অমুসলিমরা যাতে ইসলাম গ্রহণ করে, হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এ ধরনের দোয়া করা যাবে।
এ ধরনের দোয়া করা জায়েজ এবং উত্তম। রসূল (সা.) এ ধরনের দোয়া করেছেন
হাদিস শরিফে এসেছে,
ইবনে উমর (রা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূল (সা.) বলেছেন:
‘হে আল্লাহ্! এই দুই জন লোকের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার কাছে অধিক প্রিয় তার মাধ্যমে আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন: আবু জেহেল কিংবা উমর বিন খাত্তাব।’ [সুনানে তিরমিযি; হাদিস: ৩৬৮১]
তবে অমুসলিমদের জন্য গুনাহের ক্ষমা প্রার্থণা করা কিংবা এ-জাতীয় কোন দোয়া করা জায়েজ নেই।
আলেমগণের ইজমার ভিত্তিতে এটি হারাম।
ইমাম নববী বলেন: ‘পক্ষান্তরে, কাফেরের জন্য রহমত প্রার্থনা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এটি কুরআনের দলিল ও ইজমার ভিত্তিতে হারাম।’ [আল-মাজমু ৫/১২০]
আল্লাহ তাআলা বলেন-
مَا كَانَ لِلنَّبِیِّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْ یَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِیْنَ وَ لَوْ كَانُوْۤا اُولِیْ قُرْبٰی مِنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ
“নবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের পক্ষে মুশরিকদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা সংগত নয়, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন হলেই বা কি এসে যায়, যখন একথা সুষ্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামেরই উপযুক্ত।”(সূরা আত তওবা : ১১৩)
পরিবারের কেউ মুরতাদ হয়ে গেলে এবং আল্লাহ ও রাসূলের ব্যাপারে খারাপ কথা বললে, তার হিদায়াত এর জন্য দুয়া করা যাবে।
তার সাথে পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে।
প্রথম করণীয়: নরমভাবে দাওয়াত ও উপদেশ
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
অনুবাদ "তুমি প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে তোমার প্রভুর পথে আহ্বান করো।" (সূরা নাহল: 125)
পরিবারের জন্য প্রথম দায়িত্ব হলো — ভালোবাসা, দুঃখ ও করুণার সাথে তাকে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা।
তর্কাতর্কি নয়, বরং যুক্তি, কুরআন-হাদীস ও তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে সত্যকে বুঝিয়ে বলা।
এতে কাজ না হলে, বরং এরপরেও সে আল্লাহ ও রাসূলের ব্যাপারে খারাপ কথা বললে তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়ার পরামর্শ থাকবে।
★তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার সীমাঃ
যদি সে শত্রুতা না করে, তবে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে সম্পর্ক রাখা যায়।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
অনুনাদ "যারা ধর্মের কারণে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়নি, আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না যে, তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করবে এবং ন্যায়বিচার করবে।" (সূরা মুমতাহিনা: 8)
তবে ঈমান ও আকীদার বিষয়ে তার সমর্থন বা সহযোগিতা করা যাবে না।
★ইবাদাত ও সামাজিক আচরণের সীমা।
তার সাথে ইসলামিক ইবাদাত যেমন— জানাযা, দোয়া, ইসলামী উত্তরাধিকার ইত্যাদি সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, যতক্ষণ না সে তওবা করে।
হাদীস:
"মুসলিম কাফেরকে উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফেরও মুসলিমকে উত্তরাধিকারী হয় না।" (বুখারী, মুসলিম)
★তওবা ও ফেরার সুযোগ।
যদি সে আন্তরিকভাবে তওবা করে, শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করে — তাহলে পূর্বের অবস্থা ফিরে আসবে।
তওবা গ্রহণের শর্ত:
1. কুফর থেকে সরে আসা
2. ঈমান ও ইসলামী আকীদা পুনরায় গ্রহণ
3. আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।