🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
ইফাতওয়া.ইনফো (ifatwa.info) অনুযায়ী হানাফি মাযহাবে মোটা বিছানা বা তোষক যা নিংড়ানো সম্ভব নয়, তা নাপাক হয়ে গেলে পাক করার পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি:

মোটা বিছানা বা তোষক, যা হাত দিয়ে নিংড়ানো সম্ভব নয়, তা পাক করার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে:

1. দৃশ্যমান নাপাকী দূর করা (যদি থাকে):
* যদি বিছানা বা তোষকে দৃশ্যমান কোনো নাপাকী (যেমন: পেশাব, পায়খানা, রক্ত বা অন্য কোনো তরল যা দেখা যাচ্ছে) লেগে থাকে, তাহলে প্রথমে সেই নাপাকীর মূল পদার্থটি যথাসম্ভব পরিষ্কার করে নিতে হবে। যেমন, কোনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা বা শুকনা অংশ তুলে ফেলা।

2. পানি ঢালা ও শুকানো (তিনবার):
* এরপর নাপাক স্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পবিত্র পানি ঢালতে হবে, যাতে পানি নাপাকীর গভীর পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং নাপাকীর চিহ্ন (যেমন রঙ, গন্ধ) চলে যায়।
* পানি ঢালার পর তোষকটিকে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে (যেমন: রোদ বা বাতাস ব্যবহার করে অথবা হিটার দিয়ে)। এটি একটি ধাপ।
* এই প্রক্রিয়াটি মোট তিনবার পুনরাবৃত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, পানি ঢালা → সম্পূর্ণ শুকানো (১ বার); আবার পানি ঢালা → সম্পূর্ণ শুকানো (২ বার); এবং সর্বশেষ আবার পানি ঢালা → সম্পূর্ণ শুকানো (৩ বার)

ব্যাখ্যা:
যেহেতু মোটা বিছানা বা তোষক নিংড়ানো সম্ভব নয়, তাই প্রত্যেকবার পানি ঢেলে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়াটা নিংড়ানোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হয়। শুকানোর ফলে নাপাক মিশ্রিত পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায় অথবা গভীর থেকে সরে যায়, এবং পরেরবার নতুন পবিত্র পানি দ্বারা তা পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে তোষক সম্পূর্ণরূপে পাক হয়ে যায়।

যদি নাপাকী দৃশ্যমান না হয় (যেমন: শুকিয়ে যাওয়া পেশাবের স্থান, কিন্তু জায়গাটি নাপাক বলে জানা আছে), তাহলেও একই পদ্ধতিতে তিনবার পানি ঢেলে শুকিয়ে নিলে তা পাক হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র:
ইফাতওয়া.ইনফো (ifatwa.info) - ফাতওয়া নং: ১৮৮৩ (নাপাক তোষক, লেপ বা কম্বল পাক করার পদ্ধতি)।