ফিকহে লজ্জাস্থানের ছিদ্রের মুখে টিস্যু রেখে হায়েজের নিদিষ্ট সময় অন্য কালারের স্রাব পেলেই সেটাকে হায়েজ ধরতে বলা হয়েছে, যদিও সেই স্রাব লজ্জাস্থানের একেবারে বাইরের অংশ অর্থাৎ উরুর চামড়া, কাপর বা মেয়েরা সাধারণত প্যাড পড়ে যেখানে সেখানে স্রাব না গেলেও সেটাকে হায়েজ ধরতে হবে।
প্রশ্ন ০১ঃ আমার এই বুঝটুকু কি ঠিক আছে?
প্রশ্ন ০২ঃ হায়েজ গন্য হওয়ার জন্য স্রাবের কি কোন সর্বনিম্ন পরিমান আছে? নাকি সামান্য সুতার মত বা বিন্দু পরিমান স্রাব লজ্জাস্থানের ছিদ্রের মুখে রাখা টিস্যু বের করে দেখতে পেলেই সেটাকে হায়েজ ধরতে হবে ?
হায়েজ ও ইস্তিহাজা সম্পর্কিত এক আলোচনায় আমি পড়েছিঃ
(ক) হায়েযের রক্ত কালচে লাল। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত টকটকে লাল।
(খ) হায়েযের রক্ত গাঢ়। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত পাতলা।
(গ) হায়েযের রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত সাধারণ রক্তের ন্যায় দুর্গন্ধমুক্ত।
(ঘ) হায়েযের রক্ত বের হওয়ার পরে জমাটবদ্ধ হয় না। কেননা তা রেহেমে জমাটবদ্ধ থাকে। অতঃপর তা গলে তরল অবস্থায় বের হয়ে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায় না। পক্ষান্তরে ইস্তিহাযার রক্ত জমাটবদ্ধ হয়। কেননা তা সাধারণ রক্তের ন্যায় রগের রক্ত।
প্রশ্ন ০৩ঃ হায়েজ ও ইস্তিহাজার রক্ত সম্পর্কে উপরের কথা গুলো কি সঠিক?
উত্তর:
প্রশ্ন ০১:
আপনার বুঝ কিছুটা সঠিক হলেও পুরোপুরি নয়। হায়েজ নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো সময় ও রক্তের বৈশিষ্ট্য। যে নারীর পূর্ববর্তী হায়েজের অভ্যাস আছে, তার জন্য অভ্যাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে আসা রক্ত (রং ভিন্ন হলেও) হায়েজ গণ্য হবে। আর যে নারীর অভ্যাস নেই (মুবতাদিয়া), তার জন্য রক্তের কালো, গাঢ়, দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। তবে টিস্যুতে স্রাব দেখা মানেই যে তা হায়েজ হবে, তা নয়; বরং রক্তটি যদি হায়েজের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয় এবং অভ্যাসের সময়ে বা অভ্যাস না থাকলে প্রথম দশ দিনের মধ্যে আসে, তবেই তা হায়েজ গণ্য হবে। অপরদিকে, শুধু বাইরের অংশে (উরু, কাপড়, প্যাড) স্রাব না গেলেও ছিদ্রের মুখে টিস্যুতে রক্ত দেখা গেলে তা হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে সময় ও বৈশিষ্ট্যের শর্ত সাপেক্ষে। (সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২; বাদায়েউস সানায়ি’, ১/৩৯)
প্রশ্ন ০২:
হায়েজ গণ্য হওয়ার জন্য রক্তের কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণ নেই। সামান্য বিন্দু বা সুতার মতো রক্তও হায়েজের অংশ হতে পারে। তবে এ জন্য শর্ত হলো, রক্তের প্রবাহ কমপক্ষে তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) অব্যাহত থাকতে হবে। তিন দিনের কম সময় ধরে অল্প রক্ত আসলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা গণ্য হবে। অতএব, টিস্যুতে সামান্য দাগ দেখলেই দ্রুত হায়েজ ধরা যাবে না; বরং দেখতে হবে তা কি কমপক্ষে তিন দিন ধরে আসছে? যদি তাই হয়, তাহলে তা হায়েজ। (সূত্র: কিতাবুল আছল, ১/২৩৪; আল-হিদায়া, ১/৪৫; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৪১)
প্রশ্ন ০৩:
হায়েজ ও ইস্তিহাজার রক্তের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনার বর্ণিত পাঁচটি বিষয় সঠিক। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:
- হায়েজের রক্ত কালচে লাল, গাঢ়, দুর্গন্ধযুক্ত এবং জমাটবদ্ধ হয় না।
- ইস্তিহাজার রক্ত টকটকে লাল, পাতলা, দুর্গন্ধমুক্ত এবং জমাটবদ্ধ হয়।
(সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩; নাসায়ি, হাদিস: ৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৫; আল-ইখতিয়ার, ১/৪১)
সোর্স লিংক:
[হায়েজ ও ইস্তিহাজার রক্তের বৈশিষ্ট্য](https://ifatwa.info/faq/1450)
Model: deepseek-v4-flash | Token: 4667 | Input: 563 | Output: 4104 | Cost: $0.001288 | Cost BDT: ৳0.17