ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি
ওয়া বারাকাতুহু
জবাব,
হাদীসে বর্ণিত আছে যে,
عَنْ
سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الْمَذْىِ شِدَّةً وَكُنْتُ
أُكْثِرُ مِنْهُ الاِغْتِسَالَ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ
: إِنَّمَا يُجْزِيكَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءُ . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ
فَكَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ قَالَ : يَكْفِيكَ بِأَنْ تَأْخُذَ كَفًّا
مِنْ مَاءٍ فَتَنْضَحَ بِهَا مِنْ ثَوْبِكَ حَيْثُ تُرَى أَنَّهُ أَصَابَهُ
সাহল ইবনু
হুসাইফ রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার অত্যধিক মযী নির্গত হত তাই আমি অধিক গোসল করতাম। অতঃপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ
ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, মযী বের হওয়ার পর অযু করাই যথেষ্ট। তখন আমি বলি,
ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার কাপড়ে মযী
লাগলে কি করব? তিনি বলেন, কাপড়ের যে যে স্থানে মযীর নিদর্শন দেখবে, এক আজলা পানি নিয়ে উক্ত স্থান ধুয়ে নিবে,
যাতে তা দূরীভূত হয়। (আবু দাউদ ২১০)
প্রিয় প্রশ্নকারী
ভাই, আর আপনার প্রতি আমাদের উপদেশ হল, হারাম জিনিস থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ
চেষ্টা করবেন। যেমন- অশ্লীল ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি;
যা অবৈধ যৌনাচার ও মহাপাপে জড়িয়ে পড়তে
মানুষকে প্ররোচিত করে এবং মনের মধ্যে খারাপ প্রভাব গভীরভাবে জিইয়ে রাখে। এসব থেকে আমরা
আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُل
لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ
أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
মুমিন পুরুষদের
বলে দিন, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের
জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। (সূরা আন-নূর
৩০)
ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার আমলঃ
ইবনে
হাজার আল-হাইছামি তাঁর ‘আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা’ গ্রন্থে (১/১৪৯) এসেছে, তাঁকে
এর প্রতিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ،
وإن كان في النفس من التردد ما كان – فإنه متى لم يلتفت لذلك لم يثبت بل يذهب بعد
زمن قليل كما جرب ذلك الموفقون , وأما من أصغى إليها وعمل بقضيتها فإنها لا تزال
تزداد به حتى تُخرجه إلى حيز المجانين بل وأقبح منهم
অর্থাৎ, এর ঔষধ একটাই সেটা হচ্ছে– ওয়াসওয়াসাকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি
মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও। কেননা কেউ যদি সেটাকে ভ্রুক্ষেপ না
করে তাহলে সেটা স্থির হবে না। কিছু সময় পর চলে যাবে; যেমনটি
তাওফিকপ্রাপ্ত লোকেরা যাচাই করে পেয়েছেন। আর যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাকে পাত্তা দিবে
এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে সে ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা বাড়তেই থাকবে; এক
পর্যায়ে তাকে পাগলের কাতারে নিয়ে পৌঁছাবে কিংবা পাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে
পৌঁছাবে।
এর
সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি
বেশি আল্লাহর যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا
قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্
পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ
عَلَى الْوَسْوَسَة
‘সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি
শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ)
ইবনে
হাজার আল-হাইতামি রহ. বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ،
وإن كان في النفس من التردد ما كان
‘ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে
সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি
মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা
১/১৪৯)
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যৌন উত্তেজনার
কারণে মযী (পানির মত পাতলা বীর্য যা অল্প পরিমাণে বের হয়,
কিন্তু উত্তেজনা হ্রাস হয় না) বের
হলে ওযু ভেঙ্গে যাবে। আর মযী বা কামরস নাপাক। এটি শরীরে বা কাপড়ে লাগলে ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।
তবে
ওয়াসওয়াসা এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আপনি নিশ্চিত হোন যে, নাপাকী বের হয়েছে তাহলে চেক
করে পবিত্রতা অর্জন করবেন। কিন্তু অহেতুক শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোন কাজ করা যাবে
না। কারণ, ওয়াসওয়াসা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। সে চায় মানুষকে পেরেশান ও অস্থির করে রাখতে
যাতে সে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে মাশগুল থাকতে না পারে। বিধায় এমন পরিস্থিতিতে আপনি হতাশ
হবেন না। বরং ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে উপরে উল্লেখিত আমলগুলি করুন এবং
মানসিক রোগের কোন ভালো চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা করুন।