আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in পবিত্রতা (Purity) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার আম্মার কাল আসরের ওয়াক্তে খয়েরি রঙ এর পিচ্ছিল স্রাব দেখা যায়।উনার যেহেতু হায়েজের সময় তাই উনি হায়েজ মনে করেছেন কিন্তু রোজা ভাঙেন নি।এখন এর পর থেকে আজ যোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত কিচ্ছু দেখা যায়নি। কোনো ধরনের স্রাব ই নেই।

এখন উনার যদি আজ সারাদিনও কোনো স্রাব না দেখা যায় তাহলে উনি কি রোজা রাখবেন আর নামাজ পড়বেন।উনি কালকের রোজাও ভাঙেন নি এবং আজকের রোজাও রাখছেন তবে কাল আসর থেকে নামাজ পড়ছেন না হায়েজ হলো কি না এই সন্দেহে।

এখন উনি কি নামাজ,রোজা রাখবেন?

অথবা ৩ দিনের কম যদি এমন দেখা যায় তাহলে যেই ৩ দিন নামাজ রোজা রাখবেন না সেই নামাজ কি কাজা করতে হবে?


২)আর আমার হায়েজ হওয়ার পূর্বে গাঢ় হলুদ রঙের স্রাব দেখা যায়।আবার হায়েজ শেষ হওয়ার ৭ বা ৮ দিনের দিন হালকা হলদে স্রাব দেখা যায় এই হালকা হলদে স্রাব হায়েজ শেষ হওয়ার ১০ দিন পরেও বাকি ভালো থাকার দিনেও দেখা যায়।

সাদাস্রাব আমার খুব বেশি একটা হয় না।একটু হলেও হলদে লাগে দেখতে ভালো থাকা অবস্থায় ই।

এখন আমি রোজার ক্ষেত্রে কি করবো?১০ দিন রোজা রাখবো না?কারণ এই স্রাবের রঙের জন্য আমি ১০ দিন হায়েজ ধরি অথচ এমন রঙ তো ১০ দিনের পরও থাকে।

রোজা নামাজ এর ক্ষেত্রে কি করবো?

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এই স্রাব যদি দশ দিনের মধ্যে আর দেখা না যায় তাহলে তো এটি হায়েজ নয়। বরং এটি ইস্তেহাজা। এ সময় আপনার আম্মুর নামাজ রোজা আদায় করতে হবে।

আর যদি নুন্যতম তিনদিন পর্যন্ত এই স্রাব দেখা যায় অথবা ১০ দিনের মধ্যে আবারো দেখা যায়,তাহলে এটি হায়েজ। এ সময়ে নামাজ রোজা আদায় করা যাবে না।

(০২)
আপনার হায়েজ হওয়ার পূর্বে গাঢ় হলুদ রঙের যে স্রাব দেখা যায়,এটিকে আপনি হায়েজ ধরবেন। ঐ গাঢ় হলুদ রঙের স্রাব আসার দিন থেকে আপনি হায়েজের দিন গণনা করবেন।

যেহেতু হায়েজের ১০ দিন পরেও আপনার হলুদ রঙের স্রাব আসে,সুতরাং আপনি পূর্বের মাস গুলোর নিজের অভ্যাস এর দিন অনুপাতে হায়েজ ধরবেন। 
বাকি দিন গুলি ইস্তেহাজা ধরবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আমি হায়েজ এর রক্তের লাল রঙ এর দিন থেকে যদি হায়েজ ধরি, তাহলে এই হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৮ দিন আমার হালকা লাল রঙের স্রাব যায়।কিন্তু যদি হলদে রঙের স্রাব থেকে হিসেব ধরি তাহলে তো এভাবে ১০ দিন এর উপরেই হয়তো হালকা লাল রঙ দেখা যেতে পারে।
এই রমজানে আমি লাল রঙ দেখেই হায়েজ হিসেব করেছি এই অনুযায়ী রোজা ও নামাজ ভেঙেছি।এখন ৬ দিনের দিনও হালকা লাল রঙ এর স্রাব দেখা যাচ্ছে।
এখন কি আমি হলদে রঙ এর স্রাব যেদিন থেকে হয়েছে সেদিনের হিসেব অনুযায়ী ১০ দিন হায়েজ ধরবো?
আমার সঠিক মনে নেই হলদে স্রাব কোনদিন থেকে শুরু হয়েছে।সাধারণতই আমার স্রাব সবসময় ই হালকা হলদে থাকে। আবার এই রমজানে ডাক্তার বলেছে আমার অনেক বেশি ইনফেকশন এর সমস্যা হয়েছে।
গাঢ় হলদে এই স্রাব হায়েজের লাল রক্তের দুদিন আগেই হয়তো দেখেছি। এখন হায়েজের নাকি ইনফেকশনের জন্য বুঝতে পারছিনা।

by (607,050 points)
আপনি হলদে রঙ এর স্রাব যেদিন থেকে হয়েছে সেদিনের হিসেব অনুযায়ী  হায়েজ ধরবেন। 

যেহেতু দশ দিন অতিক্রম হয়ে যাবে সুতরাংপূর্বের মাস গুলোর নিজের অভ্যাস এর দিন অনুপাতে হায়েজ ধরবেন। 
বাকি দিন গুলি ইস্তেহাজা ধরবেন। 



আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...