হায়েয বা ইস্তিহাযা নির্ণয় করার জন্য হানাফী মাযহাব অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে। আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী ইফাতওয়া.ইনফো এবং হানাফী ফিকহের সাধারণ নীতিগুলো নিম্নরূপ:
এটাকে হায়েয ধরবো নাকি ইস্তিহাযা ধরবো?
একটি রক্তস্রাবকে হায়েয নাকি ইস্তিহাযা ধরা হবে, তা নির্ভর করে এর সময়কাল, ধারাবাহিকতা এবং পূর্বেকার পবিত্রতার উপর।
১. হায়েয (Menstruation) হওয়ার শর্তসমূহ:
- সর্বনিম্ন সময়কাল: রক্তস্রাব কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত (অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা) স্থায়ী হতে হবে।
- সর্বোচ্চ সময়কাল: রক্তস্রাব সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাত (অর্থাৎ ২৪০ ঘণ্টা) পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
- দুই হায়েযের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময়: দুই হায়েযের মধ্যবর্তী সময়ে কমপক্ষে ১৫ দিন ১৫ রাত (অর্থাৎ ৩৬০ ঘণ্টা) পবিত্র থাকতে হবে। এর কম সময়ে আবার রক্ত দেখা গেলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
- বয়স: রক্তস্রাব ৯ চান্দ্র বছর (আনুমানিক) বয়স থেকে শুরু হয়ে ৫৫ চান্দ্র বছর (আনুমানিক) বয়সের মধ্যে হতে হবে। এর আগে বা পরে রক্ত দেখলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
- রক্তের প্রকৃতি: গাঢ় লাল, কালো, বাদামী, হলদেটে, সবুজ বা কাদার মতো যেকোনো রক্ত হতে পারে।
২. ইস্তিহাযা (Irregular/Non-menstrual bleeding) হওয়ার কারণসমূহ:
- ৩ দিনের কম রক্তস্রাব: যদি ৩ দিন ৩ রাতের কম সময় রক্ত দেখা যায়, তাহলে শুরু থেকেই তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
- ১০ দিনের বেশি রক্তস্রাব: যদি ১০ দিন ১০ রাতের বেশি সময় রক্ত দেখা যায়, তাহলে ১০ দিনের পরের অতিরিক্ত অংশ ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। (যদি মহিলার পূর্বের কোনো অভ্যাস (আদত) না থাকে, তবে প্রথম ১০ দিন হায়েয ধরা হবে। আর যদি অভ্যাস থাকে এবং রক্ত ১০ দিনের বেশি যায়, তাহলে তার অভ্যাসের দিনগুলো হায়েয এবং বাকিটা ইস্তিহাযা হবে)।
- দুই হায়েযের মাঝে ১৫ দিনের কম পবিত্রতা: যদি কোনো মহিলা ১৫ দিনের পবিত্রতা পূর্ণ হওয়ার আগেই আবার রক্ত দেখেন, তবে এই রক্ত ইস্তিহাযা।
- ৯ বছরের আগে বা ৫৫ বছরের পরে রক্তস্রাব: এই বয়সের বাইরে যেকোনো রক্ত ইস্তিহাযা।
- গর্ভকালীন রক্তস্রাব: গর্ভাবস্থায় যেকোনো প্রকার রক্ত দেখা গেলে তা ইস্তিহাযা।
সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি:
- যদি রক্তস্রাব কমপক্ষে ৩ দিন স্থায়ী হয় এবং সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং পূর্বেকার পবিত্রতার ১৫ দিনের শর্ত পূর্ণ হয়, তাহলে তা হায়েয।
- যদি রক্তস্রাব ৩ দিনের কম হয়, অথবা ১০ দিনের বেশি হয় (অতিরিক্ত অংশ), অথবা গর্ভকালীন অবস্থায় হয়, অথবা ৯ বছরের আগে/৫৫ বছরের পরে হয়, অথবা দুই হায়েযের মাঝে ১৫ দিনের কম পবিত্রতা থাকে, তাহলে তা ইস্তিহাযা।
হায়েয ও ইস্তিহাযার বিধি-বিধানের পার্থক্য:
- হায়েয অবস্থায়: নামায, রোজা, কুরআন স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা, তাওয়াফ করা, স্বামী-স্ত্রীর মিলন ইত্যাদি হারাম। হায়েয শেষ হলে গোসল ফরয হয়।
- ইস্তিহাযা অবস্থায়: ইস্তিহাযা অবস্থায় নামায, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, স্বামী-স্ত্রীর মিলন সবই জায়েয। এক্ষেত্রে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের জন্য নতুন করে ওযু করতে হবে (যদি রক্ত প্রবাহিত থাকে), তবে গোসল ফরয হয় না। ইস্তিহাযাকে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো মনে করা হয়।
---
১টি রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়য (Al-Hidayah, Kitab al-Taharah, Bab al-Haydh): এই কিতাবে হায়েয ও ইস্তিহাযার বিস্তারিত মাসায়েল বর্ণিত হয়েছে, যা হানাফী ফিকহের একটি মৌলিক গ্রন্থ। এখানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়কাল এবং পবিত্রতার শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।