কোন স্বামী যদি অন্য কারো কথা বা উদ্ধৃতি দেয় যেমন তিনি বলেন মামুনের রশিদের কথা হল এমন যে আমার বউ খারাপ আমি তালাক দিলাম তবে এটা উচিত না কারণ স্ত্রীর মধ্যে ভালো খারাপ গুন থাকে তবে সে নিজের বউকে কিছু বলেননি তবে কি তার এই কথায় কোন সমস্যা হবে
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি ফিকাহর সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং ১টি রেফারেন্স সহ নিচে দেওয়া হলো:
উত্তর: হ্যাঁ, এই কথায় অবশ্যই সমস্যা হবে এবং তালাক পতিত হবে।
ব্যাখ্যা:
স্বামী যখন সরাসরি "আমি তালাক দিলাম" এই কথাটি নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেন, তখন তা
তালাকের স্পষ্ট শব্দ (সারিহ) হিসেবে গণ্য হয়। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, তালাকের স্পষ্ট শব্দ উচ্চারিত হলে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে বলা হোক, রাগ করে বলা হোক, ঠাট্টাচ্ছলে বলা হোক অথবা কোনো পূর্বসূরী (যেমন এখানে মামুনের রশিদের কথা) উল্লেখ করেই বলা হোক না কেন, তালাক পতিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল কি না, তা দেখা হয় না, কারণ শব্দগুলো নিজেই তালাকের অর্থ প্রকাশে যথেষ্ট।
এখানে স্বামী অন্য কারো কথা বা উদ্ধৃতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই "আমি তালাক দিলাম" বলেছেন, যা তাঁর নিজের স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট। মামুনের রশিদের কথাটি তার তালাক দেওয়ার একটি কারণ বা উপলক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু এটি তার নিজের তালাক কার্যকর করার ঘোষণাকে অপ্রয়োজনীয় করে না।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আল-ফাতাওয়া আল-আলমগীরিয়্যাহ), কিতাবুত তালাক, বাবুল আওয়াল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫৪। (বিভিন্ন সংস্করণে পৃষ্ঠা নম্বর ভিন্ন হতে পারে, তবে কিতাবুত তালাক অধ্যায়ের প্রথম অংশে তালাকের স্পষ্ট শব্দ সংক্রান্ত মাসআলা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)।
মূলনীতি: হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী, তালাকের স্পষ্ট শব্দ (যেমন: আমি তালাক দিলাম, তোমাকে তালাক দিলাম ইত্যাদি) উচ্চারণ করার সাথে সাথেই তালাক কার্যকর হয়ে যায়, এর জন্য আলাদাভাবে নিয়ত বা অভিপ্রায়ের প্রয়োজন হয় না।