আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
37 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (6 points)
আসসালামু আলাইকুম।
এক মহিলার  স্বামী,  ব্যবসায় ইনভেস্ট  এর কথা বলে এক লোকের থেকে  ২ লাখ টাকা আনে। ( ব্যবসায় ইনভেস্ট  মানে প্রতি  মাসে মাসে ঐ টাকার ওপর কিছু  পরিমান টাকা দিতে হবে)  কিন্তু  মহিলার  স্বামী  ঐ টাকা ব্যবসায় ইনভেস্ট  করেনি। ঐ টাকা  বাইক কেনার জন্য  রাখছে, এবং  নিজের  সাংসারিক  সহ সকল প্রয়োজনে ঐ টাকা  থেকে  খরচ করছে। একেই তো যার থেকে  টাকা আনছে তার  সাথে প্রতারণা  করা হচ্ছে কারন ব্যাসসায় তো ঐ টাকা  ইনভেস্ট  করে নাই। আবার  প্রতি  মাসে  মাসে  কিছু  টাকা নিজের  হাত থেকে  ঐ লোককে দিতে হবে। এইটা কি সুধ  হবে না???  যে টাকাটা আনছে ঐটা কি সুধের ওপর আনা হয়েছে  না??????

আমার প্রশ্ন  হচ্ছে  ঐ  টাকা কি সুধের ওপর আনা হয়েছে  নাকি???? এবং ঐ টাকা  থেকে  যদি মহিলার জন্য , সংসারের  জন্য  ব্যায় করে তাহলে এটা কি হালাল হবে নাকি???  মহিলার ভরনপোষণ  করা তো স্বামীর দায়িত্ব , ঐ টাকা  থেকে  যদি  মহিলাকে ভরনপোষণ  দেয় তাহলে কি এইটা ঐ মহিলার  জন্য  হালাল  হবে??????

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

যদি স্বামী প্রয়োজনীয় ভরণ পোষণ আদায় না করে, তাহলে স্বামীকে না জানিয়ে তার কাছে থেকে প্রয়োজনীয় খরচ নেয়া জায়েজ আছে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَخَلَتْ هِنْدٌ بِنْتُ عُتْبَةَ امْرَأَةُ أَبِي سُفْيَانَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ، لَا يُعْطِينِي مِنَ النَّفَقَةِ مَا يَكْفِينِي وَيَكْفِي بَنِيَّ إِلَّا مَا أَخَذْتُ مِنْ مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمِهِ، فَهَلْ عَلَيَّ فِي ذَلِكَ مِنْ جُنَاحٍ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذِي مِنْ مَالِهِ بِالْمَعْرُوفِ مَا يَكْفِيكِ وَيَكْفِي بَنِيكِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হিন্দা বিনত উতবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। তিনি আমার এবং আমার সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় খরচাদি প্রদান করেন না। তবে আমি তার অজ্ঞাতেই তার সম্পদ থেকে প্রয়োজনীয় খরচাদি গ্রহণ করে থাকি। এতে কি আমার কোন দোষ (পাপ) হবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তার সম্পদ থেকে তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হয় এমন সঙ্গত পরিমাণ নিতে পার। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭১৪, ইফাবা-৪৩২৮]

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: قَالَتْ هِنْدٌ أُمُّ مُعَاوِيَةَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ، فَهَلْ عَلَيَّ جُنَاحٌ أَنْ آخُذَ مِنْ مَالِهِ سِرًّا؟ قَالَ: «خُذِي أَنْتِ وَبَنُوكِ مَا يَكْفِيكِ بِالْمَعْرُوفِ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুআবিয়া (রাঃ) এর মা হিন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) একজন কৃপন ব্যাক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল থেকে গোপনে কিছু গ্রহন করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজনানুসারে যথাযথভাবে গ্রহন করতে পার। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২২১১,ইফাবা-২০৬৯]

স্বামীর উপার্জন হারাম হলে এক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য মাসয়ালাঃ
স্বামীর উপার্জন ছাড়া নিজস্ব হালাল সম্পদ দিয়ে চলা যদি স্ত্রীর পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে স্বামীর হারাম টাকা নেয়া বৈধ হবে না।

আর যদি স্ত্রীর আলাদা কোন উপার্জন না থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় অর্থ নেয়া জায়েজ হবে। সেই সাথে স্বামীকে সর্বদা হারাম ছেড়ে দিয়ে হালাল উপার্জন করতে তাকিদ দিতে থাকবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে ওই টাকা হতে যেহেতু প্রতি মাসে ওই ব্যক্তিকে কিছু টাকা লাভ দিতে হচ্ছে। সুতরাং এটি স্পষ্ট সুদ। এক্ষেত্রে তার স্বামীর সুদ প্রদানের গুনাহ হবে।

ওই মহিলার স্বামী যদি হারাম টাকায় তার এই ঋণ পরিশোধ করে, তাহলে ঋণের সেই টাকাও হারাম টাকা বলে বিবেচিত হবে। তাই উক্ত টাকা হতে ভরণপোষণ ইত্যাদি সবই হারাম হবে।  তবে স্ত্রীর জন্য তা হতে ভরণপোষণের মাসয়ালা হলোঃ-

স্ত্রীর যদি আলাদা কোন উপার্জন না থাকে, তাহলে স্বামীর হারাম অর্থ হতে ভরনপোষণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ নেয়া জায়েজ হবে। 

সেই সাথে স্বামীকে সর্বদা হারাম ছেড়ে দিয়ে হালাল উপার্জন করতে তাকিদ দিতে থাকবেন।

আর যদি তার স্বামী ঋণের উক্ত টাকা হালাল টাকা হতে পরিশোধ করে, তাহলে তো সেই টাকা সম্পূর্ণ হালাল। তাই সেই টাকা হতে সংসারে খরচ করা হলে, অন্যান্য কাজে খরচ করা হলে,এতে কোন সমস্যা নেই।

সবই হালাল।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...