🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আর ধরো, কেউ একজনের অনেক ক্ষতি করছে কারণ ছাড়া। এখন যে ক্ষতি করছে তার সম্পর্ক ভাঙার জন্য যাদু করলে( কুফুরী না করে) কি গুনাহ হয়? আর এমন গুনাহ করে ফেললে করণীয় কি?
if_fatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:

না, এটি জায়েজ নয় এবং এটি একটি বড় গুনাহ।

কেউ যদি বিনা কারণে আপনার ক্ষতি করে, তবে তার সম্পর্ক ভাঙার জন্য বা ক্ষতি বন্ধ করার জন্য যাদু ব্যবহার করা (তাতে কুফুরী উপাদান থাকুক বা না থাকুক) ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যাদু, শিরকের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা থেকে বিচ্যুত করে, এমনকি যদি আপনি "কুফুরী না করে" এর কথা বলেন। যাদুবিদ্যার যেকোনো রূপই হারাম।

কারণ:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন:
"আর তারা এমন কিছু শিখেছে যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকার করে না।"
(সূরা আল-বাক্বারা, ২:১০২)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, যাদুবিদ্যা শুধু অপকারই করে, উপকার নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদুবিদ্যাকে সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজের মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যায়ভাবে কেউ ক্ষতি করলেও, তার মোকাবিলা করার জন্য অবৈধ পথ অবলম্বন করা ইসলামে জায়েজ নয়। এর পরিবর্তে দু'আ, ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর উপর ভরসা, এবং প্রয়োজনে আইনগত বা সামাজিক সাহায্য গ্রহণ করা ইসলামসম্মত পথ।

এমন গুনাহ করে ফেললে করণীয়:

যদি কেউ এমন গুনাহ করে ফেলে, তবে তার করণীয় হলো:

1. তাওবা (অনুশোচনা ও প্রত্যাবর্তন): অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা করতে হবে। গভীর অনুশোচনা, ভবিষ্যতে এই কাজ আর না করার দৃঢ় সংকল্প এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
2. ইস্তেগফার: বেশি বেশি করে "আস্তাগফিরুল্লাহ" পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
3. সৎকর্ম: গুনাহ মাফের জন্য এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বেশি বেশি নফল ইবাদত, দান-সদকা এবং অন্যান্য সৎ কাজ করা।
4. ক্ষতিগ্রস্তের জন্য দু'আ: যদি আপনার যাদুর কারণে অন্য কারো ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তার প্রতি ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।
5. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা: ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং শরীয়তসম্মত উপায়ে সমাধান খোঁজা।