আসলে সামি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেয়নি সে বলেছে মামুনুর রশিদ এই কথা বলে মামনি রশিদের কথা বলেছে যে মামুনুর রশিদ বলেন যে আমার বউ খারাপ আমি তালাক দিলাম এখানে মামুনুর রশিদের বউকে বলা কথা বলেছে সে নিজের বউয়ের কথা বলেনি এমনকি সে তখনই বলেছে এমন করে তালাক দেওয়া উচিত নয় কারণ বউয়ের মাঝে ভালো-মন্দ গুন থাকে এমন কাজ আমি জীবনেও করব না তবে কি কোন সমস্যা হবে
ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
না, এই অবস্থায় সামির স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়নি।
ব্যাখ্যা:
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামির কথায় তার স্ত্রীর উপর তালাক না হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
1.
উদ্ধৃতি বা বর্ণনা (Narration/Quoting): সামি এখানে মামুনুর রশিদের কথাকে উদ্ধৃত করেছেন বা বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে নিজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তালাকের শব্দগুলো উচ্চারণ করেননি। তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকদাতার নিজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তালাক উচ্চারণ করা আবশ্যক।
2.
উদ্দেশ্যের অভাব (Lack of Intention): সামি তাৎক্ষণিকভাবেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এই ধরনের কাজকে সমর্থন করেন না এবং নিজে কখনো এমনটা করবেন না। তালাকের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যখন শব্দগুলো অস্পষ্ট হয় বা অন্যকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, তখন নিয়ত বা উদ্দেশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে সামির নিয়ত সম্পূর্ণভাবে তালাকের বিপক্ষে ছিল।
3.
নিজের স্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত না থাকা (No reference to his own wife): সামি মামুনুর রশিদের স্ত্রীর বিষয়ে কথা বলছিলেন, নিজের স্ত্রীর বিষয়ে নয়। নিজের স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের বাক্যগুলো দ্বারা নিজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করা বা তার প্রতি ইঙ্গিত করা জরুরি।
সিদ্ধান্ত:
সামি যেহেতু মামুনুর রশিদের কথা উদ্ধৃত করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিজে এমন কাজ করবেন না এবং এটিকে সঠিক মনে করেন না, তাই তার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়নি। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ আছে।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ/আলমগিরি), কিতাবুত তালাক: যেখানে তালাকের শর্তাবলী, নিয়ত এবং অন্যদের কথা উদ্ধৃত করার বিধান আলোচনা করা হয়েছে।
- রদ্দুল মুহতার (হাশিয়া ইবনে আবিদীন), কিতাবুত তালাক: যেখানে বিস্তারিতভাবে তালাকের বিভিন্ন প্রকার এবং তার শর্তাবলী ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
*(উল্লেখিত ফিকহি গ্রন্থগুলোতে এই ধরনের পরিস্থিতিকে 'হিদায়েত' (বর্ণনা) বা 'ইকতিবাস' (উদ্ধৃতি) হিসেবে গণ্য করা হয়, যা তালাক জারি করে না, যদি না স্পষ্ট নিয়ত থাকে নিজের স্ত্রীর উপর তালাক জারি করার।)*