🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি এবং আমার ২জন বান্ধুবি মিলে একটা কাফেলা এনেছি।কাফেলার মূল টাস্ক ছিল :- দুরুদ, ইস্তেগফার, মাসনুন আমল, তাহাজ্জুদ। আমরা এডমিনরা ঠিক করেছিলাম এই কাফেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যাই এগিয়ে থাকা বোনকে হাদিয়া দিব।কাফেলা শেষ হওয়ার পর এডমিনরা(মানে আমি এবং আমার বান্ধুবি) নিজেদের থেকে কাফেলায় এগিয়ে থাকা বোনকে হাদিয়া দিলাম(যা যা দেয়ার কথা ছিলো)। কাফেলার মধ্যে এগিয়ে থাকা একজন বোন বলছেন :- তিনি এক্টিভিটির উপর ৬জন বোনকে হাদিয়া দিতে চায়।আমরা এডমিনরা তাকে সমথর্ন জানিয়েছি।তিনি যা হাদিয়া দিবেন সাথে এডমিনদের থেকে কিছু টাকা ওই ৬জন বোনের জন্য বরাদ্দ করি। আমরা ৬জন বোন কারা ছিলেন সেটা কাফেলার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলাম।কাফেলার বাকি বোনেরা জানেনা এক্টিভিটির উপর হাদিয়া দেওয়া হচ্ছে সেটা।বর্তমানে আগের বোনদের গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দিয়েছি। এখন আমার প্রশ্ন :- ১.কাফেলায় বাকি বোনদের না জানিয়ে ৬জন বোনকে হাদিয়া দেওয়ার কারণে কি বাকি বোনদের হক নষ্ট হয়েছে? ২. যদি হক নষ্ট হয় করণীয় কি?
بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার প্রশ্নগুলো মনোযোগ সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের হানাফি মাযহাব অনুযায়ী আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর ও সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

১. কাফেলায় বাকি বোনদের না জানিয়ে ৬জন বোনকে হাদিয়া দেওয়ার কারণে কি বাকি বোনদের হক নষ্ট হয়েছে?

হ্যাঁ, এমনটি করার কারণে কাফেলার বাকি সদস্যদের হক নষ্ট হয়েছে। এর কারণ হলো:



২. যদি হক নষ্ট হয় করণীয় কি?

বাকি বোনদের হক নষ্ট হওয়ার কারণে করণীয় হলো:

1. আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তেগফার: প্রথমে এই ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন। কারণ, এটি স্বচ্ছতার অভাব এবং অন্যকে অন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার শামিল হয়েছে।
2. সংশ্লিষ্ট বোনদের কাছে ক্ষমা চাওয়া (সম্ভব হলে): যদি সম্ভব হয় এবং এতে নতুন কোনো ফিতনা বা সমস্যার সৃষ্টি না হয়, তাহলে যাদের হক নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন, তাদের কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। যেহেতু আপনারা তাদের গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দিয়েছেন এবং তাদের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন, তাই সরাসরি ক্ষমা চাওয়া কঠিন হতে পারে।
3. সদকা করা: যদি সরাসরি তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া সম্ভব না হয় অথবা এতে নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে, তাহলে যাদের হক নষ্ট হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু সদকা করে দেওয়া উচিত। এটি তাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়ার একটি উপায়ও হবে। সদকার পরিমাণ এমন হতে পারে, যা ওই ৬ জন বোনকে দেওয়া হাদিয়ার মোট মূল্যের কাছাকাছি হয়, বা যা আপনার অন্তরে সান্ত্বনা যোগায়।
4. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা: ভবিষ্যতে এমন কোনো কাফেলা বা কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সকল নিয়ম-কানুন, পুরস্কারের শর্তাবলী এবং মানদণ্ড শুরু থেকেই সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছভাবে সকলের কাছে প্রকাশ করবেন এবং তা পালনে দৃঢ় থাকবেন।

রেফারেন্স:

ইসলামী শরীয়তে লেনদেন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা এবং আমানতদারী রক্ষা করা অত্যাবশ্যক। কোনো ব্যক্তিকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা তার প্রতি কোনো প্রকার জুলুম করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার)-এর 'কিতাবুল ক্বাদা' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, "মজলুমের হক আদায় করা ফরয, এবং কোন ব্যক্তির প্রতি জুলুম করা হারাম।" (رد المحتار على الدر المختار، كتاب القضاء، مطلب في بيان وجوب إيفاء الحقوق وتحريم الظلم، ج: ৬، ص: ৪১৮) এই ঘটনাটিতে সরাসরি আর্থিক জুলুম না হলেও সুযোগের ক্ষেত্রে জুলুম এবং স্বচ্ছতা ভঙ্গের মাধ্যমে হক নষ্ট হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমীন।