আর মরনের ফিতনা দ্বারা কি বুঝায়? লোকমুখে শোনা কথা হলো মরনের সময় শয়তান ইমান ধংস করার চেষ্টা করে, হাতে পানি নিয়ে তৃষ্ণার্ত মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে ধোকা ও আল্লাহকে, দ্বীনকে অস্বীকার করানোর চেষ্টা করায় এগুলো কি সত্য?বাস্তবে মানুষ এই সময় শারীরিক মানসিক দিক দিয়ে নাজুক থাকে, দুর্বল থাকে। এমন কিছু হলে সে কি কাফির বা মুশরিক হয়েআর মরনের ফিতনা দ্বারা কি বুঝায়? লোকমুখে শোনা কথা হলো মরনের সময় শয়তান ইমান ধংস করার চেষ্টা করে, হাতে পানি নিয়ে তৃষ্ণার্ত মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে ধোকা ও আল্লাহকে, দ্বীনকে অস্বীকার করানোর চেষ্টা করায় এগুলো কি সত্য?বাস্তবে মানুষ এই সময় শারীরিক মানসিক দিক দিয়ে নাজুক থাকে, দুর্বল থাকে। এমন কিছু হলে সে কি কাফির বা মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরন করবে?ধরো সে পাপি কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করেনি, শিরক করেনি, কিন্তু ইমান ছিলো। সেও কি এই ফাদে পড়বে? সে কি কাফির হবে? আল্লাহ তো বলেছেন যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমান ইমান আছে সেও জান্নাতে যাবে.
মরনের ফিতনা ও শয়তানের ধোঁকা: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
প্রশ্নের সারমর্ম:
মৃত্যুর সময় শয়তান কীভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়—বিশেষ করে তৃষ্ণার্ত মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে পানি দেখিয়ে আল্লাহ ও দ্বীন অস্বীকার করানোর চেষ্টা করে—এবং এমন অবস্থায় দুর্বল হয়ে কেউ কুফরি বা শিরকের মতো কথা বললে তার ইমানের কী হবে, এই বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন।
১. মৃত্যুর ফিতনা কী?
মৃত্যুর সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিতনা (পরীক্ষা) হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
> "তোমাদের মৃতদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে তালকিন করো।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৯১৬; কিতাবুল জানায়িজ)
এই তালকিনের কারণ হলো—মৃত্যুর সময় শয়তান মানুষের ইমান নষ্ট করার চেষ্টা করে। রাসূল (ﷺ) আরও বলেছেন:
> "যার শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(সুনান আবূ দাউদ, হাদীস: ৩১১৬; সহীহ)
অতএব, মৃত্যুর সময় শয়তানের ফিতনা একটি বাস্তব সত্য।
২. শয়তানের পানি দেখিয়ে ধোঁকা দেওয়ার ঘটনা
বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ আছে যে, মৃত্যুর সময় শয়তান মৃতব্যক্তির সামনে পানি নিয়ে এসে বলে: “তুমি পানি চাও? তবে বলো, আমার রব অমুক” অথবা “আল্লাহকে অস্বীকার করো তাহলে পানি দেবো” ইত্যাদি। এ ধরনের বর্ণনা কিছু দুর্বল হাদীসে এসেছে, তবে মূল বিষয়টি—শয়তানের ধোঁকা ও প্রলোভন—সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। বিশেষ করে সহীহ মুসলিমের হাদীসে রয়েছে:
> "নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় এবং তাকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে।"
(মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত; ব্যাখ্যা সহ)
তাই ‘পানি দিয়ে ধোঁকা’ বিষয়টি সরাসরি সহীহ না হলেও, শয়তানের ফিতনার একটি সম্ভাব্য রূপ হিসেবে উলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন।
৩. দুর্বল অবস্থায় কুফরি বললে কি ইমান চলে যাবে?
