আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
18 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
এক বোনকে হাদিয়া দেওয়ার নিয়্যাত করেছিলাম। এবং হাদিয়া অর্ডারও করে ফেলেছিলাম, যদিও আমার ব্যাগে টাকা আছে কিনা আমি জানতাম না। টাকা গুনলে বারাকাহ্ নষ্ট হয়,তাই আমি কখনোই টাকা গুনি না। জাস্ট না দেখেই ব্যাগে হাত দিই। তো আল্লাহর কাছে দুআ করছিলাম যেন ব্যাগে টাকা থাকে,কারণ আমি অর্ডার করে ফেলেছিলাম। বিসমিল্লাহ বলে হাত দিয়ে দেখি হাদিয়া দেওয়ার জন্য যা টাকা লাগবে, বরাবর তাই আছে! এরপর ব্যাগে আর টাকা আছে কিনা আমি দেখিনি তখন। আমার হাতে হাদিয়ার সমপরিমাণ টাকাই উঠে এসেছিলো। অথচ আমি সেইম পরিমাণ টাকা অনেক আগে রেখেছিলাম। ওই টাকা থেকেই সদকাহ্ করেছি,খরচ করেছি। কিন্তু কমেনি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিলেন। এগুলো দুইদিন আগের কথা। আমি কখনোই টাকা গুনি না। অন্যকে দেওয়ার প্রয়োজনে বা ভিন্ন জরুরতে গুনতে হলে গুনি। খাবার কতটুকু আছে, তা পরিমাপ করি না। এগুলো বারাকাহ্ নষ্ট করে। টাকা গুনে না রাখার অভ্যাসের কারণে এমনও হয়েছে যে,আম্মু ৫০০ টাকা দিয়েছেন। আমি খরচ করতে করতে ২ হাজার টাকার মতো বারাকাহ্ পেয়েছি। তবুও হাত দিয়ে দেখি টাকা আছে। ওই টাকাগুলো কত টাকা, সেটাও অবশ্য কখনোই দেখি না। আজকে ভেবেছিলাম আমার সদকাহ্-র টাকা শেষ। তো ব্যাগে আবারও হাত দিলাম। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্! আমি যতটুকু সদকাহ্-র নিয়্যাত করেছিলাম, তত টাকাই পেয়েছি। এই ব্যাপারগুলো অনেকের কাছে নিছক কিচ্ছা লাগবে,কিন্তু এসবের কোনোটাই মিথ্যা না। আল্লাহ বারাকাহ্ দিলে আমি আটকাবো কিভাবে! একটা হাদিস পড়েছিলাম। রেফারেন্স মনে নেই এখন৷ হাদিসটা আম্মিজান আয়িশাহ্ রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর ওনার রেখে যাওয়া খাদ্য( সম্ভবত সোয়া কেজি আটা) ছিলো বাড়িতে। বহুদিন খাওয়ার পরও আটা শেষ না হওয়াতে আম্মিজান আয়িশাহ্ আটাগুলো মেপে দেখছিলেন। মাপার পর পর অল্পদিনের মধ্যে আটা শেষ! হাদিসটা জানার পর থেকে আমি এই হাদিসের উপর আমল করার চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ। আমার বাসায় ১ কেজি আপেল দুইদিনেই ফুরিয়ে যায়। একদিন আমি হাফ কেজি আপেল কিনেছিলাম। কালো পলিতে মুড়ানো ছিলো৷ কয়টা আছে না গুনে জাস্ট বিসমিল্লাহ বলে পলিতে হাত দিতাম, সবাই মিলে খেতাম। সুবহানআল্লাহ! হাফ কেজি আপেল ১ সপ্তাহের বেশি ধরে খেয়েছি আমরা। আমার বাসায় যখনই কোনো খাবার ভাগ করার প্রয়োজন পড়ে,তখন আমাকে দিয়ে ভাগ করানো হয়৷ তারা বিশ্বাস করে, আমি ভাগ করে দিলে বারাকাহ্ আসে৷ কিন্তু সত্য তো এটাই যে,আমি মেপে দেখা,গুনে দেখা থেকে বিরত থাকি বলে বারাকাহ্ নষ্ট হয় না। সামান্য দিয়েও অনেক কল্যাণ হাসিল করা সম্ভব হয় আলহামদুলিল্লাহ। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্! অনেকেই রিজিকে বারাকাহ্ পান না। তাদের জন্যই শেয়ার করলাম। শুধুমাত্র হাদিসটা শেয়ার করলে এড়িয়ে যেতেন হয়তোবা৷ তাই নিজের গল্প বললাম। এই হাদিসটার উপর আমল করে দেখুন। আল্লাহর পথে হিসাব ছাড়া খরচ করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আপনাকেও হিসাব ছাড়া দিবেন। অঢেল বারাকাহ্ দিবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে,

১/ উপরে যা লিখা আছে তাতে কি কোন সমস্যা আছে নাকি সব ঠিক আছে, এমন কি করা উচিত?
২/ টাকা বা যেকোন কিছুর ক্ষেত্রে কি এরমক করা যাবে কিনা, কোনটা উচিত?
৩/ খাবার দাবারে ব্যাপারে কি এমনটা করা উচিত?

