আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
34 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহ। আমার বিয়ে হয়েছে ১৬ বছর বয়সে। আমি তখন মোহরানা কী জিনিস তা বুঝতাম না। পরবর্তীতে জানতে পারি আমার মোহরানা ছিল ৩লাখ টাকা। আমি জানতে পারলাম, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে দিলে মোহরানা আদায় হয়ে যায় যদি স্ত্রী সেটাই গ্রহণ করে নেয়। আর মোহরানা কেবল মেয়ে নিজে যতটুকু চাইবে ততটুকু দিতে হবে। আমি আমার বাবা মাকে না জানিয়েই উনার কাছ থেকে ৩হাজার ১০০ টাকা নিই,যদিও তিনি কেবল ৩হাজার দিয়েছিলেন,পরবর্তীতে বাকি ১০০টাকা মোহরানার নিয়তে দিয়েছিলেন কিনা জানিনা,তবে পরবর্তীতে উনার তরফ থেকে পাওয়া একটা ১০০টাকাকে আমি মোহরানার টাকা হিসেবে নিজে নিজে গ্রহণ করে নিই।

তখন বয়স কম থাকায় কাবিননামা তৈরী করা হয়নি। এ বছর কাবিননামা তৈরী করা হয়।সেখানেও আব্বু ছিল বলে ৩লাখই লেখা হয়।আমি আর মুখ দিয়ে কিছু উচ্চারণ করিনি। উনি আর আমি দুজনেই সাইন করি(আর আমি নিজে নিজে মোহরানা গ্রহণ করি বিয়ের প্রায় মাসখানেক পরেই।প্রায় ৩বছর আগে)।

প্রশ্ন হচ্ছে,বিয়ের ৪বছর হয়েছে এখন। আমি কি এখন উনাকে ৩হাজার ১০০টাকা ফেরত দিয়ে বলতে পারব, মুরুব্বিরা যা কাবিন করেছেন,আমি সেটাই মানি। এই কাবিন আমি মেনে নিবোনা?

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়েতে মোহর অপরিহার্য,এটা স্ত্রীর হক।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  

واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

 ★মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং স্বামী যেমন স্ত্রীকে মোহর থেকে বঞ্চিত করতে, কিংবা পরিশোধ করার পর ফেরত নিতে পারে না তেমনি পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়ার মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হবে।

আরো জানুনঃ 

https://ifatwa.info/6833/  নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  
واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

واتوا النساء صدقاتهن نحلة فان طبن لكم عن شيئ منه نفسا فكلوا هنيئا مرئيا

এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে  দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর।-সূরা নিসা : ৪
,
★সুতরাং মোহরানা যদি স্ত্রী সন্তুষ্টি চিত্তে মাফ করে দেয়,বা কমিয়ে দেয়,তবেই সেটা জায়েয হবে।
,
অন্যায় ভাবে অন্যের সম্পদ যেমন গ্রাস করা হালাল নয়,জোড় কাহারো থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া যেমন হালাল নয়,ইহার দ্বারা যেমন ছিনতাইকারী/জালেম যেমন উক্ত টাকার উপর যেমন মালিক হয়না,তেমনই জোড় করে স্ত্রীর কাছ থেকে মোহরানা মাফ করে নিলে বা কমিয়ে নিলে সেটাও হালাল নয়।
হারাম।
,
এর দ্বারা মোহরানা মাফ বা কমানো হবেনা, মহান আল্লাহর কাছে এর জবাবদিহি করতে হবে।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

وَعَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।

(আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২। মিশকাত শরীফ ২৯৪৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার বিবাহের মোহরানা ধার্য করা হয়েছিল তিন লক্ষ টাকা।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার স্বামী হতে তিন হাজার ১০০ টাকা নিয়েছিলেন।

এক্ষেত্রে আপনি কি বাকি টাকা সন্তুষ্টি চিত্তে বুঝে শুনে স্বামীকে মাফ করে দিয়েছিলেন কিনা?

যদি এমনটি না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনি অবশিষ্ট টাকা পাওয়ার হকদার।

আপনি এখনো আপনার স্বামী হতে ২ লক্ষ ৯৬ হাজার নয়শ টাকা পাওয়ার হকদার।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...