আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
32 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

একজন মেয়ের ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে। সে যা ভাবে কখনো কখনো মুখে অবচেতন মনে উচ্চারণ করে ফেলে। একবার সে ভেবেছে ইসলামের কোনো একটি ফরজ বিধান এমন না হয়ে অন্যরকম হলে ভালো হতো। এটা মনে মনে ভেবেছে নাকি মুখে উচ্চারণ করেছে সেটা তার মনে নেই। তবে যতদূর মনে পড়ে এরপর সাথে সাথে সে ভেবেছে অথবা বলেছে (মনে নেই) যে ইসলামের সকল বিধানই পারফেক্ট। এরপর সে মনে মনে অথবা মুখে উচ্চারণ করে বলেছে "আমি তো কাফির হয়ে গেছি বা আমি তো কাফির" এইটাইপের কিছু একটা। সে নিজেকে কাফিরই ভাবছে। এছাড়া তার আরও অনেক বিষয়ে সন্দেহ হচ্ছে যে সে হয়তো এমন কিছু মুখে উচ্চারণ করেছে যেটি দ্বারা সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে। এখন সে ঈমাণ নবায়ন করে ইসলামে ফিরে আসতে চাইছে। এবং সে এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনের মধ্যে আসা ওয়াসওয়াসা মুখে উচ্চারণ না করার ব্যাপারে সে সচেতন থাকবে ইন শা আল্লাহ।

১। সে কিভাবে ইসলাম গ্রহণ করবে?

২। শাহাদাহ পাঠ করার আগে ফরয গোসল করবে নাকি পরে?


৩। এই ফরয গোসল  সে ইসলাম গ্রহণ, হায়িয, বীর্যপাত একসাথে  এমন কয়েকটি নিয়ত করলে কি সঠিক হবে নাকি প্রত্যেকটির জন্য  আলাদা নিয়তে আলাদা গোসল করতে হবে?

৪। শাহাদাহ পাঠ করার সময় যদি মনে উল্টো পালটা চিন্তা আসে তাহলে কি সমস্যা হবে?

৫।শাহাদাহ পাঠ করার আগে বা পরে যে ফরয গোসল করবে সেই গোসলের পরে ওজু ছাড়া সালাত আদায় করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (635,010 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
চার মাযহাব সম্ভলিত সর্ববৃহৎ ফেকহি গ্রন্থ "আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যা"গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে যে,
نَقَل ابْنُ عَابِدِينَ عَنِ اللَّيْثِ: فِي مَسْأَلَةِ طَلاَقِ الْمُوَسْوَسِ  أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ طَلاَقُ  الْمُوَسْوَسِ  ، قَال: يَعْنِي الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
وَنَقَل ابْنُ الْقَيِّمِ: إِنَّ الْمُطْلِّقَ إِنْ كَانَ زَائِل الْعَقْل بِجُنُونٍ أَوْ إِغْمَاءٍ أَوْ وَسْوَسَةٍ لاَ يَقَعُ طَلاَقُهُ،  قَال: وَهَذَا الْمَخْلَصُ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ بَيْنَ عُلَمَ ـ اءِ الأُْمَّةِ

- رِدَّةُ الْمُوَسْوَسِ:  
٢١ - إِنْ تَكَلَّمَ الْمُوَسْوَسُ  بِكَلاَمٍ يَقْتَضِي الرِّدَّةَ لَمْ يَكُنْ فِي حَقِّهِ رِدَّةٌ. صَرَّحَ بِذَلِكَ الْحَنَفِيَّةُ، يَعْنُونَ الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
ইবনে আবেদিন শামী রাহ বর্ণনা করেন,ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যক্তি -যার বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে বসেছে-তার তালাক গ্রহণযোগ্য নয়।
ইবনুল কাইয়িম রাহ বলেন, যদি তালাক প্রদানকারী ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা,বেহুশি বা পাগলামির দরুণ বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে থাকে, তাহলে তার তালাকও গ্রহণযোগ্য হবে না। এর উপর সমস্ত উলামাদের ঐক্যমত রয়েছে।

বিবেক বুদ্ধি লোপ পেতে বসা ওয়াসওয়াসা রোগীর এমন কোনো কথা বার্তা যা মুরতাদ হওয়াকে লাযিম করে দেয়, সেই কথাবার্তার দরুণ উক্ত ওয়াসওয়াসার রোগী মুরতাদ হবে না।(আল-মাওসু'আতুল ফেকহিয়্যাতুল কোয়েতিয়্যাহ-৪৩/১৫৬)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে ঐ মেয়েটি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত।আর ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত ব্যক্তির ঈমানেও কোনো সমস্যা হয় না এবং তার তালাকও পতিত হয় না।

সুতরাং ঈমান নবায়নের কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...