আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
78 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। উস্তাজ আমি অনেক দিধার মধ্যে আছি আমার পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে। আমার বাবা পরকীয়ায় আসক্ত। অনেকবার বোঝানোর পরেও কোনো কাজ হয়নি, তবে তিনি এখনো আমাদের পড়াশোনার খরচ দেন। কিন্তু এখন যার সঙ্গে তিনি পরকীয়ায় জড়িত, সেখানে একটি বাচ্চা হয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি বলেন যে, এটি তারই মেয়ে, তাই তার জন্য খরচ পাঠানো লাগবে।

তারা আসলেই বিয়ে করেছেন কি না, সেটি তিনি নিশ্চিতভাবে বলেন না। আবার আমরা যদি বলি যে, বিয়ে করে ফেলুন, তাহলে তিনি শুধু বলেন যে সময় হলে করবেন। যেই মহিলার সঙ্গে এই পরকীয়া চলছে, তার এখনো স্বামী আছেন, যিনি বিদেশে থাকেন এবং তাদের এখনো ডিভোর্স হয়নি।

এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারে প্রতিনিয়ত ঝামেলা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমার বাবা আমাদের কিছু জমি ছিল, সেগুলো বিক্রি করতে চাইছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন যে, তিনি বাড়ি করবেন, নতুন বিয়ে করবেন এবং ব্যবসা করবেন।

এখন আমার করণীয় কী?

আমি পরিবারের বড় সন্তান। আমার বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে কখনোই ভালো লাগে না, তাই আমি চাই যে, তার সঙ্গে যেন কোনো ধরনের কথা-কাটাকাটি না হয় এবং যত কম সম্ভব কথা বলার চেষ্টা করি।

আমার প্রশ্নসমূহ:

১. তিনি বলেছেন যে, তিনি বিয়ে করেছেন এবং ওই বাচ্চাটি তার। এই বিয়ে কি শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে?
২. ওই বাচ্চার বিধান কী হবে? সে কি আমার বাবার সম্পত্তির ভাগ পাবে?
৩. কিছুদিন আগে আমার বাবা একটি জমি কিনেছেন, যা তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। আমার একজন বোনও আছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, ওই জমিতে আমার বোনের কোনো অংশ আছে কি না?
৪. যদি থাকে, তাহলে আমি সেটাকে কীভাবে দেব? কারণ এখন তো আমার দেওয়ার সামর্থ্য নেই। যখন হবে, তখন সেটাকে কীভাবে দেব?
৫. এরপর তিনি যে জমিটি বিক্রি করতে চাইছেন, সেখানে আমার মায়ের কিছু অংশ আছে। তিনি চান আমার মা যেন সেই অংশ লিখে দেন, কারণ তিনি বলেছেন, “আমি আমার টাকা দিয়ে কিনেছি, এটা আমার জমি, তাই আমার নামে লিখে দাও।” কিন্তু আমার মা সেটা দিতে চাইছেন না আমাদের কথা ভেবে। এখন তার কী করা উচিত?
৬. তিনি কি ওই জমি লিখে দিতে অস্বীকার করতে পারবেন? নাকি সেটি এখনো আমার বাবার জমি হিসেবেই গণ্য হবে?

৭। আর তিনি মাঝে মাঝে বলেন যে, যার সঙ্গে তিনি এখন পরকীয়া করছেন, সে যদি তার কাছে না আসে, তাহলে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে আমাদের কাছে দিয়ে যাবেন। তিনি কি এটা করতে পারেন?

