0 votes
26 views
in Halal & Haram by (8 points)
আসসালামুয়ালাইকুম
আনেক সময় কোন কাজ করতে ব্যংক লোনের প্রয়োজন হয় এবং ব্যাংক লোন পরিশোধে সুদ দিতে হয়। এ সম্পর্কে জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (22.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

সুদের আদান-প্রদাণ হারাম।তবে অবস্থাবেধে হুকুমে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

মানুষের প্রয়োজন তিন প্রকারের হতে পারে।যথা-

(১) জরুরত (এমন প্রয়োজন যা না হলে নয়) :
এমন এক ধরনের প্রয়োজন, যা ছাড়া জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। যেমন, মরুভূমিতে ক্ষুধার্ত একজন মানুষ, যার কাছে কোনো খাবার নেই। (এই পরিস্থিতিতে মানুষটি জীবন বাঁচানোর তাগিদে হারাম বস্তুও ভক্ষণ করতে পারবে)।

(২) হাজত (এমন প্রয়োজন যা না হলে অত্যাধিক কষ্ট হবে) :
কষ্ট বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে যা করা হয়ে থাকে। (এখানে কষ্ট বা যন্ত্রণা বলতে জীবনের জন্যে হুমকিস্বরূপ বোঝাচ্ছে না) যেমন- একজন সাওম পালনকারী ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে। ফরজ সাওম হলেও এ ক্ষেত্রে তা ঐ ব্যক্তির জন্যে ভাঙার অনুমোদন রয়েছে।বা মেয়ের বিয়েতে টাকার প্রয়োজন।

(৩) তাহসিন (পছন্দনীয় ও সুশোভিতকরণ) :

এ ধরনের প্রয়োজনীয়তাগুলো মানুষের পোশাক-আশাক ও আচার-আচরণের পরিশুদ্ধতা ও পরিপূর্ণতার জন্যে এবং জীবনের মান উন্নয়নের জন্যে দরকারি। যেমন, একজন মানুষের শারীরিক অবস্থা ঠিক রাখার জন্যে মাছ, মাংস ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন।
(এই তিন প্রকার একজন দ্বীনী বোনের গবেষনা থেকে কপিকৃত)

প্রথম অবস্থায় সুদ গ্রহণ জায়েয।এবং তৃতীয় অবস্থায় সুদ গ্রহণ জায়েয হবে না।

আর দ্বিতীয় অবস্থার ব্যাখ্যা এরূপ যে,অভাব অনটনের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ের যে,খানাপিনা এবং চিকিৎসা ইত্যাদি মত মৌলিক প্রয়োজনাদিকে পূর্ণ করা সুদ ব্যতীত প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে সুদ গ্রহণ করা বৈধ হবে।(জাদীদ ফেকহী মাসাঈল-৪/৫২)

এমন পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য করে বিশিষ্ট হানাফি ফিকহ বিশারদ আল্লামা ইবনে নুজাইম রাহ, লিখেন
ﻭَﻓِﻲ اﻟْﻘُﻨْﻴَﺔِ ﻭَاﻟْﺒُﻐْﻴَﺔِ: ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟِﻠْﻤُﺤْﺘَﺎﺝِ اﻻِﺳْﺘِﻘْﺮَاﺽُ ﺑِﺎﻟﺮِّﺑْﺢِ (اﻧْﺘَﻬَﻰ)
নিঃস্ব মুখাপেক্ষী মানুষের জন্য সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ জায়েয।
আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের-১/৭৯;
বাহরুর রায়েক-৬/১৩৭;

বিঃদ্র:
এ বিধান শুধুমাত্র উপরোক্ত পরিস্থিতির(প্রথম ও দ্বিতীয়) সম্মুখীন ব্যক্তিদের জন্যে।সবার বেলায় তা প্রযোজ্য নয়।জদীদ ফেকহী মাসাঈল ৪/৫৫

হ্যা আমাদেরকে অবশ্যই স্বরণ রাখতে হবে যে,যেহেতু শরীয়ত প্রয়োজন পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছে,বিধায় রুজি-রোজগারের অন্য কোনো উপায় না থাকাবস্থায় প্রয়োজন পর্যন্তই সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ করা যাবে।
এবং আমাদেরকে এটাও স্বরণ রাখতে হবে যে,কাউকে ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করা জরুরতের আওতাভুক্ত নয়। কেননা এক্ষেত্রে তার কাছে কিছু টাকা তো অবশ্যই বিদ্যমান আছে।অন্য কিছু না থাকলেও অন্ততপক্ষে মূলধন দিয়ে তো সে তার প্রয়োজনকে পূর্ণ করতে পারবে।

আমাদের অনুসন্ধান মতে ব্যাংক লোন সাধারণত তৃতীয় (পরিস্থিতির)প্রকারের মানুষগণই নিয়ে আসেন।তাই এমনটা হলে ব্যাংক লোন কখনো জায়েয হবে না।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


উত্তর লিখনে
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ, Iom.
পরিচালক
ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

506 questions

501 answers

70 comments

331 users

18 Online Users
0 Member 18 Guest
Today Visits : 4608
Yesterday Visits : 5518
Total Visits : 930332
...