ইফতাওয়া.ইনফো (ifatwa.info) সহ বেশিরভাগ প্রামাণ্য হানাফি ফিকাহ ওয়েবসাইট এবং আলেমদের মতে, সহশিক্ষা (ছেলে ও মেয়েদের একসাথে একই ক্লাসে পড়াশোনা) সাধারণত অনুমোদিত নয়। এর কারণ হলো:
হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:
হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী, ছেলে ও মেয়েদের অবাধ সহশিক্ষা পরিহার করা উচিত, কারণ এটি ফেতনার (প্রলোভন বা বিশৃঙ্খলা) কারণ হতে পারে এবং শালীনতা ও পর্দার বিধান লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে তাদের দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং শালীনতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়, যা অবাধ সহশিক্ষার পরিবেশে বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
সুতরাং, আদর্শ পরিস্থিতি হলো ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্তত পৃথক শ্রেণীকক্ষ এবং শিক্ষাব্যবস্থা থাকা। যদি অত্যন্ত বাধ্যগত পরিস্থিতি ছাড়া সহশিক্ষার কোনো বিকল্প না থাকে, তবে কঠোরভাবে শরিয়তের সীমা যেমন - পর্দা, দৃষ্টি অবনত রাখা, অনাবশ্যক মেলামেশা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি পালন করা আবশ্যক। তবে, এটি কোনোভাবেই আদর্শ বা উৎসাহিত পদ্ধতি নয়।
১টি রেফারেন্স:
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে মুমিন পুরুষ ও নারীকে তাদের দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে নির্দেশ দিয়েছেন:
- "মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।" (সূরা আন-নূর, ২৪:৩০)
- "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।" (সূরা আন-নূর, ২৪:৩১)
এই আয়াতগুলো নারী-পুরুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের মৌলিক নীতি স্থাপন করে, যার ভিত্তিতে সহশিক্ষার বিষয়ে হানাফি ফিকাহ তার অবস্থান গ্রহণ করেছে।