আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ উস্তাদ।
আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়শোনা করেছি। আমার সেক্টরের কম বেশি সব কাজই ঘুষের সাথে জড়িত। প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে ঘুষের লেনদেন সংক্রান্ত কাজে জড়িয়ে পরতে হয়। এক একটা প্রজেক্ট ঘুষ ছাড়া পাস হয় না। এই বিল সবার একাউন্টে যায়। আর চাটুকারিতা ছাড়া চাকরিতে টিকে থাকা কষ্টের এটাও উপলব্ধি করেছি। আমি ২টা চাকরি এভাবে কিছুদিন করে করে বাদ দিয়েছি, বর্তমানে শিক্ষকতা করছি। কিন্তু এই পেশায় কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটা স্টুডেন্ট আজ আছে তো কাল নেই। আমি পারিবারিক ভাবে উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। কিন্তু আমার এই হালাল হারাম বেছে চলায় আমার ইনকামের রাস্তা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে। আমি পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। যেই জবেই যাই না কেনো, দুই নাম্বারি আর ঘুষের ব্যাপার আছেই। আমার বেদ্বীন পরিবার এসব ব্যাপারে আমাকে মানসিক চাপের সম্মুখীন করছে যাতে আমার হতাশা বেড়ে আমি দ্বীন থেকে গাফেল হয়ে যাচ্ছি। আমি বাইরের দেশে যেতে চাচ্ছি। আমার কিছু আত্মীয় আছে বিদেশে, তারা আমাকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন । সেখানে অন্তত এই ঘুষের ব্যাপারটা নেই। আর আমি আমার পারিবারিক অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশে যে কোনো জবে ঢুকতে পারি না,যেটা বাইরের দেশে করা সম্ভব । বাইরে কেউ দোকানে ক্যাশ কাউন্টারে বা ক্যাব চালিয়েও ভালো ইনকাম করতে পারে, বাইরে এগুলো আত্মসম্মানে আঘাত হানে না, যেটা আমি এখানে করলে মানসিক ভাবে ভেংে পড়বো পারিবারিক চাপে। আমি বিবাহিত, স্ত্রীও দ্বীনদার। আমি বাইরে যাওয়ার কথা বললে আমাকে বাধা দেয়। বলে কাফের দেশে যাওয়া হারাম। তবে আমার দেশও তো নামে মাত্র মুসলিম দেশ, অথচ এটাও সেকুলার রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। সব আইনকানুন সেকুলার নিয়ম অনুযায়ী হয়। এক্ষেত্রে আমার দেশে বসে ভালো আর হালাল আয় রোজগারের পথ সংকীর্ণ লাগে। আমি কি স্ত্রীকে নিয়ে বাইরের দেশে জীবিকার উদ্দেশ্যে যেতে পারবো? আমার পরিস্থিতি অনুযায়ী কি সেটা হারাম হবে? আর আমি যদি স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে না যাই, প্রথমে কিছু আয়রোজগার করে পরবর্তীতে কোনো মুসলিম দেশে শিফট হওয়ার নিয়ত রেখে যাই তবে কি তা জায়েজ হবে? আর কোনো অমুসলিম দেশে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয়.. এতে কি আমি গুনাহগার হবো? সবদিক বিবেচনা করে আমার জন্য কোন জিনিসটা করা ঠিক হবে?