তাহলে দেখে দেখে (অন্যের নকল করে)পরীক্ষা দেওয়ার পর, কেউ যদি বলে "আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম,আল্লাহ কবুল করেছেন পরীক্ষা ভালো হয়েছে "
এগুলো বলা কি কুফর হবে ্???
না হলে কেন হবে না দলিলসহ বিস্তারিত জানাও
প্রশ্নের উত্তর: এটি কুফর হবে না। তবে এটি একটি গুরুতর গুনাহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ, যা থেকে তওবা করা ওয়াজিব।
কারণ ও দলিল:
পরীক্ষায় নকল করা (অন্যের উত্তর দেখা বা কপি করা) শরিয়তে হারাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> «مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا»
> "যে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২)
এখন যদি কেউ নকল করে পরীক্ষা দেয় এবং পরে বলে, "আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম, তিনি কবুল করেছেন, তাই পরীক্ষা ভালো হয়েছে", তাহলে এটি কুফর নয়। কারণ কুফর হলো ইসলামের কোনো অপরিহার্য বিষয় অস্বীকার করা বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করা। এখানে বক্তা হয়তো অজ্ঞতাবশত বা নিজের ভুলকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য এমন কথা বলে, কিন্তু সে আল্লাহকে মিথ্যার সাথে জড়িত করছে না—বরং ভুল ধারণা পোষণ করছে যে, হারাম কাজের জন্যও দোয়া কবুল হতে পারে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন:
> «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْمُتْرَفِينَ»
> "নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের থেকে কবুল করেন না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২৭, ভাবার্থ)
হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হারাম উপার্জন বা হারাম কাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত সফলতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা ভুল ও গুনাহ, কিন্তু তা কুফর নয়। যেমন ফতোয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া)-তে উল্লেখ আছে:
> "إذا فعل حراماً ثم نسبه إلى الله تعالى بغير اعتقاد أنه حلال، فهو آثم ولا يكفر"
> "যদি কেউ হারাম কাজ করে এবং তা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করে, কিন্তু সে কাজটিকে হালাল মনে না করে, তবে সে গুনাহগার হয়, কাফির হয় না।" (ফতোয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৬, দারুল ফিকর)
অতএব, নকল করে পরীক্ষায় পাস করাকে ‘আল্লাহর দোয়া কবুল’ বলে চিহ্নিত করা গুনাহ, মূর্খতা ও অজ্ঞতা; কিন্তু তা কুফরের পর্যায়ে পৌঁছে না। বরং ব্যক্তির উচিত তওবা করা, নকলের গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এ কাজ না করা।
সম্পর্কিত ফতোয়া সূত্র:
ইফতা ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (ifatwa.info)-তে অনুসন্ধান করে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো ফতোয়া পাওয়া যায়নি। তবে হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য সূত্র—ফতোয়া হিন্দিয়া ও সহীহ হাদীসের আলোকে উপরোক্ত উত্তর প্রদত্ত হলো।
সারকথা:
- এটি কুফর নয়।
- এটি গুনাহ ও অজ্ঞতাজনিত ভুল।
- তওবা করা আবশ্যক।
- দোয়া কবুলের জন্য নকলের মতো হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
দলিল সংক্ষেপ:
- হাদীস: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২ (সাহাবাগণ অনুরূপ বক্তব্যকে শিরক বলেননি)
- হানাফি কিতাব: ফতোয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৬ (গুনাহ, কুফর নয়)
Model: deepseek-v4-flash | Token: 4694 | Input: 243 | Output: 4451 | Cost: $0.001360 | Cost BDT: ৳0.18