আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
38 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (9 points)
আচ্ছালামু আলাইকুম,
আমি একজনকে ব্যাবসা করার জন্য টাকা দিয়েছি এবং এই শর্তে যে তোমার ব্যবসায় যে টাকা লাভ হবে সেই টাকার ২৫% আমাকে দিতে হবে। কিন্তু সে এই শর্তে রাজি নয়। সে আমাকে বলে এভাবে আমাদের হিসাব করতে ঝামেলা হয় তাই তোমাকে আমি একটি নির্দিষ্ট টাকা দিব এবং দেয়। সর্বশেষ মাসে ৪০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে  ৪০০০ দিয়েছে  অর্থাৎ সে  আমাকে নির্দিষ্টভাবে টাকা দিচ্ছে।
এখন তার দেওয়া টাকা আমার ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। এই একাউন্টে আমার ব্যক্তিগত টাকাও ছিল এবং তার দেওয়া টাকাও রয়েছে আমি এই অ্যাকাউন্ট থেকে মাঝে মাঝেই টাকা তুলি এবং খরচ করি। সে আমাকে যেহেতু নির্দিষ্ট ভাবে টাকা দিয়েছে তাই আমার মনে হচ্ছে এই টাকা সুদ হয়েছে। তার এই টাকা আমাকে ব্যাংকে পাঠিয়েছিল এবং আমি সেই একাউন্ট থেকে মাঝে মাঝে টাকা তুলেছি খরচ করেছি কিন্তু তার দেওয়া টাকার পরিমান টাকা এখনো আমার একাউন্টে রয়েছে। তাই আমি যদি এই টাকা কোন সওয়াবের আশা ছাড়া আমার মা বাবাকে দান করে দিই তাহলে কি হবে? বা কি করলে সুদ থেকে মুক্ত হতে পারবো তো আমাকে বলুন?  আমি যদি আল্লাহর কাছে মাফ চাই তাহলে কি ওই টাকা আমি খেতে পারব?

1 Answer

0 votes
by (750,000 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
একজনের টাকা এবং অপরজনের শ্রম, এরকম ব্যবসাকে শরীয়তে মুদারাবাহ ব্যবসা বলা হয়। মুদারবাহ ব্যবসা বৈধ। তবে শর্ত হল, পার্সেন্টিস হিসেবে চুক্তি হতে হবে। 

পার্সেন্টিছ হিসেবে উভয় চুক্তিকারী নিজ নিজ হিসসায় যতটুকুর জন্য সম্মত হবে, তারা ততটুকুই মুনাফা পাবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা বস্তুকে নির্দিষ্ট  করা জায়েয হবে না। 
قال صاحب الهداية: (وَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُونَ الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدُهُمَا دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً) مِنْ الرِّبْحِ لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يَقْطَعُ الشَّرِكَةَ بَيْنَهُمَا وَلَا بُدَّ مِنْهَا كَمَا فِي عَقْدِ الشَّرِكَةِ.(الهداية-3/226)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যদি মুদারাবার শর্ত মতে সে আপনাদেরকে মুনাফা দেয়, তথা আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় যদি শরীয়তের বিধান মত পার্সেন্টেজ আকারে চুক্তি হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদেরকে সে যে মুনাফা দেবে, সেই মুনাফা আপনাদের জন্য জায়েয হবে।  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/12438

কিন্তু নির্দিষ্ট এমাউন্টের মুনাফা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নির্দিষ্ট এমাউন্টের মুনাফা জায়েয হবে না। সেগুলো সদকাহ করতে হবে। আপনার মা বোন গরীব হন, তাদের যদি অক্রমবর্ধমান নেসাব পরিমাণ মালও না থাকে, তাহলে তাদের ঐ ৪ হাজার টাকা দিয়ে দিতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...