আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
33 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (20 points)
আস্সালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু উস্তাদ।

১)৩/৪দিন পর আমার হায়াজের ডেট ছিল। কিন্তু পরশুদিন থেকে হলুদ তারপর খয়েরি কিছু আসছিলো, তারপর হায়েজ দেখা গিয়েছে।এখন ২দিন আগ থেকে যে হলুদ ও খয়েরি স্রাব গিয়েছে এটা কী হায়েজ ধরবো?ওই দিন গুলোতে রোজা ছিলাম এখন কী আবার কাজা করতে হবে সেগুলো?

২)আমরা যারা শহরের বাসায় থাকি চুল, নখ কাটার পর মাটিতে পুঁতে রাখার জায়গা থাকেনা, সেক্ষেত্রে আমরা এগুলো কোথায় ফেলবো?

৩)আমি পরীক্ষা দেওয়ার পর বৃত্তি পেয়েছিলাম, ৯০%আমি নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষা দিয়েছিলাম বাকি সাহায্য নিয়েছিলাম, এখন এই বৃত্তির টাকা টা কী হালাল আমার জন্য? যদি না হয় এই টাকা কী করবো? গাজায় পাঠানো যাবে উস্তাদ?

৪)২আত্মীয়ের মাঝে দ্বন্ধ, উভয় বলে ওপর জনের টাকা হারাম, যার টা হারাম হওয়ার বিষয় এ প্রবল ধারণা উনার থেকে যদি হাদিয়া বা খাবার গ্রহণ না করি ওপর জনের থেকে করি উনারা আমাকে নিশ্চিত বলেছেন উনাদের টায় ভেজাল নেই ইনশাআল্লাহ তাহলে কী সেখানে হাদিয়া বা খাবার গ্রহণ করা যাবে?

৫)হায়েজ অবস্থায় কী মোবাইল থেকে কুরআন অনুবাদ পড়া যাবে? তখন শয়তান অনেক ধোঁকা দেয় এটা থেকে বাঁচার জন্য? তেলাওয়াত না করে?

৬) উস্তাদ নামাজে সিজদায় বাংলায় বা দুনিয়াবী কিছু চাওয়া যায়না শুনেছি, নফল সালাতে বাংলা চাওয়া যাবে?আবার অনেক আলেম বলেন বাংলায় চাওয়া যাবে এটা কী অন্য মাজহাব মতে উনারা বলেছেন?

1 Answer

0 votes
by (604,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
পূর্বের মাসের হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর দিন থেকে হিসাব করলে এটা যদি ন্যূনতম ১৫ দিন পরে এসে থাকে, সেক্ষেত্রে ২দিন আগ থেকে যে হলুদ ও খয়েরি স্রাব গিয়েছে এটাকে হায়েজ ধরবেন।ওই দিন গুলোতে যে রোজা ছিলেন, পরবর্তীতে এই রোজা গুলি আবার কাজা করতে হবে।

পূর্বের মাসের হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর দিন থেকে হিসাব করলে এটা যদি ১৫ দিনের আগেই এসে থাকে, সেক্ষেত্রে এটিকে ইস্তেহাজা ধরবেন।ওই দিন গুলোতে যে রোজা ছিলেন, সেই রোজা গুলির কাজা আদায় করতে হবেনা।

(০২)
এগুলো মাটির নিচে দাফন করা মুস্তাহাব, উত্তম।
মানুষ চলাচল করেনা,এমন স্থানেও ফেলে দেওয়া যাবে।  

প্রয়োজনে এগুলো সংরক্ষণ করে রেখে পরবর্তীতে সুযোগ মোতাবেক সবই দাফন করবেন।

আরো জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/41437/

(০৩)
এক্ষেত্রে করনীয় জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/103506/

(০৪)
তারা যেহেতু আপনাকে নিশ্চিত বলেছেন যে তাদের টাকায় ভেজাল নেই,সুতরাং এর বিপরীত প্রমাণিত না হলে তাদের হাদিয়া বা খাবার গ্রহণ করা যাবে।

(০৫)
হ্যাঁ, অনুবাদ পড়া যাবে।
তবে আয়াত এর উপর স্পর্শ করা যাবেনা।

আরো জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/114192/

(০৬)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন

إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ»

নিশ্চয় এ নামায; এতে মানুষের মুখে প্রচলিত কথা বলা উচিত নয়। নিশ্চয় এটি তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াতের স্থান। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৩৭] 

আপনি নামাযের বাহিরে বাংলায় দু'আ করবেন, অথবা আপনি আপনার অন্তরে সেই বিশেষ বিষয়কে উপস্থিত রেখে মুজমাল দু'আ যাতে দুনিয়া আখেরাতের সকল প্রকার কল্যাণ রয়েছে,যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ"  কুরআন-হাদীসে বর্ণিত এমন দু'আ করতে পারবেন।

নফল সালাতে বাংলায় দু'আ সম্পর্কে কেউ কেউ রুখসত দিয়ে থাকেন।

বিস্তারিত জানুনঃ   

নামাযের সেজদায় শুধুমাত্র কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দু'আ গুলোই করা যাবে।
সেজদায় গিয়ে سبحان  ربي الأعلى 
ছাড়াও অন্যান্য দোয়া পড়া যাবে। সমস্যা নেই। কিন্তু দুনিয়াবি দোয়া বা আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় দুআ করা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদায় অনেক দোয়া পাঠ করতেনঃ

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يَقُولُ فِى سُجُودِهِ « اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى ذَنْبِى كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ সেজদায় পড়তেন আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি’ কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু”। {তাহাবী শরীফ, হাদিস নং-১৩০৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৮৭৮, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-১১১২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং-৬৭২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-১৯৩১}
আরো জানুনঃ  
.
হানাফী মাযহাব অনুসারে যেকোনো ধরনের স্বলাতে অর্থাৎ ফরজ, সুন্নাত, নফল, বিতির স্বলাতে সিজদায় আরবি কুরআন হাদীসে বর্ণিত দু'আ করা যাবে,তবে বাংলায় দু'আ করা যাবেনা।
বাংলায় দু'আ করলে স্বলাত ভেঙ্গে যাবে। 

তবে নফল সালাতে বাংলায় দু'আ সম্পর্কে কেউ কেউ রুখসত দিয়ে থাকেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি সেজদায় বাংলায় দোয়া করতে চাইলে আপনার অন্তরে সেই বিশেষ বিষয়কে উপস্থিত রেখে মুজমাল দু'আ যাতে দুনিয়া আখেরাতের সকল প্রকার কল্যাণ রয়েছে,যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ"  কুরআন-হাদীসে বর্ণিত এমন দু'আ করতে পারবেন।

মুখে উচ্চারণ করে বাংলা শব্দ বলা যাবেনা।
মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে বলতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 164 views
0 votes
1 answer 230 views
...