আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
43 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ উস্তায।

আমি একজন বোনের প্রশ্ন নিয়ে এসেছি। আমাকে প্রশ্নের উত্তর একটু ডিটেইলসে বললে আমি অনেক কৃতজ্ঞ থাকবো আপনাদের কাছে।
এক বোনের চরিত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে পূর্বে একজন স্বামীকে তালাক দিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করেছে। কিন্তু নিজের পছন্দ মত বিয়ে হওয়া সত্বেও সে চরিত্র ঠিক করতে পারছেনা বহু চেষ্টা করেও। সে পতিতাবৃত্তি করতে খুবই ইচ্ছুক। সে গোপনে এই কাজ গুলো করে। তার পরিবারের কেউ এই ঘটনা জানেনা সে যে জঘন্যভাবে পরকীয়া করে বেড়ায়। এমতাবস্থায় তার গোপনতথ্য পরিবারের কেউ একজন জেনে যায়। সম্পর্কে তার বোন হয়। এই ঘটনা সে আগে বারবার করেও সবাইকে বলেছে যে শুধরেছে, তওবা করেছে। আসলে সে আগের মতই রয়ে গিয়েছে। এখন বোনটার প্রশ্ন হলো তার নিজের বোনের এই জঘন্য চরিত্রের কারনে তার সাথে কোনরকম সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছেনা।  এখন এই সম্পর্ক না রাখার কারনে কি কোন গুনাহ হবে?

উস্তায প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দিলে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ থাকবো।
জাজাকুমুল্লাহ খইরান।

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/7675/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

দারুল উলুম  দেওবন্দ এর 178050 নং ফতোয়াতে এসেছে যে কোনো মুসলমানের সাথে হিংসা ইত্যাদির কারনে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ নেই। 
তবে সে যদি দীনের লাইন থেকে দূরে সরে যায়,মদ খায়,জুয়া খেলে,যেনা করে,সুদ খায়।
বুঝানোর পরেও বুঝেনা,ইসলাম মানেনা।
,
তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ আছে। 
তবে  স্থায়ীভাবে নয়,সাময়িক ভাবে। 
(ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়্যাহ ৮/২৭০)
,
''( قوله باب ما يجوز من الهجران لمن عصى )
 أراد بهذه الترجمة بيان الهجران الجائز لأن عموم النهي مخصوص بمن لم يكن لهجره سبب مشروع فتبين هنا السبب المسوغ للهجر وهو لمن صدرت منه معصية فيسوغ لمن اطلع عليها منه هجره عليها ليكف عنها''۔(فتح الباری،10/497،ط:دارالمعرفۃ بیروت) 
সারমর্মঃ শরীয়ত সম্মত কারন পাওয়া গেলে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ আছে। 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত বোন যদি তার নিজের বোনের এই জঘন্য চরিত্রের কারনে তার সাথে কোনরকম সম্পর্ক না রাখেন,আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেন,কোনোরুপ কথা না বলেন,যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেন,সেক্ষেত্রে এই সম্পর্ক না রাখার কারনে তার কোন গুনাহ হবেনা।

তবে এটি স্থায়ী ভাবে নয়।

কোনোদিন যদি তার সেই বোন সত্যিকার অর্থেই হেদায়াত পায়,প্রকৃতভাবেই দ্বীনের পথে ফিরে আসে,সেক্ষেত্রে তখন তার সাথে আবারো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
উত্তর দেয়ার জন্য অনেক অনেক জাজাকুমুল্লাহ খইরান উস্তায। 

উস্তায সে তো বারবারই বলে ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে এসব করে বেড়ায়। কখনো সে যদি হেদায়েত হয়  তাহলে তাকে বিশ্বাস করবে কিভাবে? আর সম্পর্কও ঠিক রাখবে কিভাবে?
by (714,960 points)
সে যদি আসলেই ভালো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে তার চালচলন, তার কথাবার্তা, তার উঠাবসা, সামগ্রিক তার আমল হিসাব নিকাশ করে বুঝা যাবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...