আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
31 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
আসসালামু 'আলাইকুম,

১. পরিবারের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষ এবং আলেম বিদ্ধেষ আছে। এমন কি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন গুলো নিয়ে বা বিভিন্ন সহীহ হাদিস কেও অস্বীকার করার প্রবণতা আছে। এমতাবস্থায়,ধৈর্য ধরে থাকলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয় না। ১০ দিন ভদ্রভাবে পরিহার করলেও ১ দিন খুব রাগ লাগে, মাঝে মাঝে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে উঁচু গলায় কথা বলে ফেলি। আমি তো চেষ্টা করি, যথেষ্ট চেষ্টা করি নিজেকে সামলে রাখার কিন্তু মাঝে মাঝে পারি না। আমি কি এতো চেষ্টার পর ও গুনাহগার হয়ে যাব? উল্লেখ্য যে, এমন এমন কথা সহ্য করতে হয় যা যেকোন মুমিন নিতে পারবে না।

২. সালাত, রোজা নিয়ে নানা উদ্ভট কথা বাসার সবাই বলে। যেমন নামাজ না পড়লেও নামাজ মাফ হয়, আজানের অনেক পরেও তারা সাহরি খেতে থাকে, খেলে নাকি কিছু হয় না। আমি যখন বলি এসব এর বিপরীতে ভালোভাবে বলার চেষ্টা করি, কিন্তু আমাকে উল্টা boka দেয়, আর ভাবে এখনকার আলেম রা নতুন নতুন হাদিস বলে। আমার কি করা উচিত? এসব নিয়ে বলতে গেলে দেখা যায় আমারও ফিটনায় পড়ার চান্স থাকে, খুব রাগ লাগে। পরামর্শ চাই, আমার কি করা উচিত! আল্লাহ বলেছেন ভদ্রভাবে পরিহার করতে, আবার প্রকাশ করে দিতে, অসৎ কাজের নিষেধ করতে, কি করা উচিত কিভাবে করা উচিত জানি না। ইল্ম খুব কম আমার! বুঝি না কি করতে হবে।

৩. পারিবারিক সমস্যা বা কেউ কষ্ট দিলে, সে কষ্ট যদি স্বামীর সাথে শেয়ার করা হয়, সেটা কি গীবত! উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা না, নিজের কষ্ট এর কথা বলে হালকা হওয়া। উল্লেখ যে, গীবত পরিহার করার খুব চেষ্টা করি, অন্য কারুর সম্পর্কে কিছু বলি না, কিন্তু কোনো কষ্ট স্বামী কে না বলে থাকতে পারি না। মাঝে মাঝে ভাবি, এটা গীবত কিনা।

1 Answer

0 votes
by (604,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(১-২)
যেহেতু আপনার বুঝানোর পরেও তারা উল্টো আপনাকেই বকা দেয়, সুতরাং এক্ষেত্রে তাদেরকে আর বুঝানোর দরকার নেই।

আপনি আপনার নিজের মত চলবেন এবং যথা সম্ভব তাদেরকে এড়িয়ে চলবেন।

যখন ইসলামের এসব বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা করে,বিদ্বেষমূলক কথা বলে, আপনি সে মজলিস ত্যাগ করবেন। একাকীত্ব থাকার বেশি চেষ্টা করবেন।

(০৩)
গীবত করা কবীরা গোনাহ। এটি হারাম। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢] 

তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী,পরম দয়ালু। [সূরা হুজুরাত-১২}

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। [সূরা মায়িদা-২] 

وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [٦:٦٨] 

যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়,যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না। [সূরা আল আনআম-৬৮] 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
কাহারো দোষের বিষয়ে এমন লোকের নিকট উক্ত দোষের কথা বলা,যে সেই দোষকারী ব্যাক্তিকে সংশোধন করতে পারে,তাহলে এর অনুমোদন রয়েছে।

সুতরাং পারিবারিক এসব বিষয় সময় সমাধানের নিয়তে স্বামীর সাথে শেয়ার করলে তাহা নাজায়েজ হবেনা।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 43 views
...