ইসলামের মূলনীতি হলো—কুফরি বা শিরকের কথা যদি জবরদস্তি (ইকরাহ) বা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় বলা হয়, আর অন্তর ইমানের ওপর অটল থাকে, তাহলে তা ইমান নষ্ট করে না। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
> "যার অন্তর ইমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু তাকে জবরদস্তি করা হয় (কুফরি বলতে), তার ওপর কোনো গুনাহ নেই।"
(সূরা নাহল ১৬:১০৬)
মৃত্যুর সময় মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল থাকে। শয়তানের প্রবল ধোঁকা ও প্রলোভনের মুখে যদি কেউ অসতর্কতাবশত কুফরিমূলক কথা বলে ফেলে, কিন্তু তার অন্তরের গভীরে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ইমান অটল থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ তার ইমান বাতিল হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসকেই বিবেচনা করেন। তবে এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে, বিষয়টি নগণ্য। উলামায়ে কেরাম সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যুর সময় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্যেই তালকিনের গুরুত্ব এত বেশি।
৪. সরিষা দানা পরিমাণ ইমান ও মৃত্যুর ফিতনা
আপনি হাদীস উল্লেখ করেছেন:
> "যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ ইমান আছে, সে জাহান্নাম থেকে বের হবে।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৪; মুসলিম, হাদীস: ১৯৩)
এই হাদীস দ্বারা বোঝায় যে, আসল ইমান থাকলে শেষ পর্যন্ত নাজাত হবে। কিন্তু মৃত্যুর সময় শয়তানের ফিতনায় পড়ে কেউ যদি ইমান হারিয়ে ফেলে—অর্থাৎ অন্তর থেকে বিশ্বাস করে ফেলে যে আল্লাহ নেই বা শিরক করে—তবে সে মুশরিক হয়ে মরতে পারে। তখন তার পূর্বের ইমান বাতিল হবে। তবে যদি কেবল জবানে ভুল হয় আর অন্তর অটল থাকে, তাহলে সে ইমান হারাবে না। তাই মৃত্যুর সময় সতর্কতা ও বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করার তালকিন দেওয়া জরুরি।
৫. উপসংহার ও দিকনির্দেশনা
- মৃত্যুর ফিতনা সত্য—শয়তান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইমান নষ্ট করতে চায়।
- পানি দিয়ে ধোঁকা দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন বর্ণনায় আছে, তবে নির্ভরযোগ্য হাদীসের আলোকে এটি সম্ভব।
- দুর্বল অবস্থায় কুফরি বললে যদি অন্তর অটল থাকে, তাহলে ইমান যায় না; কিন্তু একে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
- সরিষা দানা ইমানের হাদীস তাদের জন্য যারা ইমানের ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করে।
- সতর্কতা: মৃতব্যক্তিকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে তালকিন করুন; নিজেকেও এই দোয়া বেশি করে পড়ুন।
প্রয়োজনীয় রেফারেন্স:
- সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৯১৬ (তালকিনের নির্দেশ)
- সুনান আবূ দাউদ, হাদীস: ৩১১৬ (শেষ কথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
- সূরা নাহল ১৬:১০৬ (জবরদস্তির বিধান)
- সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৪; মুসলিম, হাদীস: ১৯৩ (সরিষা দানা ইমান)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, কিতাবুল ইমান (মৃত্যুর ফিতনা প্রসঙ্গ)
উৎস লিংক:
https://ifatwa.info/12457/ (মৃত্যুর সময় শয়তানের ফিতনা বিষয়ক ফতোয়া)
মনে রাখবেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার অন্তরের অবস্থা জানেন। যার অন্তরে সত্যিকার ইমান আছে, আল্লাহ তাকে রক্ষা করবেন। তবে নিজের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সতর্কতা অবলম্বন করা আমাদের কর্তব্য।
Model: deepseek-v4-flash | Token: 5724 | Input: 413 | Output: 5311 | Cost: $0.001635 | Cost BDT: ৳0.21