একজন পুরুষের দুই ছেলে,এক মেয়ে। তার মোট সম্পত্তি দুই জায়গায় আছে। ভিটার জমি ৬ বিঘা এবং অন্য জায়গায় ১২ বিঘা। পুরুষ বর্তমানে মৃত।
১.জীবিত থাকাকালীন ভিটার জমি থেকে বড় ছেলেকে আধা বিঘা,মেয়েকে আধা বিঘা এবং স্ত্রীকে ৫ বিঘা জমি লিখে দেন(তিনি জীবিত আছেন); অপর ছেলেকে কোনো কিছু লিখে দেন নাই। এক্ষেত্রে জমির বন্টন কীভাবে হবে?
২.অন্য জায়গায় ১২ বিঘা জমি আছে। আগে সেখানেই ২০ বিঘা জমি ছিল;তন্মধ্যে ৪ বিঘা মেয়ের পড়াশোনা বাবদ বিক্রি করে খরচ করেছেন;আর ৪ বিঘা নিজ প্রয়োজনে বিক্রি করেছেন। এখন পরিবার থেকে মেয়েকে এই জমি থেকে প্রাপ্য দিতে চাচ্ছে না;যেহেতু তার জন্য ৪বিঘা বিক্রি করে দিয়েছিলেন বাবা। এখন এই খানে মেয়ে কতটুকু জমি পাবে?
বাকিরা কতটুকু পাবে?
উত্তর:
ওয়ারিসদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম পালন করা আবশ্যক। নিচে প্রশ্নের আলোকে পৃথকভাবে উত্তর প্রদান করা হলো:
১. ভিটার জমির (৬ বিঘা) বণ্টন:
মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তাঁর সম্পত্তি থেকে বড় ছেলেকে আধা বিঘা, মেয়েকে আধা বিঘা এবং স্ত্রীকে ৫ বিঘা জমি দলিল করে দিলে তা হেবা (দান) হিসেবে গণ্য হবে।
হানাফি ফিকহ অনুসারে, হেবা কব্জা (দখল) ব্যতীত পূর্ণ হয় না। যদি কব্জা হয়ে থাকে, তবে তা বৈধ দান এবং মীরাসের সম্পত্তি থেকে আলাদা। ফলে ভিটার জমি থেকে আর কিছুই মীরাসযোগ্য থাকে না। অপর ছেলে (যাকে কিছু দেওয়া হয়নি) ঐ অংশে কোনো অধিকার পাবে না। তবে পিতার জন্য সন্তানদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনে সমতা রাখা উত্তম এবং অসম বণ্টন মাকরুহে তাহরিমি।
রেফারেন্স:
- “হেবা কব্জা ব্যতীত পূর্ণ হয় না” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৮; কুদুরি, পৃ. ১৪০)
- “পিতার জন্য সন্তানদের মধ্যে দান সমানভাবে করা মুস্তাহাব; অসম বণ্টন মাকরুহ, তবে দান বৈধ।” (হেদায়া, ৪/৩৬০; ফাতওয়া শামি, ৬/৬৯৫)
- ifatwa.info লিংক: [জীবিত অবস্থায় ওয়ারিসদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন](https://ifatwa.info/1483)
২. অন্য জায়গার ১২ বিঘা জমির বণ্টন:
প্রথমে ২০ বিঘা থেকে ৪ বিঘা মেয়ের পড়াশোনার খরচে এবং ৪ বিঘা মৃত ব্যক্তি নিজ প্রয়োজনে বিক্রি করে থাকলে, তা মীরাসযোগ্য সম্পত্তি থেকে বাদ পড়বে। বর্তমানে ১২ বিঘা জমি মীরাসযোগ্য সম্পত্তি।
মেয়েকে পড়াশোনার খরচ দেওয়া পিতার দায়িত্ব (খোরপোষ), তাই মেয়েকে ঐ ৪ বিঘার বিনিময়ে বঞ্চিত করা জায়েয নয়।
শরয়ী বণ্টন:
- স্ত্রী পাবেন ১/৮ অংশ = ১২ × ১/৮ = ১.৫ বিঘা
- অবশিষ্ট ১০.৫ বিঘা সন্তানদের মধ্যে বণ্টন হবে পুত্ররা মেয়ের দ্বিগুণ পাবে (সূরা নিসা ৪:১১)।
- গণনা: মেয়ের ১ অংশ, প্রত্যেক পুত্রের ২ অংশ = মোট ৫ অংশ।
- প্রত্যেক পুত্র পাবে = ১০.৫ × ২/৫ = ৪.২ বিঘা করে
- মেয়ে পাবে = ১০.৫ × ১/৫ = ২.১ বিঘা
সারসংক্ষেপ:
- স্ত্রী: ১.৫ বিঘা
- বড় ছেলে: ৪.২ বিঘা
- ছোট ছেলে: ৪.২ বিঘা
- মেয়ে: ২.১ বিঘা
রেফারেন্স:
- সূরা নিসা ৪:১১-১২ (মীরাসের আয়াত)
- “পিতা-মাতার দায়িত্ব সন্তানের ভরণপোষণ; এতে সন্তানের অংশ কমানো বৈধ নয়।” (ফাতওয়া শামি, ৩/২৩২)
- ifatwa.info লিংক: [মীরাসের নিয়মে পুত্র-কন্যার অংশ](https://ifatwa.info/316)
নোট:
- ভিটার জমির দান যদি কব্জা (দখল) ছাড়া হয়, তবে তা ওসিয়ত গণ্য হবে এবং তা সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু যেহেতু এখানে সব ওয়ারিস (স্ত্রী ও সন্তান) জন্য ওসিয়ত জায়েয নয় (ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত বাতিল, যদি অন্য ওয়ারিসরা অনুমতি না দেয়), তাই পুরো জমি আবার মীরাসযোগ্য হবে। ওই ক্ষেত্রে ৬ বিঘাও মীরাসে অংশ হবে এবং সবার অংশ পুনর্বণ্টিত হবে। তবে সাধারণত "লিখে দেওয়া" অর্থে দলিল করে কব্জা বুঝায়, তাই প্রদত্ত উত্তরটি কব্জা হওয়ার ভিত্তিতে দেওয়া হলো।
মোট সম্পত্তি (যদি ভিটার জমি দানের কারণে পৃথক না হয়):
মোট ১৮ বিঘা (৬+১২) হলে স্ত্রী পাবেন ২.২৫ বিঘা, পুত্ররা ৬.৩ বিঘা করে, মেয়ে ৩.১৫ বিঘা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
জটিল বণ্টন এড়াতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় আলেম বা বিচারকের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।
উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত সূত্র:
- কুরআন ও হাদিস (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
- হানাফি কিতাব: ‘হেদায়া’, ‘ফাতওয়া শামি’, ‘কুদুরি’
- ifatwa.info (হানাফি ফাতওয়া)
Model: deepseek-v4-flash | Token: 6798 | Input: 471 | Output: 6327 | Cost: $0.001945 | Cost BDT: ৳0.25