আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
34 views
in সালাত(Prayer) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের অনেক app এ দেখায় তাহাজ্জুত শেষ ৫:২১ এ আর ফজর শুরু ৫:২২ এ। কিন্তু আমাদের এলাকায় ৫:০০ /৫:০৭/ ৫:১০ এর দিকে ফজরের আজান দেয়। এক্ষেত্রে তখন ফজরের নামাজ পড়তে হয়। কিন্তু app অনুযায়ী তখন তাহাজ্জুত এর ওয়াক্ত থাকে।
আমার প্রশ্ন হইলো, তাইলে কি আমাদের এলাকায় যখন ফজরের আজান দেয় তখন তাহাজ্জুত আদায় করতে পারবো?? ৫:২০ পর্যন্ত?

1 Answer

0 votes
by (88,350 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://www.ifatwa.info/4385  নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,

তাহাজ্জুদের পূর্বে ঘুমানো উত্তম হলেও তাহাজ্জুদের পূর্বে ঘুমানো জরুরী নয় এবং তাহাজ্জুদের পরে ঘুমানোও জরুরী নয় বরং উত্তম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৪৯৩)

কেননা আল্লাহ পাক দিনকে বানিয়েছেন কাজ করার জন্য এবং রাত্রকে বানিয়েছেন বিশ্রাম গ্রহণের জন্য। তাই রাত্রে আমাদেরকে ঘুমাতে হবে। এবং শেষরাত্রে এশা'র ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে নিয়ে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো এক মুহুর্তে ২-১২/২০ রা'কাত নামায পড়তে হবে এবং পড়াটা সুন্নাত।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ-

ﺇِﻥَّ ﻧَﺎﺷِﺌَﺔَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻫِﻲَ ﺃَﺷَﺪُّ ﻭَﻁْﺀًﺍ ﻭَﺃَﻗْﻮَﻡُ ﻗِﻴﻠًﺎ

নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। (সূরা মুযযাম্মিল-০৬)

,

ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন,

ﻭﻗﺎﻝ ﺃﻳﻀًﺎ : ﻭﻗﺎﻟﺖ ﻋﺎﺋﺸﺔ، ﻭﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺃﻳﻀًﺎ، ﻭﻣﺠﺎﻫﺪ : ﺇﻧﻤﺎ ﺍﻟﻨﺎﺷﺌﺔ ﺍﻟﻘﻴﺎﻡ ﺑﺎﻟﻠﻴﻞ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻨﻮﻡ . ﻭﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻓﻤﺎ ﻗﺎﻡ ﻧﺎﺷﺌﺔ .

হযরত আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রা. বলেন, "নাশিয়াহ" হলো ঘুমের পর তাহাজ্জুদের নামজের জন্য দাঁড়ানো। যে ঘুমানোর পূর্বে নামাযে দাঁড়াবে সে নাশিয়াহ হবেনা।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ-

ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺘَﻬَﺠَّﺪْ ﺑِﻪِ ﻧَﺎﻓِﻠَﺔً ﻟَّﻚَ ﻋَﺴَﻰ ﺃَﻥ ﻳَﺒْﻌَﺜَﻚَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻣَﻘَﺎﻣًﺎ ﻣَّﺤْﻤُﻮﺩًﺍ

রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত। হয়তো বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মাকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। (সূরা বনি ঈসরাইল-৭৯)

,

ইমাম কুরতুবী রাহ বলেনঃ

ﻭﺍﻟﺘﻬﺠﺪ ﺍﻟﺘﻴﻘﻆ ﺑﻌﺪ ﺭﻗﺪﺓ

তাহাজ্জুদ হচ্ছে কিছু ঘুমানোর পর জাগ্রত হওয়া (ও নামাজ পড়া)।

,

যেহেতু উক্ত ব্যক্তির তাহাজ্জুদের নামায পড়ার ইচ্ছা ও আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু কোনো প্রয়োজনে রাত্রিতে জেগে থাকতে হয়,বা কোনো কারণে কেউ হঠাৎ কেউ জেগে রয়েছে এবং তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েছে তাহলে সেও তাহাজ্জুদের পূর্ণ সওয়াব পাবে। কোনো কাজ বা প্রয়োজন না থাকলে এ'শার নামাযের পর ঘুমিয়ে যাওয়াই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য উচিৎ। এমনকি অনেকে এ'শার পর বেহুদা জেগে থাকাকে মাকরুহ মনে করেন।

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

,

আপনি নির্ভরযোগ্য নামাজের এপস ব্যবহার করবেন এবং নিজ এলাকার লোকেশন সেট করে রাখবেন। তাহলে আর এই সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। সম্ভবত আপনার এপসে নিজ এলাকার লোকেশন সেট করা নাই। কারণ সাধারনত এতগুলো মসজিদের ফজরের আজান দিতে ভুল করার কথা না। তারপরও যদি তারা ভুল করে থাকেন তাহলে আপনি নির্ভরযোগ্য নামাজের এপসের সময় দেখে নামাজ পড়তে পারবেন ইনশাআল্লাহ। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...