আসলে সামিরা নিজের স্ত্রীকে তালাক দেয়নি সে বলেছে মামুনুর রশিদ এই কথা বলে মামনি রশিদের কথা বলেছে যে মামুনুর রশিদ বলেন যে আমার বউ খারাপ আমি তালাক দিলাম এখানে মামুনুর রশিদের বউকে বলা কথা বলেছে সে নিজের বউয়ের কথা বলেনি এমনকি সে তখনই বলেছে এমন করে তালাক দেওয়া স্টুডেন্টকে উচিত নয় কারণ আচ্ছা বউয়ের মাঝে ভালো-মন্দ হয়ে থাকে এমন কাজ আমি জীবনেও করব না তবে কি কোন সমস্যা হবে
সংক্ষেপে উত্তর:
সামিরার উল্লিখিত কথায় কোন তালাক সংঘটিত হয়নি এবং তার ব্যক্তিগত বৈবাহিক জীবনে কোন সমস্যা হবে না।
ব্যাখ্যা:
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার
ইচ্ছা (নিয়্যত) পোষণ করে সরাসরি তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করবে, অথবা এমন কোনো কাজ করবে যা দ্বারা তালাক সংঘটিত হয় (যেমন, লিখিত তালাকনামা)।
উপরে উল্লিখিত ঘটনায়, সামিরা নিজে তালাক দেননি, বরং তিনি মামুনুর রশিদের বলা কথা উদ্ধৃত করেছেন ("মামুনুর রশিদ বলেন যে আমার বউ খারাপ আমি তালাক দিলাম")। অন্যের কথা বা ঘটনা বর্ণনা করা দ্বারা নিজের স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয় না।
পরবর্তীতে সামিরা তালাক সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন ("এমন করে তালাক দেওয়া স্টুডেন্টকে উচিত নয় কারণ আচ্ছা বউয়ের মাঝে ভালো-মন্দ হয়ে থাকে এমন কাজ আমি জীবনেও করব না"), এটি তার ব্যক্তিগত মতামত এবং একটি প্রতিজ্ঞা যে তিনি এমন কাজ করবেন না। এটি কোনো তালাক নয়, বরং তালাকের বিপরীত একটি মানসিকতা বা অঙ্গীকার।
সুতরাং, সামিরার কথাগুলো কেবল অন্যের ঘটনা বর্ণনা, উপদেশ এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকার, যা কোনোভাবেই তার নিজের বৈবাহিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।
১ রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক (The Guidance, Book of Divorce): হানাফী ফিকহের মৌলিক গ্রন্থ আল-হিদায়ায় তালাকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, তালাক হল স্বামী কর্তৃক তার স্ত্রীর উপর বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করা। এখানে নিয়্যত (ইচ্ছা) এবং নির্দিষ্ট শব্দ প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। অন্যের কথা বর্ণনা করা বা সাধারণ আলোচনা করা তালাক বলে গণ্য হয় না। (আল-হিদায়া, প্রথম খণ্ড, কিতাবুত তালাক)