দুঃখিত,,, আমার কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বাদ চলে যাওয়াতে আবার করা লাগতেছে,,।।আমি অনলাইন কোর্স থেকে ইসলামিক ইলম নিতে চাচ্ছি। কিন্ত আমার পিতা আমাদের অনলাইন থেকে যেন কোনো প্রকারের ইসলামিক জ্ঞান না নেই,,,বাসায় বুখারী শরীফসহ যত ইসলামিক বই আছে,, অখান থেকে যেন ইসলামিক জ্ঞান নিতে বলেছেন ।।এবং এই কথা না শুনলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।।উনার বদদোয়া আসতে থাকবে।।অফলাইনের কথা বছর ৬ এক আগে বলছিলাম,তখন নিষেধ করেছেন।এর আগে অনলাইনের থেকে ইলম নিতে নিষেধ করেছেন,,,যা বিভিন্ন দাওয়াহ রিলেটেড ভিডিও ও লিখালিখি ছিল,,১ম এ অনেকে বুজানোর কারণে মেনে নেই,৷ তারপর আস্তে আস্তে সরতে থাকি।।।এখন আবার একই কথা বলেছেন,,অনলাইনে কোনোপ্রকার ইসলাম রিলেটেড লেখা, সেয়ার, লাইক এগুলা থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন,,,এখন আমি পিতাকে না জানিয়ে একটা ফরয-ইলম কোর্স এ এনরোল আছি।উনি যদি হঠাৎ জিজ্ঞেস করেন আমি এখনো ইলম নিচ্ছি কিনা।।আমি যদি না বলি সেক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা হয়ে যাবে,,,উনি কোনোভাবে এই বিষয়টাতে রাজি হবেন না,,।মোবাইল সেক্ষেত্রে নাও থাকতে পারে,,, আর কোর্সটা শেষ পর্যন্ত নাও যেতে পারে,,, আমাকে কি কিয়ামত দিবসে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে মূল বিষয়গুলো বুঝে নেওয়া জরুরি: আপনি অনলাইনে ফরয (অবশ্যকীয়) ইসলামি জ্ঞান অর্জনের কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, কিন্তু আপনার পিতা তা নিষেধ করেছেন এবং শুধু বাসায় থাকা বইপত্র (বুখারী শরীফ ইত্যাদি) থেকে পড়তে বলেছেন। আপনি পিতাকে না জানিয়ে কোর্স করছেন, এবং যদি তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, তখন আপনাকে সত্য বলতে হবে না মিথ্যা বলতে হবে—এই দ্বিধায় আছেন। আর পিতার বদদোয়া ও আল্লাহর জবাবদিহির ভয়ও আছে।
উত্তর: সংক্ষেপে বললে, ফরয ইলম (যা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জানা আবশ্যক, যেমন—তাহারাত, নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম ইত্যাদি) অর্জন করা ব্যক্তিগত ফরয। এই ইলম অর্জনে পিতার নিষেধাজ্ঞা মান্য করা জরুরি নয়, বরং তা জরুরি অবস্থায় গোপনে করাও বৈধ। কারণ আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা হলো: “সৃষ্টিকর্তার নাফরমানী করে সৃষ্টির আনুগত্য করা যায় না।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৫৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪০)
অতএব, আপনার পিতা যদি আপনাকে ফরয ইলম থেকে বিরত রাখেন, তবে তাঁর এই নির্দেশ পালন করা আপনার জন্য ওয়াজিব নয়। বরং আপনি নম্রভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবেন, আর যদি তিনি না শোনেন, তাহলে গোপনে হলেও ফরয ইলম অর্জন করা চালিয়ে যেতে পারেন। এই অবস্থায় পিতার বদদোয়া আপনার ওপর আসবে না, কারণ আপনি আল্লাহর হুকুম পালন করছেন। (তবে পিতার প্রতি দুর্ব্যবহার না করে, সম্ভব হলে পরিবারের অন্য কাউকে মাধ্যম করে বোঝানোর চেষ্টা করে যাবেন।)
এখন মিথ্যা বলা প্রসঙ্গে: যদি পিতা সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি অনলাইনে ইসলামি কোর্স করছ?”—তখন আপনি সত্য গোপন করতে পারেন তাওরিয়া (অর্থাৎ এমন কথা বলা যা শুনলে অন্যের মনে ভিন্ন অর্থ আসে, কিন্তু তা মিথ্যা নয়) করে। যেমন বলতে পারেন, “আমি এখন বই থেকে পড়াশোনা করছি” (যদি আপনি বই থেকেও পড়েন, তবে এটি সত্য হবে, যদিও আপনি অনলাইন কোর্সও করছেন)। অথবা বলতে পারেন, “আমি ইলম নিচ্ছি” (এটাও সত্য, কারণ ফরয ইলম নেওয়াই আপনার উদ্দেশ্য)। কিন্তু সরাসরি “না” বলা বা মিথ্যা বলা জায়েজ নয়, যদি না প্রাণনাশের মতো চরম বিপদের সম্মুখীন হন। (সূত্র: “আল-হিদায়া”, জালামূলীসহ; আরও দেখুন: ফতোয়া নং https://ifatwa.info/3546—এই লিংকে ফরয ইলম ও পিতার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে বিস্তারিত আছে।)
কিয়ামতের জবাবদিহি: আপনি ফরয ইলম অর্জনের জন্য গোপনে কোর্স করলে, ইনশাআল্লাহ এটা আপনার জন্য নেকির কাজ হবে এবং আল্লাহর কাছে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। বরং উল্টো পিতাকে যদি ফরয থেকে বিরত রাখার জন্য জবাবদিহি করতে হতে পারে। তবে চেষ্টা রাখবেন পিতার সাথে সম্পর্ক মধুর রাখার এবং তাকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার। আপনার দোয়া করুন যেন আল্লাহ পিতার মন পরিবর্তন করেন।
সারকথা:
- ফরয ইলম অর্জন করা আবশ্যক, পিতার নিষেধাজ্ঞা তা বাধা দিতে পারে না।
- গোপন করাকে মিথ্যা না করে তাওরিয়া (অস্পষ্ট কথা) ব্যবহার করতে পারেন।
- পিতার বদদোয়া আসবে না যদি আপনি আল্লাহর হুকুম পালন করেন।
- কিয়ামতে আপনাকে দায়ী করা হবে না, বরং আপনি সওয়াব পাবেন।
প্রমাণ:
- সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৫৭ (لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق)
- ফতোয়া: https://ifatwa.info/3546 (ফরয ইলম ও পিতার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে)
আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম অর্জনের ইচ্ছাকে কবুল করুন এবং পিতার হৃদয় নরম করুন। আমীন।
Model: deepseek-v4-flash | Token: 2896 | Input: 509 | Output: 2387 | Cost: $0.000767 | Cost BDT: ৳0.10