হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নামাজ এর কাযা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১.
ফরয ও বিতর নামাজের কাযা: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে যে ফরজ ও বিতর নামাজসমূহ কোনো কারণে ছুটে গেছে, সেগুলো কাযা করা ফরয। সুন্নতে মুআক্কাদা বা নফল নামাজের কাযা নেই।
২.
তারতীব (ক্রম) রক্ষা করা:
*
ছয় ওয়াক্তের কম কাযা থাকলে: যদি কোনো ব্যক্তির ছয় ওয়াক্তের কম নামাজ কাযা থাকে, তাহলে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ পড়ার আগে ছুটে যাওয়া নামাজগুলো আদায় করা ফরয। অর্থাৎ, কাযা ও আদায়ে তারতীব রক্ষা করা জরুরি।
*
ছয় ওয়াক্ত বা তার বেশি কাযা থাকলে: যদি ছয় ওয়াক্ত বা তার বেশি নামাজ কাযা হয়, তাহলে তারতীবের এই বাধ্যবাধকতা আর থাকে না। এক্ষেত্রে সে প্রথমে বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে পারবে, তারপর সুবিধামত কাযা নামাজগুলো আদায় করবে।
৩.
নিয়ত: কাযা নামাজ আদায়ের সময় নির্দিষ্ট করে নিয়ত করতে হবে যে কোন ওয়াক্তের কোন দিনের নামাজ কাযা করা হচ্ছে। যেমন: "আমি গতকালের ছুটে যাওয়া ফজর নামাজের কাযা আদায় করছি।"
৪.
নিষিদ্ধ সময়: তিনটি নিষিদ্ধ সময় (সূর্যোদয়, ঠিক দ্বিপ্রহর, সূর্যাস্ত) ব্যতীত দিনের বা রাতের যেকোনো সময় কাযা নামাজ আদায় করা যায়।
৫.
দ্রুত আদায়: যত দ্রুত সম্ভব ছুটে যাওয়া নামাজগুলো আদায় করে নেওয়া উচিত, কারণ কাযা করা ফরয এবং এটি আদায় না করা পর্যন্ত বান্দার জিম্মায় বাকি থাকে।
তথ্যসূত্র:
- আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত, বাবুল কাযা (অধ্যায়: কাযা নামাজ)
- ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার), কিতাবুস সালাত, বাবুল কাযা।