আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
39 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
আস্সালমুয়ালইকুম
“আমার বিয়ে হয়েছে ৪ বছর। আমার স্বামী আমাকে বিয়ে করে আমার ধার্মিকতা দেখে, আমিও তার  ধার্মিকতা দেখে বিয়ে করতে রাজি হই। কিন্তু বিয়ের পরে দেখি সে তার মায়ের গায়ে হাত তুলে। বিয়ের ৬ মাস পরে সে আমার গায়ে হাত তুলে খুব খারাপভাবে মারধর করে। একদিন সে আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে। যখন আমার মা কথা বলতে আসে, তখন সে আমার মাকেও মারতে যাই । এমনকি সে আমাকে ১‑১ করে ৩ তালাক দেয় (যখন তালাক দেয় তখন সে নেশা করত না)। তখন আমার শাশুড়ি বলে যে সে মানসিক রোগী, তালাক হবে না, সে শিজোফ্রেনিয়া রোগী, আগে ডাক্তার দেখানো হয়েছিল তার রিপোর্ট আছে এবং রিহাবে ভর্তি ছিলো তার রিপোর্ট আছে।
পরে আমরা আবার মানসিক ডাক্তারের কাছে যাই, ডাক্তার বলে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার আছে। যেহেতু সে মানসিক রোগী এবং আমার ২ টি ছোট বাচ্চা আছে, তাই আমি আবার সংসার চালিয়ে যাই। কিন্তু সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সে নামাজ‑রোজা ছেড়ে দেয়, দাড়ি কেটে ফেলে, ৩‑৪টা গিটার কিনে বাজায়, মাদক সেবন করে এবং তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে যেখানে সে আল্লাহকে গালি দেয় (নাউজুবিল্লাহ) এবং আরও অনেক খারাপ কথা বলে। তখন তাকে পুলিশ আটক করে।

এখন আমার প্রশ্ন: আমাদের তালাক হয়েছে কি? আর যদি তালাক না হয়ে থাকে তাহলে এই অবস্থায় সংসার করা খুব কঠিন, আমি সংসার করতে চাই না। কিন্তু আমার দুইটা বাচ্চা আছে—ছেলের ৩ বছর এবং মেয়ের ১.৫ বছর। এখন কী করা যায়? বাচ্চাদের জন্য হলেও আমি সংসার করতে চাই না, কিন্তু আমার বাবা নেই, ভাই নেই, আমরা তিন বোন আর্থিক সমস্যায় আছি। শেখ, আমাকে একটু পরামর্শ দিন।”

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}

وفي رد المحتار- ويقع طلاق من غضب خلافا لابن القيم الخ وهذا الموافق عندنا لما مر فى المدهوش، ( رد المحتار، كتاب الطلاق، مطلب فى طلاق المدهوش-4/452)
যার সারমর্ম হলো রাগ অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে।  
,
ইসলামী স্কলারদের মতে রাগের তিনটি অবস্থা হতে পারে:

প্রথম অবস্থা: এত তীব্র রাগ উঠা যে, ব্যক্তি তার অনুভুতি হারিয়ে ফেলা। পাগল বা উন্মাদের মত হয়ে যাওয়া। সকল আলেমের মতে, এ লোকের তালাক কার্যকর হবে না। কেননা সে বিবেকহীন পাগল বা উন্মাদের পর্যায়ভুক্ত।

দ্বিতীয় অবস্থা: রাগ তীব্র আকার ধারণ করা। কিন্তু সে যা বলছে সেটা সে বুঝতেছে এবং বিবেক দিয়ে করতেছে। তবে তার তীব্র রাগ উঠেছে এবং দীর্ঘক্ষণ ঝগড়া, গালি-গালাজ বা মারামারির কারণে সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেনি। এগুলোর কারণেই তার রাগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ লোকের তালাকের ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অগ্রগণ্য মতানুযায়ী, এ লোকের তালাক কার্যকর হবে।
এ অভিমতটাই আমাদের মতে কুরআন-সুন্নাহর সাথে সবচেয়ে বেশী সামঞ্জস্যশীল।

তৃতীয় অবস্থা: হালকা রাগ। স্ত্রীর কোন কাজ অপছন্দ করা কিংবা মনোমালিন্য থেকে স্বামীর এই রাগের উদ্রেক হয়। কিন্তু এত তীব্র আকার ধারণ করে না যে, এতে বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে কিংবা নিজের ভাল-মন্দের বিবেচনা করতে পারে না। বরং এটি হালকা রাগ। আলেমগণের সর্বসম্মতিক্রমে এ রাগের অবস্থায় তালাক কার্যকর হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

নিয়ত থাক বা না থাক সর্বাবস্থায় তালাক শব্দ বলে ফেললে বা কাগজে লিখে দিলেই তালাক হয়ে যায়। তেমনিভাবে রাগের অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়, এমনকি হাস্যরস বা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলেও তা পতিত হয়ে যায়।

★★অবশ্য কেউ যদি প্রচন্ড রেগে যায় ও রাগের ফলে বেহুঁশ হয়ে পড়ে আর এ অবস্থায় সে কী বলেছে তার কিছুই মনে না থাকে তাহলে ঐ অবস্থার তালাক কার্যকর হবে না।
(★শর্ত হলো বেহুশ হয়ে যাওয়া,এবং সেই সময়ের কোনো কথা মনে না থাকা।)

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামী আপনাকে তালাক দেয়ার সময় যদি তালাক প্রদানের নিয়তেই উক্ত বাক্য বলে থাকে,সেক্ষেত্রে আপনার উপর ৩ তালাক পতিত হয়েছে। 

এমতাবস্থায় আপনাদের ঘর সংসার এর দরুন যেনা হচ্ছে।

তবে আপনার স্বামী যদি সত্যিই মানসিক রুগী হয়,তালাকের নিয়ত ছাড়ায় উপরোক্ত বাক্যগুলি বলে,পরবর্তীতে সে বলতেও পারেনা যে সে ঐ সময় কি কি বলেছিলো! 
তাহলে এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।

এমতাবস্থায় আপনারা ঘর সংসার চালিয়ে যেতে পারেন। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

No related questions found

...