গ্রামে মৃত ব্যাক্তির উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয় অনেকে দাওয়াত ছাড়া খেতে আসে খাবারের আয়োজন কারিরা কিছু বলতে শুনিনি এরকম অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছাড়া খেতে গেলে বান্দার হক নষ্ট হবে কি
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:
আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী, যেহেতু খাবারের আয়োজকরা দাওয়াত ছাড়া খেতে আসা লোকদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি জানাননি এবং কিছু বলতে শোনা যায়নি, তাদের এই নীরবতাকে
সম্মতি হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তাই, এই অর্থে যে আপনি তাদের অনুমতি ছাড়া কিছু গ্রহণ করছেন না,
সরাসরি 'বান্দার হক' নষ্ট হবে না।
তবে, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে লোক জড়ো করে খাবারের আয়োজন করা সাধারণভাবে
মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। এর কয়েকটি কারণ হলো:
1. এটি জাহেলী যুগের (ইসলাম-পূর্ব অজ্ঞতার যুগ) রীতির সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে খাবারের আয়োজন করা হতো।
2. এটি মৃত ব্যক্তির শোকাহত পরিবারের উপর আরও বোঝা চাপিয়ে দেয়।
3. ইসলামের নির্দেশনা হলো, প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনরা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে খাবার পাঠাবে, যাতে তাদের কষ্ট লাঘব হয় এবং তারা শোক পালনে ব্যস্ত থাকতে পারে।
সুতরাং, যদিও আয়োজকদের নীরবতার কারণে সরাসরি আপনার দ্বারা অন্যের হক নষ্ট হচ্ছে না, তবুও এমন অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছাড়া খেতে যাওয়া বা এমন মাকরুহ আয়োজনে অংশগ্রহণ করা ইসলামিক দৃষ্টিতে উৎসাহিত নয়। এটি এমন একটি কাজকে সমর্থন করার নামান্তর যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়।
উপদেশ: এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম, যদি না সেটি অভাবী মানুষের জন্য সাধারণ দান বা কোনো প্রতিবেশী কর্তৃক আয়োজিত হয় শোকাহত পরিবারকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ এবং ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার) - কিতাবুল জানাযা: এই ফিকহের গ্রন্থগুলিতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজনকে মাকরুহ বলা হয়েছে এবং প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে খাবার পাঠানোর সুন্নাহর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।