আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (16 points)
আসসালামু আলাইকুম,, ওস্তাদ আমার যখন প্রথম বিয়ে হয়।।তখন আমি কোন বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।।কে কি করল না করল,, এসব নিয়ে চিন্তা করতাম না।।কেউ কিছু বললে মন খারাপ হইত কিন্তু পরে ভুলে যেতাম।।কাউকে বলতাম না।।না স্বামীকে বলতাম আর না মা বাবাকে।।কাউকেই বলতাম না।।এখন আস্তে আস্তে এটা বড় আকার ধারন করছে।।।এখন কে কি বললো না বললো এগুলো সারাদিন মাথায় ঘুরে।।কে আমার সাথে কি করল না করল তা নিয়ে চিন্তা করি।।আগে যেমন আমার দোষ ধরা হইত।।এখনো হয়।।এখন আমিও অন্য কারো দোষ ধরি।।কে আমাকে কি বললো তাতে আমার সমস্যা নাই।।।আমি মাপ করে দেই।।কিন্তু আমি যে অন্য কারো দোষ ধরি এটা নিয়ে আমার যত অশান্তি।।দোষ তো ধরিই সাথে কেন বললো বা করলো তা নিয়ে স্বামীকে বলি।।আমার মাকে বলি।।।আবার কেউ কিছু বললে সাথে সাথে রাগ উঠে যায়।।।খারাপ আচরন করি।।।কিন্তু তার কয়েক সেকেন্ড পর বুজি এটা উচিত হয় নাই।।।তার কাছে লজ্জায় ক্ষমা চাইতে পারি না।।কিন্তু মনে মনে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি।।আল্লাহর কাছে মাপ চাই।।কিন্তু এই যে কারো সাথে খারাপ আচরন করি এটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।।।(1)আমি কেন এমন করি??

আমি আগের মত সবার সব দোষ ভুলে যেতে চাই।।আরেকটা কারন আছে।।।আমার দুইটা বাচ্চার সমস্যা হয়েছে।।।আমার ধারনা এটা আমার উপর বদনজরের কারনে হয়েছে।।কারন ডাক্তার,কবিরাজ কোন বড় সমস্যা পায় না।।।এরপর থেকেই আমার চিন্তায় বেশি সমস্যা হচ্ছে।।।আবার দেখি আমি আমল করি তাতে আমার শশুড় বাড়ির লোকেরা বলে আমি আমল করতে পারি তারা পারে না।।আবার কেউ বলে আমি আগের চেয়ে ৮গুন বেশি করি।এরপর থেকেই আমলে মনোযোগ আসে না।।তাই মনে হয় বদনজর লাগে।। এই জন্য সবার উপর বেশি রাগ হয়।।। আমি নিজেই কেমন জানি আচরন করি।।আমার কাছেই ভালো লাগে না।।।আমি কি করতাম??

(২)ওস্তাদ কিভাবে এ থেকে পরিত্রাণ পাবো???খুব অশান্তিতে আছি।।বার বার দোয়া করি এ থেকে পরিত্রাণ পাইতে।।হচ্ছে না।।

আমার শাশুড়ি অসুস্থ উনাকে কম খাওয়া উচিত।।তাই সে কম খেলে বা উনাকে কম দিলেই আমার শান্তি কিন্তু একটু বেশি খেলেই আমার কেন জানি ভালো লাগে না।।আর এটা কেউ ভালো ভাবে দেখে না।।উনি বেশি খেলে অসুস্থও হয়ে যায়।।এটা কি আমার সমস্যা নাকি।।সবাই জানে কিন্তু তারপরও ভুল বুজে।।।

আমারই  মনে হচ্ছে আচরনে সমস্যা আমি বুজাতে পারি না।।মানুষ যে ভুল বুজে আমি তাতে রাইগা যাই।।।আমি নিয়ত করি বার বার মুখে বলি যে আল্লাহর জন্য করতেছি।।কিন্তু আবার কেমন জানি কেউ কিছু বললেই উল্টে যাই।।।

(৩)কেন এমন হচ্ছে??

আমার ননাস কিছু মাছ রান্না করে দিয়েছেন।।বলে এগুলো উনার ভাইকে রান্না করে দিয়েছেন।।এখন আমার রাগ হচ্ছে।।এই মাছ আমি খাবো না।।কারন উনার ভাইকে না দিয়ে তো আর খাবো না।।বললো কেন উনার ভাইকে দিয়েছে তাই আমার রাগ হয়েছে।।।

(৪)এই আচরন টা কি ঠিক??সঠিক চিন্তা কি???

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ইহ-পরকালীন সকল বিষয়ে ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার হুকুম প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اسْتَعِينُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ، 
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৩)। 

অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ)-কে আদেশ করেন, ‘জেনে রেখো অবশ্যই সাহায্য ধৈর্যের সাথে রয়েছে’।

ইসতিক্বামাত তথা দ্বীনের উপর অটল থাকার ব্যাপারে ধৈর্য বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ছাহাবায়ে কেরাম যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে দ্বীনের উপর অটল থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন, তার বড় কারণ ছিল ধৈর্য।

মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ، 

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর। পরস্পরে দৃঢ় থাক এবং সদা প্রস্ত্তত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/২০০)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(১-৩)
আপনি সর্বদা এসব বিষয় নিয়ে ভাবেন, তাই আপনার মাথায় এরকম চিন্তা ভাবনা আসছে। এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে নিজের আখেরাতকে সাজানোর ফিকিরে থাকবেন। সর্বদা আখেরাতের চিন্তা করবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ এসব চিন্তা দূর হয়ে যাবে।