আর আমি আসলে কী করতে পারি? কীভাবে কারও সঙ্গে ঝগড়া বা মনোমালিন্য এড়িয়ে চলতে পারি? আমাকে পরামর্শ দিন, উস্তাদ।

৮। আমি কিছু টিউশন করিয়ে টাকা উপার্জন করি। কিন্তু তিনি কখনও আমাকে জিজ্ঞাসা করেননি যে, আমি টিউশন করাই কিনা বা আয় করি কিনা।

শুধু মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কোথায় আছি। তখন আমি বলি যে, বাইরে আছি। আসলে আমি আমার আয়ের বিষয়টি বলতে চাইনি, কারণ আমি কিছুটা সঞ্চয় করার চেষ্টা করছি। এভাবে সঞ্চয় করা কি ঠিক হচ্ছে?

তিনি হয়তো বুঝতে পারেন যে, আমি টিউশন করাই, কিন্তু তিনি আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন না। এজন্য আমিও কিছু বলিনি। শুধু যদি বলি "কোথায় আছি" তখন আমি "টিউশনে আছি" না বলে শুধু বলি "বাইরে আছি"— এটা কি মিথ্যা বলা বা প্রতারণার মধ্যে পড়বে?

1 Answer

0 votes
by (634,050 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সবাইকে এরকম পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করুক।এটা সত্যিই কষ্টদায়ক একটি পরিস্থিতি।
আল্লাহর কাছে দু'আ করুন।যাতে আল্লাহ এই অশান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে আপনাদেরকে মুক্তি দান করেন।
আপনার মায়ের সাথে বাবার কেন এত দূরত্ব,সেটার কারণ খুজে বের করার চেষ্টা করুন।এবং এই দূরত্বকে মিটানোর চেষ্টা করুন।প্রয়োজনে আপনার মাকে সুসজ্জিত হয়ে থাকার পরামর্শ দিন (যে কোনো ভাবে)।
আপনার পিতা কেন সেখানে যায়,সেটার একটা কারণ রয়েছে,সে কারনটা খুজে বের করার চেষ্টা করুন।
এবং ঐ দিকটা একটু ফলো করুন যে,ঐ ব্যভিচারিণী মহিলা কি কোনো প্রকার জাদুটেনা করেছে। করে থাকলে সেটার বিহিত ব্যবস্থা করুন।

আপনার পিতার বন্ধুদের মাধ্যমে পিতাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন।প্রয়োজনে তাদের মাধ্যমে কিছুটা শায়েস্তা কারনোর চেষ্টা করুন।

যদি কোনো রাস্তা খুজে না পান,তাহলে গোনাহ থেকে বাঁচাতে ঐ মহিলার সাথে আপনার বাবার বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলুন।এবং আল্লাহ কাছে দু'আ করতে থাকেন।অাল্লাহ -ই ভালো জানেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2344


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সর্বোপরি আপনি তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে সমাধান চান। বাবার সাথে এ নিয়ে কখনো খারাপ আচরণ করবেন না।

(১) শরিয়ত অনুযায়ী ঐ সন্তান আপনার বাবার হবে না।বরং ঐ নারীর স্বামীর বাচ্চা হিসেবে সে স্বীকৃত হবে।

(২)ওই বাচ্চা আপনার বাবার সম্পত্তির ভাগ পাবে না। তবে আপনার বাবা নিজ জীবদ্দশায় যে কাউকে নিজের সম্পদ দিয়ে যেতে পারবেন।
(৩) আপনার বাবা যদি আপনারা দুই ভাইকেই শুধুমাত্র দেন, তাহলে তো বোন পাবে না।নতুবা পাবে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবেন।
(৪) বাবার সাথে আলোচনা করে জেনে নিবেন।
(৫) আপনার বাবা যদি নিজের টাকায় কিনেন, এবং আপনার মাকে মালিক বানিয়ে না দেন, তাহলে আপনার বাবা যা ইচ্ছা করতে পারবেন।

(৬) তখন আপনার মা ঐ জমি লিখে দিতে অস্বীকার করতে পারবেন না।  

(৭)  তিনি এটা করতে পারবেন না।


(৮) এভাবে সঞ্চয় করা ঠিক হচ্ছে না।

হ্যা, এটাও  মিথ্যা বা প্রতারণার মধ্যে পড়বে।



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...