়ে সবাই বড় হয়ে গেছে এবং ছোট ছেলে বাদে বাকি সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়েরা তাদের স্বামীর বাসায় থাকে। বড় ছেলে তার বউ ও এক বাচ্চা নিয়ে বাবা-মা ও ছোট ভাই এর সাথে তার বাবার বাসাতেই থাকে।

সেই আত্মীয়ের স্ত্রী যখন কোথাও বেড়াতে কিংবা দাওয়াতে অথবা মেয়েদের বাসায় যেতো তখন বড় ছেলের বউকে বলে যেতো যে, তোমার শশুরের খাবার দাবারের খেয়াল রাখিও।
সেই সময়গুলোতে বড় ছেলের বউ শশুড়কে খাবার বেড়ে দিতো। তখন শশুরের সাথে গল্প গুজবও হতো।
তারা এতো বেশি ফ্রি হয়েছিলো যে, ছেলের বউ তার শাশুড়ীর অগোচরে শশুরের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে গল্প গুজব ও ক্ষেত্র বিশেষ কূটনামি ও করতো।
একটা সময় দেখা যায় বউ শাশুড়ীর চেয়ে বউ শশুরের সম্পর্ক বেশি। এবং শাশুড়ী বাসায় উপস্থিত থাকলেও শশুড় তার ছেলের বউকে ডাকতো এটা সেটা এনে দেওয়ার জন্য। এটা শাশুড়ীর খারাপ লাগতো মাঝেমধ্যে যে, তিনি থাকা স্বত্তেও ছেলের বউকে কেনো সব কিছুর জন্য ডাকতে হবে!

যাই হোক, এভাবেই চলছিলো এবং প্রায় এক-দেড় বছর আগে বড় ছেলের বউ কিচেনে রান্না করছিলো এমন সময় তার শশুড় কিচেনে যেয়ে কথা বলতে বলতে হুট করে তার ছেলের বউয়ের কপালে চুমু দিয়ে বসে!

বড় ছেলের বউ সেদিনই তার হাসবেন্ড কে বিষয়টি জানালে তার হাসবেন্ড ব্যাপারটাকে তেমন পাত্তা দেয় না। বলে যে, তোমাকে নিজের মেয়ে মনে করে এমন করেছে, বাদ দাও।

রিসেন্টলি, একদিন ছেলের বউ তার মায়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলো। শাশুড়ীও বাসায় ছিলো না, অন্য জেলায় তার মেয়ের বাসায় গিয়েছিলো। এবং তার মেয়ে অসুস্থ থাকায় সেদিন রাতে মেয়ের বাসাতেই ছিলো তার ছোট ছোট নাতিদের দেখভালের জন্য।  রাতে ছেলের বউ বাসায় ফিরতে দেরী করলে তার শশুর তাকে রুমে ডাকে এবং জিজ্ঞেস করে কেনো এতো দেরী হলো। (উল্লেখ্য, বাসায় শুধু শশুর, ছেলের বউ আর বাচ্চা ছিলো তখন) তারপর এটা সেটা বলতে বলতে বলা শুরু করে যে সেই আত্মীয়ের(শশুর) নাকি তাকে(ছেলের বউ) ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না, উঠতে, বসতে, নামাজ পড়তে নাকি শুধু তার(ছেলের বউ) কথায় মনে পড়ে এবং তাকে ভুলতে পারে না। এরকম টাইপের আরো কথাবার্তা শুনে ছেলের বউ তার হাসবেন্ড কে কল দেয় এবং পুরো ফ্যামিলির সবাই বিষয়টি জেনে যায়।

এই ব্যাপারে পরেরদিন সেই আত্মীয়কে তার স্ত্রী  জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলে যে, তিনি আর এরকম চিন্তা ভাবনা করবেন না এবং
তিনি নাকি তওবা করলেন।

এই ঘটনার পর সপ্তাহ খানেক ছেলের বউ তার শশুর এর সাথে কথা বলেনি তেমন একটা এবং নিজের মেয়েরাও তাদের পিতার সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করে ।

কিন্তু এখন ছেলের বউ ও শশুড় আগের মতোই কথাবার্তা বলে যেনো কোনো কিছুই হয়নি!

পুরুষ মানুষ কাউকে খারাপ নজরে দেখা শুরু করলে তারা কি সেটা সহজেই ভুলে যায়!
আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে যে, যেহেতু তিনি তার মাহরামের দিকে খারাপ নজর দিয়েছেন ; ইসলামি শরীয়াহ এই ব্যাপারে কি বলে?
সেই আত্মীয়ের সাথে তার স্ত্রী ও সন্তানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
এবং তার সাথে তার ছেলের বউয়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এবং তাদের একই বাসায় থাকা উচিত হবে কি?

(উল্লেখ্য, তারা আহলে হাদিস অনুসারী)

1 Answer

0 votes
by (750,600 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
শশুড় মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং শশুড়ের সাথে কথাবার্তা বলা যাবে। তবে বউমা যুবতি হলে এবং শুশুড়ের সাথে ফিতনার আশংকা থাকলে, তখন নির্জনে বা একাকি রুমে/বাসায় অবস্থান করা বা কথা বলা কোনোটাই জায়েয হবে না। 

لما في الفتاوى الشامية:
"(ومن محرمه) هي من لايحل له نكاحها أبداً بنسب أو سبب ولو بزنا (إلى الرأس والوجه والصدر والساق والعضد إن أمن شهوته) وشهوتها أيضاً ذكره في الهداية، فمن قصره على الأول فقد قصر ابن كمال (وإلا لا، لا إلى الظهر والبطن) خلافاً للشافعي (والفخذ) وأصله قوله تعالى:{ولايبدين زينتهن إلا لبعولتهن} الآية، وتلك المذكورات مواضع الزينة بخلاف الظهر ونحوه (وحكم أمة غيره) ولو مدبرة أو أم ولد (كذلك) فينظر إليها كمحرمه.
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/121087

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরনমতে বড় বউমার উচিত শশুড়ের সামনে পরিপূর্ণ পর্দা করবেন। কখনই কথা বলবেন না। কথা বলা জায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (4 points)
edited by
উস্তাজ,  তাদের একই বাসায় থাকা উচিত হবে কি?
আর
সেই আত্মীয়ের সাথে তার স্ত্রী ও সন্তানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
তার স্ত্রী ও সন্তানেরা বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...