কোনো মানসিক রুগী যদি এমন অবস্থায় থাকেন যে,,যেকোনো মুহূর্তে নিজের ক্ষতি করার কথা বলছেন।এই অবস্থায় থাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।এখন কি কাযা রুজা আদায় করলেই হয়ে যাবে??তিনি রোজা অবস্থায় ছিলেন।
না, এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাকে কাজা রোজা আদায় করতে হবে না।
ব্যাখ্যা:
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন (মাজনুন) এবং তার এমন অবস্থা যে সে দ্বীনের নির্দেশ বুঝতে বা পালন করতে সক্ষম নয়, তার উপর রোজা ফরয নয়। যেহেতু প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি এমন গুরুতর মানসিক অবস্থায় ছিলেন যে নিজের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল এবং তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে তার সুরক্ষার জন্য, তাই এই অবস্থায় তার রোজা ভেঙে গেলে কাজা রোজা আদায় করার প্রয়োজন নেই। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে 'মুকাল্লাফ' (যাকে ধর্মীয় আদেশ পালন করতে বলা হয়েছে) হিসেবে গণ্য হবে না, অর্থাৎ তার উপর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।
রেফারেন্স:
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফিকহের কিতাব 'আল-হিদায়া' (কিতাবুস সাওম) সহ অন্যান্য ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে যে, রোজা ফরয হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো সুস্থ মস্তিষ্ক থাকা ('আক্বল')। মানসিক ভারসাম্যহীন বা মাজনুন ব্যক্তির উপর রোজা ফরয হয় না, সুতরাং তার জন্য কাজা করাও আবশ্যক নয়।