1 Answer

0 votes
by (604,290 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবিকা থেকে বরকত দূরীভূত হওয়ার কিছু কারণঃ-

পাপাচার : গুনাহের কারণে যেমন মানুষের আজাব-গজব নাজিল হয়, তেমনি জীবিকার বরকত দূরীভূত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বরকত (কল্যাণ ও প্রাচুর্য) উন্মুক্ত করে দিতাম।

কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের শাস্তি দিয়েছি।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)

প্রতারণা ও ধোঁকা : মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলে এবং তাদের ধোঁকা দিলে সম্পদের বরকত চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের এখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং (পণ্যের) অবস্থা ব্যক্ত করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে।

আর যদি মিথ্যা বলে এবং (পণ্যের) দোষ গোপন করে তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৭৯)

অধিক কসম খাওয়া : মানুষ নিজের কথাকে অন্যের কাছে বিশ্বস্ত করে তোলার জন্য কসম খেয়ে থাকে।

প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অধিক কসম খাওয়া উচিত নয়। মিথ্যা কসম খাওয়া বড় ধরনের পাপ, যার কারণে সম্পদের বরকত চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে অধিক কসম করা থেকে সাবধান থেকো। কেননা নিশ্চয়ই তাতে (মিথ্যা কসমে) বিক্রি বেশি হয় কিন্তু পরে (বরকত) ধ্বংস করে।’ (মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ২৭৯৩

সুদের আদান-প্রদান করা : সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানুষ সুদ গ্রহণ করে।

অথচ সুদের আদান-প্রদানে জীবিকার বরকত দূর হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিঃশেষ করেন ও সদকায় প্রবৃদ্ধি দান করেন...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৬)


নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করা : মহান আল্লাহ তাঁর অশেষ নিয়ামত দ্বারা আমাদের চতুর্দিক ঘিরে রেখেছেন। রিজিক তাঁর অন্যতম নিয়ামত। এসব নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে বরকত ও কল্যাণ লাভ করা যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তা হলে আমি অবশ্যই তোমাদের বেশি বেশি করে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে (মনে রেখো) নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

কৃপণতা ও ব্যয়কুণ্ঠতা : কৃপণতা মানুষকে পাপাচারে লিপ্ত করে, যা ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ।

প্রাপ্ত রিজিক ও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট না থাকা : আল্লাহ বান্দাদের জন্য রিজিক বণ্টন করে থাকেন। মানুষ আল্লাহপ্রদত্ত রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকলে তার জীবিকায় বরকত লাভ হয়।

অপচয় ও অপব্যয় : বাজে কাজে বা অপ্রয়োজনে খরচ করা হচ্ছে অপব্যয়। এটা মানুষের এক নিন্দনীয় স্বভাব, যার কারণে তার মধ্যে চৌর্যবৃত্তি, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, উেকাচ গ্রহণ ইত্যাদি দুশ্চরিত্রতা বিস্তার লাভ করে। এ জন্য ইসলাম এগুলো নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো। কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

জাকাত না দেওয়া : জাকাত আদায় করা ফরজ। অনেকে এটা জানা সত্ত্বেও তা আদায় করে না। ফলে ইহকালীন ও পরকালীন আজাব-গজব আপতিত হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতি জাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভূপৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকত তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

অন্যায় পথে সম্পদ আহরণ করা : হারাম উপায়ে সম্পদ অর্জন করলে তার বরকত দূরীভূত হয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সংগত পন্থায় সম্পদ অর্জন করে তাকে বরকত দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি অসংগত পন্থায় সম্পদ অর্জন করে সে এমন ব্যক্তির মতো যে আহার করে, কিন্তু তৃপ্ত হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৫২)
(কিছু তথ্য সংগৃহীত।)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
সমস্যা নেই। কাহারো ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে,তবে এমন বরকত সকলের ক্ষেত্রে হবেই, গ্যারান্টি দিয়ে এমনটি বলা যায় না।

(০২)
করা যাবে।

(০৩)
মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে এমনটি করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...