কারও রোমে ব্যক্তি জাগ্রত অবস্থায় আর মেয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে যৌনমিলনের উদ্দেশ্য গেলে কি ধর্ষন চেষ্টা হবে
হ্যাঁ, এটি
ধর্ষণ চেষ্টা (Attempted Rape) হিসেবে বিবেচিত হবে।
ব্যাখ্যা:
ইসলামী শরিয়তে, বিশেষত হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন তখনই বৈধ যখন তা পূর্ণ সম্মতি ও শরীয়তসম্মত বিবাহের মাধ্যমে হয়।
1.
সম্মতির অনুপস্থিতি: ঘুমন্ত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি সম্মতি দিতে সক্ষম নয়। সুতরাং, ঘুমন্ত অবস্থায় একজন নারীর কক্ষে যৌনমিলনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা এবং তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা সম্পূর্ণভাবে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কাজ করার সামিল।
2.
ইচ্ছাকৃত অপরাধ: পুরুষের জাগ্রত অবস্থায় যৌনমিলনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কক্ষ প্রবেশ করাই অপরাধের সূচনা। এটি শুধুমাত্র "খারাপ চিন্তা" নয়, বরং একটি সক্রিয় পদক্ষেপ যা একটি গুরুতর অপরাধ (ধর্ষণ) সংঘটিত করার প্রচেষ্টা।
3.
শাস্তিযোগ্য অপরাধ: এমনকি যদি চূড়ান্ত যৌনমিলন নাও ঘটে, কেবলমাত্র সেই উদ্দেশ্যে প্রবেশ করা এবং শারীরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই ধর্ষণ চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ (কবিরা গুনাহ) এবং এর জন্য তা'যির (ইসলামী বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তি) প্রযোজ্য হবে, যা সমাজের কল্যাণ এবং ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষার জন্য আবশ্যক।
রেফারেন্স:
- "আল-হিদায়া" (Al-Hidayah), ইমাম বুরহান আল-দিন আল-মারগিনানি: এই কিতাবে জিনা (ব্যভিচার) ও তার প্রকারভেদ (যেমন: জিনা বিল জাবর বা জোরপূর্বক ব্যভিচার) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় সম্মতি না থাকায়, এমন প্রচেষ্টা জিনা বিল জাবরের প্রচেষ্টার আওতায় পড়ে। (উল্লেখ্য, যদিও এতে সরাসরি 'attempted rape on a sleeping person' শিরোনামে আলোচনা নেই, তবে জিনার মৌলিক সংজ্ঞা, জোরপূর্বক কৃতকাজের বিধান এবং সম্মতির শর্ত থেকে এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়।)