🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ। ১. যেকোনো বিষয়ে শয়তান যখন আমাদের ওয়াসওয়াসা দেয়, আমরা তো সেটা শুনতে পাই না। আবার আমরা কখন কি চিন্তা করি, সেটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারে না। তাহলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা অন্তরে প্রবেশ করে কিভাবে? ২.আগেই বলে রাখি, সম্ভবত আমার জ্বিব যাদুর সমস্যা আছে।আমার প্রতিদিন সকালে হিফজ মাশক্ব থাকে ৬ টা থেকে। তো দেখা যায় আমি মাশক্ব এর আগেও ফুরফুরে, পরেও ফুরফুরে। মানে তখন চোখে ঘুম থাকে না। কিন্তু মাশক্ব টাইমে এমন অবস্থা হয় যে আমি ঘুমের কারণে চোখ খুলতেই পারি না। ফলস্বরূপ ক্লাসে এটেন্ড থেকে আমি ঘুমাই। এটা কেন হয়? এটা কি রুকাইয়্যা জনিত কারণে হতে পারে? আমার এখন কি করণীয়? কিছু উপদেশ দিন মিন ফাদ্বলিক।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথম প্রশ্নের উত্তর:

শয়তানের ওয়াসওয়াসা অন্তরে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসলামী শিক্ষা নিম্নরূপ:

শয়তান মানুষকে ওয়াসওয়াসা দেয় অদৃশ্য উপায়ে, যা শোনা বা দেখা যায় না। এটি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَمِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ * الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ"

(সূরা নাস: ১১৪/৪-৫)

অর্থ: "আর সে কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে পশ্চাতে সরে যায়, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।"

শয়তান মানুষের রক্তের ধমনীর মাধ্যমে তার অন্তরে পৌঁছে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে। হাদীসে এসেছে:

"إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ"

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২০৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৭৪)

অর্থ: "নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের রক্তের ধমনীতে চলাচল করে।"

সুতরাং, ওয়াসওয়াসা সরাসরি অন্তরে অনুভূত হয়, যদিও তা শোনা বা দেখা যায় না। এটি মানুষের নিজস্ব চিন্তার মতো মনে হলেও শয়তানের প্ররোচনা থেকে আসে। তবে মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ করতে পারে।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:

আপনার উল্লেখিত সমস্যা—হিফজ মাশকের সময় চরম ঘুম আসা, অথচ অন্য সময় সতেজ থাকা—এটি শারীরিক অথবা আধ্যাত্মিক কারণে হতে পারে। সম্ভাব্য কারণ ও করণীয় নিম্নরূপ:

১. শারীরিক কারণ:

- রাত জেগে পড়াশোনা বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।

- সকাল ৬টায় মাশক শুরু হলে, শরীর তখনও ঘুম থেকে পুরোপুরি জাগেনি, ফলে ঘুম চলে আসা স্বাভাবিক।

- লিভার বা রক্তস্বল্পতাজনিত সমস্যাও হতে পারে।

২. আধ্যাত্মিক কারণ (যাদু-জ্বিনের প্রভাব):

যদি শুধুমাত্র কুরআন পড়ার সময় বা ইবাদতের সময় ঘুম আসে, আর সাধারণ কাজে ফুরফুরে থাকে, তাহলে জ্বিন বা যাদুর প্রভাব সন্দেহ করা যায়। হাদীসে উল্লেখ আছে, শয়তান মানুষকে ইবাদত থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। তবে নিশ্চিত হতে কোনো আলেমের মাধ্যমে রুকইয়া করানো বা নিজে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করতে হবে।

করণীয়:

১. আধ্যাত্মিক চিকিৎসা:

- প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সূরা ফালাক, সূরা নাস, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬) পড়ুন।

- সকাল-সন্ধ্যার যিকির করুন: "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম", "বিসমিল্লাহি ল্লাযি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুআস সামিউল আলিম"

(আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৮৮) পড়ে হিফজ শুরু করুন।

- নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ুন এবং দোয়া করুন: "আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি..." ইত্যাদি।

২. শারীরিক ও রুটিন সংশোধন:

- রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

- সকালে উঠে অজু করে দুই রাকাত সালাতুত তওবা পড়ুন।

- মাশকের আগে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।

- যদি চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, ডাক্তার দেখান।

৩. ঈমানি শক্তি বাড়ান:

- ইখলাসের সাথে কুরআন মুখস্থ করার নিয়ত করুন।

- শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয় চান এবং বিশ্বাস রাখুন যে আল্লাহ আপনার সহায়।

উপসংহার:

আপনার সমস্যাটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় কারণেই হতে পারে। উপরের পদ্ধতিগুলো আমল করলে ইনশাআল্লাহ উপকার হবে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা থাকে এবং অন্যান্য অস্বাভাবিকতা (যেমন স্বপ্নে ভয়, অলসতা ইত্যাদি) থাকে, তাহলে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের শরয়ী রুকইয়া করিয়ে নিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার হিফজকে বরকতময় করুন, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার কষ্ট দূর করুন। আমীন।

সূত্র:

- সূরা নাস (১১৪:৪-৫)

- সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২০৩৯)

- সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২১৭৪)

- আবু দাউদ (হাদীস নং ৫০৮৮)

- রুকইয়া ও যাদু চিকিৎসা সংক্রান্ত ফতোয়া: [ifatwa.info](https://ifatwa.info)

- আরও বিস্তারিত জন্য দেখুন: [darulifta-deoband.com](https://darulifta-deoband.com/en)



Model: deepseek-v4-flash | Token: 2844 | Input: 366 | Output: 2478 | Cost: $0.000780 | Cost BDT: ৳0.10