আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
37 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (21 points)
আস্সালামু আলাইকুম হুজুর,

যদি কোনো ছেলে বলে " আমার কোনো কথায় না বললে ২০ দিন বা ২ মাসের মাঝে আমাদের বিয়ে হয়ে যাবে " আর মেয়েটি বলে যে "আমি না বললেও বিয়ে হবে না " এবং পরবর্তীতে ছেলেটির  বিভিন্ন কথায় মেয়েটি যদি না বলে তাহলে কি তাদের পরবর্তীতে বিবাহ হয়ে যাবে বা উক্ত সময় পর তারা কি দম্পতি হয়ে যাবে?  ( বিবাহের নিময়,কানুন পালন ছাড়াই) বা মেয়েটির কি বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়ে যাবে কিনা?  বিস্তারিত জানাবেন হুজুর।

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

بسم الله الرحمن الرحيم

জবাবঃ

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَتِهِ وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ.

‘‘যখন তোমাদের কেউ কোন রমণীকে বিবাহ প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে, তবে তা দূষণীয় নয়; যদিও রমণী তা জানতে না পারে।’’

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,

عن أبي هريرة، قال: كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم، فأتاه رجل فأخبره أنه تزوج امرأة من الأنصار، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنظرت إليها؟»، قال: لا، قال: «فاذهب فانظر إليها، فإن في أعين الأنصارشيئا»

তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পাশে বসা ছিলাম।একব্যক্তি এসে বলল, আমি আনসারি এক মহিলাকে বিয়ে করতে চাই।রাসূলুল্লাহ বললেন,তুমি কি পাত্রী দেখেছো?তিনি বললেন,না।রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,যাও গিয়ে পাত্রী দেখে আসো।কেননা আনসারীদের চোখে নীল বা জাতীয় কিছু থাকে। (সহীহ মুসলিম-১৪২৪)

পাত্রীকে পরিচয় জিজ্ঞাসা বৈধ। তবে লম্বা সময় ধরে বসিয়ে রাখা বৈধ নয় এবং বারবার বহুবার অথবা অনিমেষনেত্রে দীর্ঘক্ষণ তার প্রতি দৃষ্টি রাখাও অবৈধ। অনুরূপ একবার দেখার পর পুনরায় দেখা বা দেখতে চাওয়া বৈধ নয়।

আরো জানুনঃ

https://ifatwa.info/3136/?show=3142#a3142

পাত্রী দেখার মূলনীতির মধ্যে অন্যতম কিছু মূলনীতি হলোঃ

মুবাহ বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।

মহিলা নরম ভাষায় কথা বলবে না।

মোহরানা ঠিক করে বিবাহ করবে।

বিবাহের খুতবা দেওয়া হবে।

মেয়ের পক্ষ থেকে তার পিতা বা অন্য কেউ শুধু বিবাহের  অনুমতি নিয়ে এসে ওকিল হয়ে সে (অথবা সে অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দিলে সে) জন পুরুষ বা একজন পুরুষ দুইজন মহিলার সামনে  সাক্ষীদের সামনে পাত্রকে মেয়ের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করবে,পাত্র সাক্ষীদের সামনে একবার কবুল বলবে।

তাহলেই বিবাহ হয়ে যাবে। ছেলের বাসায় ওলিমা করা সুন্নাত।  মেয়ের বাসায় এসবের আয়োজন করার নজির নেই।

তবে কাহারো চাপে নয়,বরং নিজ সন্তুষ্টি চিত্তে যদি তারা দাওয়াতের আয়োজন করে,তাহলে তা জায়েজ আছে।

হাদীস শরীফে এসেছে  

عن أنس بن مالک رضي اللّٰہ عنہ أن النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم رأی علی عبد الرحمٰن بن عوف أثر صفرۃ، فقال: ما ہذا؟ قال: إني تزوجت امرأۃ علی وزن نواۃ من ذہب، قال بارک اللّٰہ لک أولم ولو بشاۃ۔ (مشکاۃ المصابیح ۲۷۷)

রাসুল সাঃ বলেন ,,,, তুমি বকরি দিয়ে হলেও ওলিমা করো।

অন্যত্রে এসেছে

عن أبي ہریرۃ رضي اللّٰہ عنہ قال: الولیمۃ حق وسنۃ، فمن دُعِيَ فلم یجب فقد عصی اللّٰہ ورسولہ۔ (مجمع الزوائد ۴؍۵۲)

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিতওলিমা সুন্নাত।

বিস্তারিত জানুনঃ

https://www.ifatwa.info/3136/?show=3136#q3136

 প্রশ্নকারী সম্মানিত দ্বীনি ভাই/ বোন!

জ্বী না উক্ত কথা বলার দ্বারা বিবাহ হবে না এবং  বিবাহের পূর্বে তালাকের কোন প্রশ্ন আসে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...