প্রয়োজনা মাহরাম পুরুষকে নিয়ে মাস্তুরাত জামাতে কিছুদিনের জন্য যেতে পারেন।

(০৪)
এই আচরণ সঠিক।
মাছ যেহেতু আপনাদের বা আপনার স্বামীকে খেতে দিয়েছে সুতরাং তা হতে আপনিও খেতে পারবেন এতে কোন সমস্যা নেই।

আপনার জন্য কিছু আমলঃ-
আপনি ধৈর্যধারণ করবেন,যাহা চাওয়ার তাহা নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে চাইবেন,ভালো ফলাফলের চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করবেন,নিয়মিত নামাজ শরীয়তের বিধান মেনে চলবেন, 
হতাশ হবেননা।

ধৈর্যধারণ করবেন,ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনার পদচুম্বন করবে।

নিম্নোক্ত দোয়া করতে পারেনঃ-
ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, হাসান বাছরী (রহঃ) দো‘আ করতেন,
 اللهم أنت ربنا، فارزقنا الاستقامة
 ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রব। তুমি আমাদেরকে তোমার অটল থাকার তাওফীক দাও’।
(ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা হা-মীম সাজদা ৩০ আয়াত।)
,
★আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে বলেন, তুমি বল,
اللَّهُمَّ اهْدِنِىْ وَسَدِّدْنِىْ  

‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুপথ প্রদর্শন কর এবং আমাকে সরল পথে পরিচালিত কর। আর তুমি সুপথের সংকল্প কর এবং সঠিক পথে স্থির থাক, যেভাবে তীর তার লক্ষ্যে স্থির থাকে।
(মুসলিম হা/২৭২৫; মিশকাত হা/২৪৮৫।)

আপনার মন অশান্তিতে আছে।এ জন্য আপনি নিয়মিত ধারাবাহিক আল্লাহর যিকির করতে থাকুন-দেখবেন মন শান্ত হবে।
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।(সূরা রা'দ-২৮)

আরো করণীয়ঃ-

★আল্লাহর জিকির (স্মরণ) হলো প্রশান্তির মূল উৎস।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
“জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।”
(সূরা রা’দ, আয়াত ২৮)

যখন মন অশান্ত বা উদ্বিগ্ন হয়, তখন নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া বা তাসবীহ পড়া,মানসিক চাপ দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সকালে ও বিকেলে আযকারুল সাবাহ ওল মাসা পড়া

“لا حول ولا قوة إلا بالله” (লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) বেশি পড়া

নামাজে মনোযোগী হওয়া

★ তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা)

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।”
(সূরা আত-তালাক, আয়াত ৩)

যখন আমরা বুঝি যে ফলাফল আল্লাহর হাতে, তখন ব্যর্থতার ভয় বা চিন্তা অনেক কমে যায়।
তাওয়াক্কুল মানে কাজ ছেড়ে দেওয়া নয় — বরং পরিশ্রমের পর ফলাফলের চিন্তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।

নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করো
তারপর বলবেন: “হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু”

ফলাফল যা-ই আসুক, শান্ত চিত্তে মেনে নিবেন।

★নামাজ ও দোয়ায় মন প্রশান্ত করা

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

 اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ
“ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।”
(সূরা আল-বাকারা, ৪৫)

যখন মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা ভয় হয় — তখন নামাজ পড়া, সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে কেঁদে নেওয়া, নিজের মনের কথা বলা — এটি এক বিশাল “রিলিজ”।

 বিশেষ দোয়া:

“اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، وأعوذ بك من العجز والكسل…”
(হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুঃখ ও উদ্বেগ থেকে...)
( সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩৬৯)

★কদরে বিশ্বাস (তাকদিরে সন্তুষ্টি)

 قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا
“বলুন, আমাদের কেবল সেই ঘটনাই ঘটবে যা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।”
(সূরা আত-তাওবা, ৫১)

জীবনের যা ঘটে, ভালো বা খারাপ — সবই আল্লাহর নির্ধারিত পরীক্ষা।
এই বিশ্বাস রাখলে — অতীতের অনুশোচনা, ভবিষ্যতের ভয়, বর্তমানের দুশ্চিন্তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়।

★পরিমিত জীবন ও দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমানো

চাপের মূল কারণ অনেক সময় হয় —
“লোক কী বলবে?”, “আমি আরও বেশি চাই”, “আমার জীবন কেন ওদের মতো না?”

নবী ﷺ বলেছেন:

انظروا إلى من هو أسفل منكم، ولا تنظروا إلى من هو فوقكم
“তোমরা তাদের দিকে তাকাও যারা তোমাদের চেয়ে নিচে অবস্থানে আছে,
তাদের দিকে নয় যারা তোমাদের চেয়ে উঁচু অবস্থানে।”
(সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৬৩)

★অন্যকে সাহায্য করা।
অন্যকে উপকার করা মানসিক শান্তির অসাধারণ উপায়।
নবী ﷺ বলেছেন:

أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে, যে অন্যদের উপকারে আসে।”
( মু’জামুল আওসাত, হাদীস ৬১৯২)

অন্যের কষ্ট লাঘব করলে নিজের মনও শান্ত হয়।

★পর্যাপ্ত ঘুম, পবিত্র খাবার, এবং একাকী সময়

ইসলামে শরীর ও মনের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবী ﷺ মাঝেমধ্যে নিঃশব্দে একাকী সময় কাটাতেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...