যুদ্ধের সময় যে শত্রুপক্ষের দেশে হামলা করে এতে তো অনেক নিরপরাধ সাধারণ মানুষও মারা যায়। এর জন্য কি যারা আক্রমণ করে তাদের গুনাহ হয়?
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:
ইসলামে যুদ্ধের সময় নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, যেমন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা যুদ্ধ বা সামরিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় না, তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
তবে, যদি শত্রুপক্ষের কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা করা হয় এবং সেই হামলায় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অপ্রত্যাশিতভাবে (collateral damage) কিছু নিরপরাধ সাধারণ মানুষ মারা যায়, যাদের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল না এবং যাদেরকে শত্রুরা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল অথবা তারা যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছিল, তাহলে হামলাকারীদের সরাসরি গুনাহ হয় না। এই ক্ষেত্রে নিরপরাধদের মৃত্যুর দায়ভার মূলত শত্রুপক্ষের উপর বর্তায়, যারা তাদের নাগরিকদের এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুর আশেপাশে অবস্থান করতে বাধ্য করেছে। আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য যদি নিরপরাধদের হত্যা করা না হয়ে শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্য অর্জন হয়, তাহলে তাদের কাজের জন্য গুনাহগার বলা হয় না।
রেফারেন্স:
ইমাম ইবনুল হুমাম (রহ.) তাঁর ফাতহুল কাদীর (فتح القدير) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যদি শত্রু পক্ষ মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করতে আসে এবং তাদের সাথে কিছু মুসলিম বন্দি বা জিম্মি থাকে যাদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে মুসলিমদের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া জায়েজ, এমনকি যদি এর ফলে সেই বন্দিরাও মারা যায়। এর কারণ হলো, শত্রুপক্ষের ওপর হামলা করাই মূল লক্ষ্য, এবং বন্দিদের মৃত্যু অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এই নীতি সাধারণ নিরপরাধ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদি তাদের মৃত্যু সামরিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে।
(ফাতহুল কাদীর, কিতাবুস সিয়ার)